print

এসএ গেমসের বাজেট ৩৭ কোটি টাকা

0

স্পোর্টস রিপোর্ট : ‘এটা তো এমন না যে, সুইচ টিপলেই পদক এসে হাজির হবে। এটা ছেলের হাতের মোয়াও নয়। বসে বসে স্বপ্ন দেখলেও পদক আসবে না। পদক পেতে হলে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন। দীর্ঘ পরিক্রমায় কাজ করার পরই হয়তো দু-একটি পদকের দেখা মিলতে পারে।’ গত ১৭ অক্টোবর হ্যান্ডবল ফেডারেশনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এভাবেই কথাগুলো বলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছিল শুটিং, আরচারি ও হকি ডিসিপ্লিনে। যুব হকি দল ভালো পারফরম করে অষ্টম স্থান অধিকার করে। আরচারিও মিক্সড ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠে। হতাশ করেছে শুটিং। অথচ এই ডিসিপ্লিনটিই সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বিওএ থেকে। অলিম্পিকের মতো আসরে যাওয়ার বাছাইপর্ব নিয়ে মিকু বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে কাজগুলো ফেডারেশনের। তারা যে প্রক্রিয়ায় বাছাই করে তা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। অলিম্পিকের কাজ হলো বিদেশে যাওয়ার কাগজপত্র তৈরি করে দেয়া কিংবা তাদের সহযোগিতা করা। ফেডারেশনগুলো যেভাবে বাছাই করবে আমরা সেভাবেই তো পাঠাব। এবার তারা যদি তাদের ডিসিপ্লিনের প্রতি স্বচ্ছতা দেখাতে না পারেন তাহলে বিওএ কী করবে। আমরা তো তাদের বাছাইয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। অলিম্পিকের মতো আসরে রেজাল্ট করা চাট্টিখানি কথা নয়। আমাদের সার্থকতা হলো বিওএ’র মাধ্যমে তারা যেতে পেরেছে এবং অলিম্পিকের মতো আসরে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে।’

এ দিকে ১৩তম এসএ গেমসের তারিখ নিয়ে জল ঘোলাই হচ্ছে। সময় নির্দিষ্ট করতে পারছে না নেপাল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। আগামী বছর মার্চে করার কথা থাকলেও সেটি এখন অনিশ্চিত। কবে নাগাদ হবে তা-ও নির্দিষ্ট নয়। তবে মিকু মনে করছেন আগামী বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে হতে পারে। যদিও এটি অনুমান। সামনের সপ্তাহে (২৫ অক্টোবর) একটি সভা আছে। সেখানে হয়তো তারিখ ঠিক হতে পারে। হাতে লম্বা সময় পাওয়া গেলেও বিওএ প্র্যাকটিসের জন্য কোনো ফেডারেশনকে বলতেও পারছে না। মূল কারণ অর্থ। এসএ গেমসের জন্য বিওএ বাজেট দিয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। অথচ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নাকি দুই কোটি টাকা ছাড় দিতে রাজি হয়েছে।

তাতেই যত আপত্তি উপ-মহাসচিব মিকুর। তিনি মন্ত্রণালয়কে কী বলবেন তা যেন বুঝতে পারছেন না। কিছুটা ক্ষোভের সাথেই বলেন, ‘বিওএ’র যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। এশিয়ান গেমসের এক বছর আগে বাজেট দিয়েও টাকা পেয়েছি এক বছর পর। তা-ও চার ভাগের এক ভাগ। বিওএ নিজের টাকা খরচ করে ডিসিপ্লিনগুলোর ক্যাম্প করিয়েছে। সময়মতো অর্থ না পাওয়া না গেলে এটি সম্মানের জন্যও হানিকারক। এসএ গেমসের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় থাকলেও অর্থ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ফেডারেশনগুলোকে ক্যাম্প শুরুর কথা বলা যাবে না। তবে এটি ঠিক যে, এখন থেকেই যদি আমরা ক্যাম্প করাতে পারতাম তাহলে ফলাফল অনেক ভালো হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here