print

বিশ্বমঞ্চে মেয়ে বক্সার

0

স্পোর্টস রিপোর্ট : এখনো চোখ বন্ধ করলেই শামিমা আক্তার সেই লড়াইয়ের সব স্মৃতি মনে করতে পারেন। প্রতিটি মুভমেন্ট, প্রতিটি পাঞ্চ। সেদিন অসহায় আত্মসমর্পণ ছিল তার। তা হবে না কেন। প্রতিপক্ষে যে মেরিকম। যে ভারতীয় তারকার গল্প শুনে শুনে বক্সিংয়ের পাঠ নেওয়া, তার সামনে এসএ গেমসের ওই লড়াইয়ে নেমেই তো অভিভূত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের কিশোরী। ম্যাচের ফলের কথা কে মাথায় আনে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও সে আশা করেননি। শামিমা বাংলাদেশে মেয়েদের বক্সিং শুরুর সময়ের একজন। সময়টাই তো মাত্র বছর পাঁচেকের। ২০১০ সালে ঢাকায় যখন এসএ গেমস হয়, আব্দুর রহিম, জুয়েল আহমেদরা যখন গলায় সোনার পদক ঝোলানতখনো এই অঙ্গনে পা পড়েনি বাংলাদেশের মেয়েদের। সেই শামিমারা পরের এসএ গেমস হয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে নামার অপেক্ষায়। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে মেয়েদের দশম বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। শামিমাসহ বাংলাদেশের তিন বক্সার অংশ নেবেন সেখানে। এসএ গেমসের মতোই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপেও এই প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ আরেকটি ‘প্রথমে’র সামনে দাঁড়িয়ে শামিমারা। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তিন সোনা জেতা যশোরের এই বক্সারের কণ্ঠে এখনই সেই রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে, ‘এসএ গেমসের পর আর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ হয়নি আমাদের। এবার সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি আমরা। জানি অনেক কঠিন হবে ওখানে লড়াইটা, কিন্তু আমরা ভয় পাই না।’

শিলংয়ে এসএ গেমসের মঞ্চে মেরিকমের বিপক্ষে সেই লড়াইটাই নাকি এখন তার প্রেরণা, ‘পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে লড়েছিলাম। সত্যি বলতে তখনো আমি ভয় পাইনি। শুধু তার গতি আর স্কিল বোঝার চেষ্টা করছিলাম। এখন জানি যে বিশ্বসেরাদের বিপক্ষে লড়তে ফুটওয়ার্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে এই জায়গাটায় আমি উন্নতির চেষ্টা করেছি। আশা করি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও তেমন বড় কোনো বক্সারের মুখোমুখি হলে এবার আমি আরো ভালো লড়াই করব।’ লড়াই করা মূলমন্ত্র অনিকা ইসলামেরও। গত তিনটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তার দুটি সোনা। গত এসএ গেমসের ক্যাম্পে থেকেও ভারতে যাওয়া হয়নি চোটের কারণে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেই আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার, ‘ভয় পাই না বলেই এখনো খেলাটায় আছি। মার খেয়ে খেয়েই তো শিখেছি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ভয় পাব না। হারব কিন্তু লড়াই করে হারব।’ বিকেএসপির ফারজানার এখনো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেই খেলা হয়নি। বিশ্বকাপে তার প্রতিনিধিত্ব একটু বাড়াবাড়িই মনে হতে পারে। কোচ কাজী শাহাদাত হোসেন জানালেন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই মেয়েদের এই আসরে অংশ নেওয়া, ‘ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক চাইছেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে। ছেলেরা কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডে খেলে এলো। এবারের মেয়েদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন দল হিসেবেই আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতেই হবে এই আসরটা, আমরাও প্রস্তাবটা তাই লুফে নিয়েছি।’ প্রায় এক মাস ধরে এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ঘাম ঝরাচ্ছেন শামিমা, আনিকারা। তাদের এই অভিজ্ঞতা হয়তো আগামী এসএ গেমসেই মেয়েদের দলটাকে আরো শক্তিশালী করবে। গেমসের জন্য এরই মধ্যে দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে ফেডারেশন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সবুজ সংকেত পেলে হয়তো প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যাবে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে শামিমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল আগেভাগেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here