print

শ্যাম রাখি কি কুল রাখি অবস্থা! বৈধ অভিবাসীদের সামনেও সঙ্কট

24

এম. এস. হক : নিউ ইয়র্ক সিটির বর্তমান ৭৫ হাজার এবং নিকট ভবিষ্যতে আর কমপক্ষে ৪ লাখ বৈধ অভিবাসীসহ সমগ্র আমেরিকায় লাখ লাখ সম্ভবত কয়েক কোটি মধ্যম ও নিম্ন আয়ের বৈধ অভিবাসীর বর্তমানে শ্যাম রাখি কি কুল রাখি দশা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ব্যয় সাশ্রয় এবং বৈধ অভিবাসীদের সেলফ সাফিসিয়েন্সী ( স্বয়ং সম্পূর্ণতা) অর্জনে উদ্বুদ্ধ করার মানসে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পাবলিক চার্জ রুল চেঞ্জের (সর্বসাধারণের বিরুদ্ধে আনীত নীতিমালার পরিবর্তনের) ফলে মধ্যম এবং নিম্ন আয়ের বৈধ অভিবাসীদের এমনতর উভয় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে।
মূলত বিশ্ব অভিবাসীর দেশ হিসেবে খ্যাত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র দিনে দিনে অভিবাসী বিদ্বেষী হয়ে উঠছে। বিশেষত অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিবাসন আইন সংস্কারের নামে একের পর শাণিত খড়গ ঝুলিয়ে দিচ্ছেন অভিবাসীদের ঘাড়ের উপর। সর্বশেষ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পাবলিক চার্জ রুল চেঞ্জের (সর্বসাধারণের বিরুদ্ধে আনীত নীতিমালার পরিবর্তনের) ফলে নিউ ইয়র্ক সিটির পৌণে ৫ লাখসহ সমগ্র আমেরিকায় কমপক্ষে কয়েক কোটি বৈধ অভিবাসী বড় ধরনের দোটানায় পড়বেন।
নিউ ইয়র্ক সিটি ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স কমিশনার বিটা মস্তফী ১৪ অক্টোবর বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা প্রশাসন প্রধান হিসেবে আমি মনে করি যারা ফুড স্টাম্পের মত বেনিফিটের (উপকারিতা) যোগ্য এবং বেনিফিট পাওয়ার উপযোগী এমন ধরনের ইমিগ্র্যান্টস বিশেষত স্বল্প ও মধ্য আয়ের ইমিগ্র্যান্টদের উপর এটি বড় ধরনের আঘাত। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অভিবাসীদের ফুড স্টাম্প, হেলথকেয়ার (স্বাস্থ্য পরিষেবা) ও হাউজিং (আবাসন) কিংবা স্থায়িভাবে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এই দুটোর মধ্যে যে কোন একটিকে বাছাই করতে বাধ্য করা হবে। তেমন পরিস্থিতিতে স্বল্প এবং মধ্যম আয়ের বৈধ অভিবাসীদের দুর্ভোগ চরমে উঠবে। কারণ আমেরিকাতে স্বল্প এবং মধ্যম আয়ের বৈধ অভিবাসীগণ জীবনযাত্রার অপরিহার্য ব্যয় নির্বাহের প্রশ্নে প্রায়শ উপরোল্লেখিত সাহায্য-সহযোগিতার উপর নির্ভর করে থাকেন। সেই অপরিহার্য সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হলে তাদের দুর্ভোগ সর্বকালের মাত্রা ছেড়ে যাবে।
ব্যয় সাশ্রয় পদক্ষেপ এবং স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট যে সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে তা প্রকৃত প্রস্তাবে কোটি কোটি বৈধ অভিবাসীর জন্য মরণ খড়গ তুল্য। কমিশনার মস্তফি বলেন, উক্ত পরিবর্তন কার্যত লাখ লাখ বৈধ অভিবাসীকে একান্ত অপরিহার্য পরিষেবা লাভ থেকে ভয়ানকভাবে বঞ্চিত করবে। কতিপয় ক্যাটাগরীর অভিবাসী যখন গ্রীনকার্ডের জন্য আবেদন করবে তখন প্রস্তাবটি স্ন্যাপ ফুড স্টাম্পসহ কিছুসংখ্যক পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্সের (সাহায্যের) পরিধিকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়ে তাদের আবেদন নাকচের উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করবে। তবে বাস্তুহারা, অ্যাসাইলাম মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তিবর্গ কিংবা যারা ইতোমধ্যে বৈধভাবে পারমেনেন্ট স্ট্যাটাস বা গ্রীনকার্ড পেয়ে গেছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনটি প্রযোজ্য হবেনা বলে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আইনটি কার্যকর করা হলে এ মুহূর্তে সিটিতে বসবাসকারী ৭৫ হাজার ইমিগ্র্যান্ট যাদের ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস আছে এবং যারা সোস্যাল সার্ভিস বেনিফিটের উপযোগী তাদেরকে অবশ্যই বাধ্য করা হবে সোস্যাল সেইফটী নেটওয়ার্ক কিংবা পারমেনেন্ট রেসিডেন্সী বা গ্রীনকার্ডের মধ্যকার দুটির মধ্যে যে কোন একটিকে বাছাই করতে। সিটির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয় যে বর্তমানে গ্রীনকার্ড বা পারমেন্টে রেসিডেন্সীর জন্য অপেক্ষমান ৭৫ হাজার অভিবাসীর মধ্যে মূলত উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই সোস্যাল সার্ভিসের জন্য মতামত প্রকাশ করেন নি।
প্রস্তাবিত আইনটির চাহিদা আরও বাড়তে পারে এবং বয়সঅতিক্রমের ঝুঁকি, অসুস্থ হওয়া না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা, পারিবারিক আকার-আকৃতি ও আয়ের লেভেল ইত্যাদি প্রশ্নে কোন ব্যক্তির গ্রীন কার্ডের দরখাস্ত বাতিল হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও নিউ ইয়র্ক সিটিতে এমন ৪ লাখ ইমিগ্র্যান্ট রয়েছে যারা হয়ত বা একদিন গ্রীনকার্ডের যোগ্যতা অর্জন করবেন। নতুনভাবে আরোপিত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা গ্রীনকার্ডের জন্য আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যাওয়ার পুরোপুরি আশঙ্কা রয়েছে। মস্তফি বলেন, সর্বমোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার সিটিবাসী যারা নিকট ভবিষ্যতে বা আস্থাসহকারে গ্রীনকার্ডের জন্য আবেদন জানাতে পারত কিংবা গ্রীনকার্ড পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারের প্রত্যাশা করতে পারত প্রস্তাবিত নীলনকশার বেনিফিট যোগ্যতা এবং বাড়তি বিশ্লেষণের শর্তাবলীর হেরফেওে তাদের অযোগ্য হওয়ার পুরোপুরি আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে নাগরিক নন এমন ২ লাখ ২০ হাজার সিটি বাসিন্দা বৈধভাবে স্ন্যাপ ফুড স্টাম্প, ক্যাশ অ্যাসিস্ট্যান্স কিংবা উভয় ধরনের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। অপর ৫৪ হাজার ইমিগ্র্যান্ট আইনানুগভাবে সাপ্লিমেন্ট সিকিউরিটি ইনকাম বা সাপ্লিমেন্ট সিকিউরিটি ইনকাম খাতে দ্য স্টেট সাপ্লিমেন্টাল পেয়ে থাকে। হিউম্যান রিসোর্সেস কমিশনার স্টিভ ব্যাঙ্কস বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে বেনিফিট গ্রহণ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বিঘ্নিত হবে না এমন ধরনের লোকসহ সিটির ২০% জনগণ তাদের বেনিফিট পরিত্যাগ করবেন। ব্যাঙ্কস বলেন, এর ফলে স্ন্যাপ, নগদ সাহায্য, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম এবং স্টেট সাপ্লিমেন্ট বাবত ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সিটিকে দেয়া বরাদ্দ থেকে ২৩৫ মিলিয়ন ডলার বাদ পড়বে। ব্যাঙ্ক আরও বলেন, ফুড স্টাম্প বাবত ব্যয় হওয়া প্রতিটি ডলার মূলত ১.৭৯ ডলারের আর্থিক কর্মকান্ড সৃষ্টি করে বিধায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের খাতে আরও ১৮৫ ডলার বাড়তি ক্ষতি হবে।
ব্যাঙ্কস এবং মস্তফি উভয়ে জোর দিয়ে বলেন, এখনও আইনটি কার্যকর করা হয়নি। আর আইনটি কার্যকর করা হলে তার কার্যকারিতা অতীতের উপর প্রভাব ফেলবে এবং তেমন পরিস্থিতিতে অভিবাসীরা বেনিফিট উড্র করতে পারবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here