print

‘রাতে একা ঘুমাতে ভয় পেলেও খেলার মাঠে ভয় পাই না’

0

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী: বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওয়ান ডে -এর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্র্তুজা এখনও রাতে একা একা ঘুমাতে পারেন না। প্রতিদিন রাতে তার পাশে কাউকে না কাউকে থাকতে হবে। পরিবারের সঙ্গে থাকলে স্ত্রী পাশে থাকেন। তিনি না থাকলে দেশের বাইরে কিংবা খেলার জন্য বাইরে কোথাও গেলে সেখানে তার স্ত্রী না গেলে তার সঙ্গে কাউকে না কাউকে ঘুমাতে হবে। বিদেশে গেলে তখন কাউকে না কাউকে রুমে ডেকে নেন বলে জানান। তিনি বলেন, আসলে ছোট বেলা থেকেই আমার কখনই একা থাকা হয়নি। পরিবারের কারো না কারো সাথে ঘুমাতাম। বড় হলেও সেই অভ্যাস রয়ে গেছে। তাই এখনও আমি কোনদিন একা ঘুমাই না। একা ঘুমালে ঘুম আসে না। আমি ভয় পাই। নিউইয়র্কে ৯ আগস্ট জ্যাকসন হাইট্সের বেলাজিনোতে রাতে প্রবাসী বাংলাদেশেীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন। মাশরাফি সম্প্রতি নিউইয়র্কে এসেছেন। তিনি ইতোমধ্যে দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। শো টাইম মিউজিকের আলমগীর খান আলম নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জাকে মত বিনিময়ের সুযোগ করে দেন। সেখানে মাশরাফি তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়াও উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার ও ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধিদেরও প্রশ্নের উত্তর দেন। মাশরাফিকে কাছে পেয়ে তার ভক্তরা দারুণ উচ্ছসিত ছিলেন। অত্যন্ত ভদ্র, অমায়িক, লাজুক, শান্ত প্রকৃতির মাশরাফিকে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছেন নিউইয়র্কে। তাকে আবারও আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার প্রশংসা করে অনেকেই বলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় বড় অর্জন এসেছে তার হাত দিয়ে। মাশরাফিও তাদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি চেষ্টা করেছেন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে। নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি একটার বেশি প্রশ্ন মনে রাখতে পারেন না। এই জন্য অনুরোধ করেছেন একটি করে প্রশ্ন করার। কেউ কেউ দুটি তিনটি করে প্রশ্ন করার কারণে তিনি বার বার পরের প্রশ্নটি শুনে নিয়েছেন। এরপর উত্তর দিয়েছেন। তিনি ইংরেজীতে ভাল না বলে এটাও অনুরোধ করেছেন তাকে ইংরেজীতে প্রশ্ন না করে বাংলায় প্রশ্ন করার জন্য।
তাকে যখন ফের নিউইয়র্কে আমন্ত্রণ জানানো হয় তখন মাশরাফি বিন মর্র্তুজাও তার ভক্তদের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশে তার বাড়িতে যাওয়ার। এছাড়াও তিনি নিউইয়র্কে আসার প্রথম অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি বলতে গিয়ে বলেন, আমি এর আগে কখনো নিউইয়র্কে আসিনি। এবারই আমার প্রথম আসা। এসে ভাল লাগছে। আমি জ্যামাইকা আর জ্যাকসন হাইটসে গিয়েছি, সেখানে বাংলাদেশেীদের দেখে অনেক ভাল লেগেছে। মনে হয়েছে যেন বাংলাদেশেই আছি। সব মিলিয়ে অনুভূতিটা ভালই।

মাশরাফি বিন মর্র্তুজার পরিবার (স্ত্রী, পুত্র, কন্যা) বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছেন। তারা বেশ আনন্দেই সময় পার করছেন। মাশরাফি এরপর গত সোমবার ১০ আগষ্ট শো টাইমের একটি রিভার ক্রুজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মাশরাফির কাছে ভক্তদের বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন ছিল। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি ক্রিকেটার না হলে কি হতেন? তিনি বলেন, আমি ক্রিকেটার না হলে ডিফেন্সে জয়েন করতাম। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল ডিফেন্সে জয়েন করার। সেই হিসাবে আমি প্রস্তুতও ছিলাম মানসিকভাবে। ডিফেন্সে না গেলে পুলিশ হতাম। আমার মনে হতো একজন ডিফেন্স পারসন ও একজন পুলিশ একজন মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। যেটা একটি মানবিক কাজ। সেই কাজটি আমি করতে চেয়েছি। আমি প্রত্যেকটি মানুষকে খুব সম্মান করি। ডিপেন্স পারসনকে আরও বেশি সম্মান করি। তিনি বলেন, তা যদি না হতে পারতাম তাহলে একজন আড্ডাবাজ হিসাবে পরিচিত হতাম হয়তো। কারণ আমি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে অনেক পছন্দ করি। অনেক আড্ডা দিয়েছি।
মাশরাফি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি জ্যামাইকা ও জ্যাকসন হাইটসে গিয়েছি। বাংলাদেশের মতোই মনে হয়েছে। চা খেয়েছি। ভাল লেগেছে। তিনি বলেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি আরো ভাল করতে পারি। টুর্নামেন্ট শুরু হলে যাতে ভাল পারফরমেন্স করতে পারি। সেই সঙ্গে আপনারাও ভাল থাকবেন।
তিনি তার নড়াইল ফাউন্ডেশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি মনে করি একজন মানুষকে তার এলাকা থেকেই কাজটি শুরু করা দরকার। কারণ আমি নড়াইল থেকে এসেছি। সেখানে আমার জন্ম, বেড়ে উঠা। আমি এই জন্য মনে করেছি আমার সেখান থেকেই শুরু করা উচিত। সবাই যদি নিজ নিজ জেলা নিয়ে চিন্তা করেন ও শুরু করেন তাহলে তাদের এলাকাও সমৃদ্ধ হবে। আমি নড়াইল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাজ করে যাব।
অনুষ্ঠানে আগে ভাগেই আলমগীর খান আলম জানিয়ে দেন মাশরাফিকে কোন রাজনৈতিক প্রশ্ন করা যাবে না। এই কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা উঠেছিল মাশরাফি আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই বিষয়ে কোন কথা বলবেন না শর্ত দেওয়ার কারণেই তার ভক্তরা এই ব্যাপারে তার নিজ মুখ থেকে উত্তর জানতে পারলেন না। তার পরও তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনিতো নড়াইল ফাউন্ডেশন করেছেন। এর মাধ্যমেই সব সময় কাজ করতে চান নাকি খেলা থেকে অবসরের পরে এলাকাসাবাসীর জন্য ভিন্ন কোন পরিচয়ে কাজ করতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, আমি এলাকাবাসীর জন্য সব সময় কাজ করে যেতে চাই। আগামী দিনের কথা এখনই বলতে পারছি না । তবে আপাতত ভাবছি নড়াইল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাজ করে যাওয়ার।
মাশরাফি অনুষ্ঠানে যতক্ষণ বসেছিলেন তখনক্ষনই লজ্জা পাচ্ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে বসছিলেন না। চেয়ারটি অনেক বেশি বড় হওয়ার কারণেও তিনি ইতস্তত করছিলেন। বসার আগেই তিনি বলছিলেন , এত বড় চেয়ারে বসতে হবে?

প্রশ্ন ছিল, আপনি রাতে একা ঘুমাতে ভয় পান, আড্ডা দিতে পছন্দ করেন, এছাড়াও অনেক লাজুক প্রকৃতির। যিনি একটার বেশি দুটি প্রশ্ন মনে রাখতে পারেন না এই ধরণের বৈশিষ্ট্যের মাশরাফি, আজকের মাশরাফি ও খেলার মাঠে বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিক মাশরাফিকে মেলানো কঠিন। প্রশ্ন হলো আপনি কি খেলার মাঠেও ভয় পান? তিনি উত্তরে বলেন, আসলে রাতে ভয় পাই। ঘুমানোর সময়। আড্ডা দিতেও পছন্দ করি। কিন্তু আমি যখন খেলার মাঠে থাকি তখনতো আর ঘুমাই না। আর একাও থাকি না। অনেক মানুষ থাকেন। সেখানে ভয় পাওয়ার কোন ব্যাপার নেই। এছাড়াও আমি যখন খেলার মাঠে থাকি তখন কোন ভয়ই আমার মধ্যে কাজ করে না। বরং সাহস কাজ করে। মনে হয় জয় পেতে হবে। ভাল খেলতে হবে। টিমের সমন্বয়টাও যাতে ঠিকঠাক থাকে। সব দিক খেয়াল রাখতে হয়। আসলে ব্যক্তি আমি যতই ভয় পাই না কেন আমি মাঠে আমি অন্য রকম। সেখানে আমার খেলা ছাড়া আর কোন কিছুই চিন্তায় থাকে না। আমি রাতে একা ঘুমানো ছাড়া আর কোন কিছুতেই ভয় পাই না।
নতুন প্রজন্মের খেলোয়াররা কেমন করে ভাল করতে পারে এই ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ইয়ং জেনারেশনের মধ্যেও অনেক ভাল, ভাল খেলোয়ার হওয়ার গুন রয়েছে। তারাও হবে হয়তো। তাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি। এখনই ডিসএ্যাপোয়েন্টেড হওয়া যাবে না। কষ্ট করতে হবে তাদেরকে। সেই সঙ্গে ডিসিপ্লিন থাকতে হবে। এই জেনারেশন দেশ চেঞ্জ করতে পারে। তারা আগামী দিনে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে।
ভবিষ্যতে মাশরাফিকে টি-টুয়েন্টিতে পাওয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, টি টুয়েন্টি থেকে আমি বিদায় নিয়েছি। সেখানে আর খেলতে চাই না।
ভবিষ্যতে একজন মাশরাফি পাবো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাকিব, তামিম, মুশফিক তারা ১১/১২ বছর ক্রিকেট খেলছে। ভাল করছে। কিন্তু ইয়ং জেনারেশনের মধ্য থেকেও ভাল খেলোয়ার পাওয়া যাবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে। সময় না দিলে হবে না। কারণ কাজটি সহজ নয়। সময় লাগবে। আমার বিশ্বাস শাকিব, তামিমের চেয়েও বড় প্লেয়ার আগামী দিরে হতে পারে। এটা এমন নয় যে বাজার থেকে কেনা যাবে। তৈরি করতে হয়। এমন ভাবে খেলোয়ারদের গড়ে তুলতে হয় যাতে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। প্রপার সাপোর্ট দরকার।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের আফগানিস্তানের সঙ্গে জয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা জয় পেলে যেমন আনন্দ হয়, সেই রকমই হয়েছিল। তাদেরকে আরও সাপোর্ট দিতে হবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। যখন তারা খেলছিল, ওই সময়ে আমরা প্র্যাকটিসে ছিলাম। যখন তারা ভাল খেলছিল তখন আমরা প্র্যাকসিস বন্ধ করে এসে খেলা দেখছিলাম। তাদের জয়ে আমরা খুশী। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নারীকে এগিয়ে যাওয়া কত কঠিন এটা আপনারা দেখেছেন। তারা যখন জয়ী হয়েছে আমাদের অনেক আনন্দ হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সুযোগ সুবিধাগুলো দরকার সেগুলো আরও বেশি করে দিতে হবে।
তার কাছে একজন জানতে চান তার বাবা হওয়ার অনুভতি কেমন- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাবা হওয়ার অনুভূতি চমৎকার। সৃষ্টিকর্তার বড় উপহার সন্তানের বাবা হওয়া। আমার সন্তানদের জন্মও আমার কাছে ভিন্ন রকম আনন্দের। এটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। ছেলে মেয়েকে কি হিসাবে দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলে মেয়ে কে কী হবে এটা নির্ভর করবে তাদের উপর। আমার চাপিয়ে দেওয়ার কোন ব্যাপার নেই। যে যেটা পছন্দ করে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে। তারা বিরাট কিছু হোক এটা আমি চাই না। আমি চাই তারা একজন ভাল মানুষ হোক। মানুষের পাশে দাঁড়াক।
অবসরে যাওয়ার পর কী করবেন এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, রিটায়ারমেন্টের পরে কী করবো এটা এখনও ঠিক করিনি। এটা ঠিক করবো সময় মতো। তবে ইচ্ছে আছে অনেক কিছু করার। বিশেষ করে যারা ইয়ং স্টার আছে তাদের জন্য কিছু করবো। বাংলাদেশের জন্য যাতে তারা খেলতে পারে আরও বড় বড় পুরস্কার অর্জন করতে পারে সেই জন্য চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, ক্রিকেট নিয়ে কিছু করারও সেটা ইচ্ছে আছে।
তিনি বলেন, এরপরও আমি ভবিষ্যতের ব্যাপার বলতে পারবো না। কারণ মানুষ আগে ভাগে তার ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। তাই কি হবে সেটা এখনই বলতে পারবো না। কিন্তু তাই বলেতো ইচ্ছে থাকতে সমস্যা নেই। ইচ্ছে আছে।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। আমি সব সময় আশা করি বাংলাদেশ ভাল খেলবে। আমাদের দেশ অনেক সন্দুর। কীভাবে দেশটাকে উন্নয়নের দিকে আরও নেওয়া যেতে পারে এই জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও যাবে ইনশাল্লাহ। প্রত্যেকটি মানুষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টিম ভাল খেলেছে। প্রথম দিকে হয়ত তত ভাল করতে পারেনি। আসলে নতুন কোথাও গেলে প্রথমে অ্যাডজাস্ট করতে একটু সময় লাগে। কিন্তু পরে বেশ ভাল করেছে। তিনি বলেন, এখানেও অনেক মানুষ ক্রিকেট ভক্ত রয়েছে। ফ্লোরিডাতে প্রায় ১৫০০ মানুষ খেলা দেখতে গেছে। এটাও ভাল দিক। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে বলবো ভাল হয়েছে। যতখানি আ্যাবিলিটি আছে ততখানি হয়নি। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এটাই হচ্ছে কথা।
মাশরাফি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার ইচ্ছে আছে ২০১৯ এর বিশ্বকাপে খেলা। তারপরও বলা যায় না। ২০১১ সালে যখন বিশ্বকাপ হলো আমি ১০০ দিন আগেও জানতাম যে আমি খেলছি। কিন্তু মাত্র ৩০ দিন পর অর্থ্যাৎ ৭০ দিন আগে আমি জানলাম খেলতে পারছি না। তাই এবারও আমার ইচ্ছে আছে খেলার। বাকিটা সময় বলবে।
টি টুয়েন্টিতে খেলায় ফিরে যেতে অনেকেই তাকে অনুরোধ করেন, তিনি বলেন, আমি টি টুয়েন্টি থেকে রিটায়ার্ড করেছি। সেখানে আর খেলবো না। বাংলাদেশ সেখানে ভাল করছে। আরও ভাল করবে। আমি তাদের পাশে থাকবো।
মাশরাফি খেলার বাইরে অবসরে কী করেন জানতে চাইলে বলেন, আমি খেলার বাইরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি। আমি পরিবার ছাড়া থাকতে পারি না। এই কারণে খেলা না থাকলে বাইরে আমার তেমন বের হওয়া হয় না। বাসায়ই সময় কাটাই।
মাশরাফি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পৃথিবীতে সব কিছু কেনা যায়, ভালবাসা কেনা যায় না। এটা অর্জন করতে হয়। মানুষ আমাকে ভালবাসে এটা অবশ্যই আমার উপর ব্লেসিং। এখানে আপনারা যারা থাকেন তারা অনেক ব্যস্ত থাকেন। সারাদিন কাজ করেন। এরপরও ফ্লোরিডাতে ১৫০০ ক্রিকেট প্রেমী খেলা দেখতে গেছেন এটা অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকটে টিমের জন্য বড় একটি বিষয়।
মাশরাফি অরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, টি টুয়েন্টি ছেড়ে দিয়েছি। আর নয়। এখন বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ কত সাল নাগাদ বিশ্বকাপ জয় করতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে বলা যাচেছ না। আমাদের লক্ষ্য আছে। ২০১৯, ২০২৩, ২০২৭ও হতে পারে। কিন্তু দেখেন যারা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে তারা কিন্তু কাপটা জেতার জন্যই খেলে। কিন্তু পায় একদলই। এটা এই জন্য বললাম কোন দল চ্যাম্পিয়ান হবে এটা ভাল খেলার উপর যেমন নির্ভর করে তেমনি ভাগ্যের উপরও নির্ভর করে। নির্দিষ্ট সময়ে কার ভাগ্যটা ফেবার করছে সেটা খুব বড় বিষয়। এই জন্য বলতে পারছি না। তবে চেষ্টাতো করে যেতে হবে। সেটাই করা হচ্ছে।
সরকারের এবং ক্রিকেট বোর্ডের কোন উদাসীনতার কারণে মন খারাপ হয় কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই আমাদের ভালবাসে। আমাদেরকে সাপোর্ট দেয় প্রয়োজনীয় সহায়তা করে। তবে এটা ঠিক তাদের প্রত্যাশা থাকে যাতে আমরা ভাল খেলি। কখনো যদি প্রত্যাশা পূরণ না হয় তখন আপসেট হয়। আমরা হেরে গেলেও তারা আপসেট হয়। তবে সবাই চায় বাংলাদেশ ভাল করুক। এখানে আসলে কারো ভালবাসার কোন পার্থক্য করতে চাই না। মাশরাফি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আসলে খেলোয়ারদেরকে যথা সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রেস্ট নিতে হবে। রেস্ট না নিলে হবে না। কারণ একজন খেলোয়ারের সময় মতো রেস্ট প্রয়োজন রয়েছে। আমার যখন রেস্টের প্রয়োজন ছিল তখন রেস্ট নেওয়া হয়নি। এটা ঠিক হয়নি। তাই নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে খেলার পাশাপাশি রেস্টের প্রয়োজন আছে। রেস্ট নিতে হবে।
বিশ্বকাপ জেতা কতদূর এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিশ্বকাপ জিততে গেলে লাক লাগে। লাক ফেবার করতে হবে। অনেকেই সেমিতে গিয়েও ফাইনালে যেতে পারে না। সময়মতো যাদের লাক ফেবার করে তারাই জয়ী হয়। ২০২৩ ও ২০২৭ এ লক্ষ্য ধরা যেতে পারে।
তার বাবা মায়ের ইচ্ছে কী ছিল এমন এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, বাবা মা চাইতেন ভাল কিছু হই। খেলোয়ার হই সেটা হয়তো চাননি। আমি স্কুল ফাঁিক দিয়ে খেলতে যেতাম। আমি যখন খুলনাতে খেলতে যাই তখন থেকে বাবা খেলা পছন্দ করতে থাকেন। বাবা অগ্রহ দেখান। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি সন্তানের উচিত তার বাবা মায়ের কথা শোনা। কারণ বাবা -মা তার সন্তানের ভাল চান। তারা কখনো কোন সন্তানের খারাপ চান না, বাবা মায়ের কথা শুনলে ও সেই অনুযায়ী কাজ করলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ উজ্জল হবে।
মাশরাফি তার চরিত্রের একটি বিশেষ দিকও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি একবার যে সিদ্ধান্ত নেই সেখান থেকে আর ফিরে আসি না। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক চিন্তা করি। কিন্তু ফাইনাল ডিসিশনটা নিয়ে ফেলি আধঘন্টা আগে। আমি আধঘন্টা আগেও জানি না। ফাইনালী কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। কিন্তু সেটা নিয়ে ফেললে আর পরিবর্তন করি না। তবে পরে দেখি সিদ্ধান্তটা একদম ঠিক ছিল।
তিনি বলেন, টি টুয়েন্টি খেলাও আমি আধঘন্টার সিদ্ধান্তে ছেড়ে দিয়েছি। তাছাড়াও আমার বয়সও এখন টি টুয়েন্টি থেকে অনেক বেশি। ২৯ বছর চলছে। আমি চলে গেলে একটা প্লেস ফাঁকা হবে আরও একজন জায়গা পাবে সেটাও চিন্তা করেছি। আমার ছেড়ে দেওয়া জায়গায় একজন এসে ভাল করবে। সে আসবে তার সুযোগ হবে সেটাও ঠিক করেছি। রনি এসে ভাল করছে।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমাদের শুরুর সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এমনভাবে ছিল না এখন যেভাবে আছে। সোশ্যাল মিডিয়া একজন খেলোয়ারের উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। একটা খেলায় খারাপ করলে সোশ্যাল মিডিয়া যে চাপ তৈরি করে সেই চাপ সহ্য করা আসলেই কঠিন। কিন্তু সোশ্যাল মিডয়ার তাদেরকে মনে রাখতে হবে আসলে তাদের উপর মানসিক চাপ তৈরি না করে অবশ্যই সাপোর্ট দিতে হবে। ভাল কিছু করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here