print

অ্যাপেনডিসাইটিস চিকিৎসায় নতুন যুগ

0

ঠিকানা রিপোর্ট: অ্যাপেনডিসাইটিস (অভ্যন্তরের উপাঙ্গের) চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। অস্ত্রোপচার বা সার্জারির পরিবর্তে অ্যান্টিবায়োটিকসের সাহায্যে অ্যাপেনডিসাইটিস চিকিৎসার মাধ্যমে এই নব যুগের সূচনা হয়েছে বলে ২ অক্টোবর জানা গেছে। বিগত কয়েক দশক থেকে অ্যাপেনডিসাইটিস আক্রান্ত রোগীদের উপাঙ্গ বা আঁত ফেটে যাওয়ার আশঙ্কায় কিংবা অসহনীয় ব্যথার নিরসনে অনেকেই জরুরি সার্জারী বা অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ইমার্জেন্সী সার্জারী বা জরুরি অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করানো হচ্ছে এবং একই ফল পাওয়া যাচ্ছে।
ফিনল্যান্ডের গবেষকগণ এক গবেষণায় দেখতে পান যে অ্যাপেনডিসাইটিস রোগীদের জন্য যুক্তিযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও সার্জারি ছাড়াই একই ফল পাওয়া যায়। পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পেটের ডানদিকের ব্যথা নিয়ে হীথার ভ্যানডুসেন ২০১৬ সালে ওয়াশিংটন বিশ্ব বিদ্যালয়ের জরুরি বিভাগে হাজির হয়েছিলেন। চিকিৎসকগণ ভ্যানডুসেনের অস্ত্রোপচার না করে তাকে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দিয়েছিলেন। দেখা গেল যে তার ব্যথার উপশম হয়েছে। ভ্যানডুসেন বলেন, মূলত সার্জারির ভয়েই তিনি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা বাছাই করে নিয়েছিলেন। তিনি অন্যদেরও অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। আবার অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে চিকিৎসা করা রোগীদের উপর ৫ বছর পর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ দ্বিতীয়বার অ্যাপেনডিসাইটিস ব্যথায় আক্রান্ত হননি।
গবেষকগণ বলেন, দশকের পর দশক ধরে সমগ্র বিশ্বে অ্যাপেনডিসাইটিস ব্যথা উপশমে সাধারণত জরুরি ভিত্তিতে সার্জারী বা অস্ত্রোপচার করা হয়ে আসছে। আঁত বা উপাঙ্গ ফেটে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এহেন আশঙ্কা বশে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে প্রদাহযুক্ত আঁত বা অ্যাপেনডিসাইটিস চিকিৎসায় সার্জারির পরিবর্তে অ্যান্টিাবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং একই ধরনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বিশেষত সিটি স্ক্যানের সাহায্যে অ্যাপেনডিসাইটিস ফাটার আশঙ্কা রয়েছে কি-না কিংবা রোগীর দেহে অস্ত্রোপচার ছাড়া তাকে নিরাপদে চিকিৎসা করা যাবে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
গবেষণা ফলাফল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুই-তৃতীয়াংশ অ্যাপেনডিসাইটিস রোগীরই ফাটার আশঙ্কা থাকেনা এবং তাদেরকে ড্রাগের সাহায্যে নিরাপদে চিকিৎসা করা যায়। প্রধান গবেষক এবং ফিনল্যান্ডের টার্কু ইউনিভার্সিটি হসপিটালের সার্জন ডঃ পাউলিনা বলেন, সার্জারির পরিবর্তে অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতার দাবিদার এবং নিরাপদও বটে।
অ্যাপেনডিসাইটিস রোগীদের সার্জারির পরিবর্তে ড্রাগের সাহায্যে চিকিৎসার এবং এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে নিশ্চিত ফলাফলের বিষয়টি মিডিয়া গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছে। গবেষণায় আর দেখা গেছে যে অ্যাপেনডিসাইটিস আক্রান্ত কিছু সংখ্যক ছেলে-মেয়ের ক্ষেত্রেও ড্রাগ বিশেষ সুফল দিয়েছে।
দ্য জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর জার্নালের এডিটর বলেন, অ্যাপেনডিসাইটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে অ্যাপেনডিসাইটিস অপসারণ সর্বাপেক্ষা সাধারণ পদ্ধতি হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে সার্জারি। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ অ্যাপেনডিসাইটিস ইমার্জেন্সী সার্জারি হয়ে থাকে বলে সালমিনেন জানান।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৫০০ প্রাপ্ত বয়স্ক ফিনিসের উপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছিল এবং ভয়াবহ রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যাট স্ক্যানও করা হয়েছিল। এদের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যককে ড্রাগের সাহায্যে চিকিৎসা করা হয় এবং বাকি অর্ধেকের সার্জারি করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে, চিকিৎসা নেয়ার ৫ বছরের মধ্যে সার্জারি করার পর ১০০ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। আর এদের বেশিরভাগেরই ১ বছরের মধ্যে আবার অ্যাপেনডিসাইটিস হয়েছে সন্দেহবশে সাজারি করা হয়েছিল। আর মৃত ৭ জনের অ্যাপেনডিসাইটিস হয়নি এবং তাদের সার্জারিরও দরকার হয়নি। গবেষকগণ বলেন, এ ফলাফল থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হচ্ছে যে অ্যাপেনডিসাইটিস চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ৬৪% সফল। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা সার্জন ডঃ গিয়ানা ডেভিডসন উল্লেখিত ফলাফলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here