১ অক্টোবর থেকে ইমিগ্র্যান্ট জাজদের ওপর নেমে আসছে কোটার খড়গ

528

মঈনুদ্দীন নাসের : ইমিগ্রেশন কোর্টে ব্যাকলগের জন্য ট্রাম্প অনুরক্ত কংগ্রেস প-িতরা নাম উচ্চারণ না করে প্রাক্তন প্রশাসন বা ওবামা প্রশাসনকে দোষরোপ করেছেন। তারা বলছেন, পূর্ব প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাঁধে কাগজপত্রবিহীন (বাকি অংশ ৩৬ পাতায়)
১ অক্টোবর থেকে ইমিগ্র্যান্ট জাজদের ওপর নেমে আসছে কোটার খড়গ
ইমিগ্র্যান্টদের এদেশ থেকে তাড়িত করতে বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছেন। বিচারকদের সঠিক প্রসিডিংয়ের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন অনেকটা অসম্ভব করে তুলেছে।
২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর ব্যাকলগ বেড়েছে। ২০১৮ সালের জুনে তা ৭৩৩, ৩০৫ মামলায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের প্রথম ৬ মাসে ইমিগ্রেশন কোর্ট মাত্র ৯২, ০০৯ মামলা নিষ্পত্তি করেছে। এই হারে ব্যাকলগ শেষ করতে নতুন কোনো গ্রেফতার না করলেও সময় লাগবে কমপক্ষে চার বছর। এই ব্যাকলগ বহিরাগতদের শুধু ডিপোটেশনই বন্ধ করবে না। বরং আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এর গ্রেফতারকৃতদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করে দেবে।
২০১০ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুসারে আইস মোট গ্রেফতার করেছে ৫,৩৭০,৮৪৯ (তিপান্ন লাখ সত্তর হাজার আটশত ঊনপঞ্চাশ) ইমিগ্র্যান্ট। অর্থাৎ ওবামা প্রশাসরে সময়। কিন্তু ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা রিপোর্টের নির্বাহী অফিস দেখিয়েছে এ সময় মাত্র ১,৫১৫,১৬৩ (পনের লাখ পনের হাজার একশত তেষট্টি) মামলা নিষ্পন্ন হয়েছে। তা শুধুমাত্র গ্রেফতারকৃতদের ২৮ শতাংশ।
আর তাই এ জন্য বলছে এই কাগজপত্রবিহীন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট সংখ্যা কমাতে একমাত্র উপায় হচ্ছে কোর্ট শুনানি না করেই তাদের ফেরত পাঠানো। ইতিমধ্যে এই ধরনের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে নোলান রেপাপোর্ট এর রিপোর্টে জানানো হয়েছে। লোনাল তিন বছর ধরে হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে থেকে নির্বাহী শাখার জন্য ইমিগ্রেশন ল’ এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করেছেন।
আর অন্য সূত্রে যে সব ইমিগ্র্যান্ট ডিপোর্ট করা যায় তা হলো ভিসা ওয়েভার কর্মসূচি (ভিসা সংক্রান্ত ভায়োলেশন মাপ) সংক্রান্ত শুনানি না করে ফেরত পাঠানো।
রজার আলগার্সী নামক আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইউরোপ থেকে ইমিগ্র্যান্ট বাড়ানোর জন্য এই ডিপোর্ট তরান্বিত করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে বাজফেড নিউজ রিপোর্টার হামেদ আল আজিজ এক রিপোর্টে জানিয়েছেন। সানফ্রান্সিসকো, আর্লিংটন ভার্জিনিয়া, মেমপিস এর ডালাসে সম্প্রতি বিচার করা এসিসটেন্ট চিফ ইমিগ্রেশন জাজেসদের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছে যাতে প্রতিদিন তারা অন্তত তিনটি যে সবের মেরিট আছে তেমন মামলার শুনানি সম্পন্ন করে। আগামী অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে এই তিনটি করে শুনানি শুরু করার এত্তেলা দিয়েছে এসিসটেন্ট চিফ ইমিগ্রেশন বিচারকের কার্যালয় থেকে ইমিগ্রেশন বিচারকদের প্রতি। এটর্নি জেনারেল জেফ সেশন এই খানে কোন ধরনের মামলায় এসাইলাম দেয়া হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
ইমিগ্রেশন রিভিউর নির্বাহী অফিসের একটি থেকে বলা হয় যে, এসিসটেন্ট চিফ জাজদের অফিস লিডারশীপ এই ধরনের নির্দেশনা পুশ করার জন্য নির্দেশ দেয়নি। ইমিগ্রেশন অ্যাডভোকেটরা বিশ্বাস করে যে, এই ধরনের ব্যবস্থা ইমিগ্রেন্টদের জন্য ভয়ানক সর্বনাশ হবে। মেরিট হিয়ারিংয়ের সময় ইমিগ্র্যান্টরা যাতে ডিপোর্টেশন ঠেকাতে পারে সে জন্য এভিডেন্স এবং সাক্ষীদের হাজির করতে হয়। এর আগে এবার জাস্টিস বিভাগ ঘোষণা করেছিল প্রতি বছর প্রতি জাজকে ৭০০ মামলা সম্পন্ন করতে হবে।
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের (ওয়াশিংটন থিংক ট্যাঙ্ক) সারা পিয়ার্স বলেন, এভাবে ৭০০ মামলা সম্পন্ন করার পর নতুন নির্দেশ অনুসারে তারও অতিরিক্ত মামলা নিষ্পন্ন করতে হলে কোর্ট ব্যবস্থার সমন্বিত পদ্ধতি হুমকির মুখে পড়ছে। পিয়ার্স বলেন, প্রতিটি এসাইলাম মামলার নিষ্পত্তি বহু ঘণ্টা সময় ব্যয় হতে পারে। কিন্তু তিনটি মামলা নিষ্পত্তির ম্যান্ডেট অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবর্জিত।
জেফরী চেইজ নামে প্রাক্তন এক ইমিগ্রেশন জাজ ও বর্তমানে ইমিগ্রেশন ল’য়ার বলেন, যদি কোনো জাজ চিন্তা করতে চায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তবে তা অনেক ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা সময় নিতে পারে। আবার অনেক জাজ বলতে পারে তাকে তার ছেলের টিউশন দিতে যেতে হবে। আর এতে করে দেখা যায় বিচারকরা অনেক ক্ষেত্রে চাকরি বাঁচাবে না আইনের প্রসেস ঠিক রাখবে এই দুয়ের মধ্যে একটাকে বেছে নিতে হয়।
ইমিগ্রেশন কোর্ট বিচারকরা ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কর্মকর্তা। তারা ফেডারেল কর্মকর্তা নয়। কিন্তু জেফ সেশন ডিপোর্টেশন মামলার ব্যাকলগ সারাতে মহা সোচ্চার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here