print

মিয়ানমারের অপপ্রচার: বাংলাদেশে জনসংখ্যা কমেছে পাঁচ কোটি!

811

মেহেদী হাসান : ‘আসল সত্য’ প্রকাশের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী শুধু ছবি নিয়েই জালিয়াতি করেনি, ডাহা মিথ্যাচার করেছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা নিয়েও। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিভাগ প্রকাশিত গ্রন্থে ছক আকারে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০১৭ সালের চেয়ে এ বছর প্রায় পাঁচ কোটি কমে গেছে। আর তারা মিয়ানমারে পাড়ি দিয়েছে- এমন ধারণা দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রকাশনায় একটি মনগড়া ছক দিয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়া-কমার হিসাব দেখানো হয়েছে। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১১ কোটি ৮৭ লাখ ছয় হাজার ৮৭১জন ছিল বলে উল্লেখ করে ২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৫, ২০১৬ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা ২ থেকে ১ শতাংশ হারে বেড়েছে বলে মিয়ানমার দাবি করেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫১ জন। কিন্তু ২০১৮ সালেই বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৪৯ জন। অর্থাৎ মিয়ানমারের সেই প্রকাশনা অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশে লোকসংখ্যা চার কোটি ৮৩ লাখ এক হাজার ৬০২ জন কমেছে।
মিয়ানমারের প্রকাশনায় ধারণা দেয়া হয়েছে, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশ ছেড়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গিয়ে অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত ৩০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, মিয়ানমার বাহিনীর প্রপাগান্ডা ইউনিটের ১১৭ পৃষ্ঠার গ্রন্থে প্রকাশিত আটটি ছবির মধ্যে তিনটিই ভুয়া। সেই ছবিগুলোর একটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার, যেটিকে মিয়ানমার বাহিনী বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ বলে দাবি করেছে। এ ছাড়া রুয়ান্ডার শরণার্থীদের তানজানিয়ামুখী ঢল এবং বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধভাবে নৌকায় করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ামুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুটি ছবিকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ বলে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে।
এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত ৩ সেপ্টেম্বর, সোমবার, তাদের প্রকাশনায় ভুল ছবি ব্যবহারের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ওই গ্রন্থের আটটি ছবির মধ্যে সাতটিই এরই মধ্যে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। রাখাইন থেকে অনেক দূরে মেইকতিলা শহরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাস হিসেবে দাবি করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে মেইকতিলা শহরের সহিংসতা ও জরুরি অবস্থা জারির সেই ভিডিও ইউটিউবে রয়েছে। সেই ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে ছবিটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক গ্রন্থে জুড়ে দিয়েছে মিয়ানমার বাহিনী।
আরেকটি ছবি যশোরের অভয়নগরে কৃষকদের চাষাবাদের। বাংলাদেশের কৃষি নিয়ে ইউটিউবের একটি ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তার রং পাল্টে মিয়ানমার বাহিনী তাদের গ্রন্থে লিখেছে- ব্রিটিশরা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এনে চাষাবাদ করায়।
মিয়ানমার বাহিনীর এসব অপপ্রচার নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর, রবিবার, বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্ন উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের এমন তৎপরতাকে ‘জঘণ্য’ বলে অভিহিত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here