print

মাইক্রো থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

0

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ-কক্সবাজার হয়ে ইয়াবা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ইয়াবার চালান আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ওঁৎ পেতে বসে আছে অভিযান পরিচালনার জন্য। র‌্যাব সেভেন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিসিক এলাকায় একটি মাইক্রোবাস আটক করে র‌্যাব সেভেনের একটি টিম। মাইক্রোতে (ঢাকা মেট্রো চ-১১-৯৩০৫) তল্লাশি করে গাড়ির সিলিংয়ের ভেতর থেকে সুকৌশলে রাখা ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে টেকনাফের জাহালিয়া পাড়ার মৃত হাসিবুর রহমানের ছেলে মো. জোবায়ের প্রকাশ জোহার, উখিয়া এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন ও মিয়ানমার নাগরিক সৈয়দুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাতে বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ সংলগ্ন নবাবখান এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবাবখান মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি বিশেষ চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়। ট্রাকচালক মো. আমিনুল ইসলাম ও হেলপার মাছফুহুর ইসলাম প্রকাশ স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৩৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ উক্ত ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-১১৫১) জব্দ করা হয়।
আসামিদের আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ পণ্য পরিবহনের আড়ালে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে। উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য পৌনে দুই কোটি টাকা। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে ৭টায় নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন মেরিনার্স রোডের পুরাতন ফিশারিঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এই রাস্তার মাথায় ট্রাফিক পোস্টের সামনে অভিযান পরিচালনা করে একটি কাভার্ড ভ্যান (রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৩৪৩) এ তল্লাশি করা হয়। বিশেষ কৌশলে ট্রাকের বডির এক্সেলে বাক্স বানিয়ে ৫০ হাজার পিস ট্যাবলেট লুকানো হয়েছিল। এসব ইয়াবার দাম প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই ঘটনায় ট্রাকের হেলপার ও ইয়াবা পাচারকারীসহ ২ জনকে আটক করা হয়। আসামিদের গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলোÑ কক্সবাজারের রামু থানাধীন মলপাড়ার সুজিত কোম্পানির বাড়ির অজিত দাশের ছেলে সুমন দাশকে আটক করা হয়েছে। আবার একই অভিযানে পুলিশ ভোলা জেলার দৌলত খাঁ থানাধীন চর খলিফাপাড়ার পশু হাসপাতাল সংলগ্ন মিজি বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে মোরশেদকে আটক করেছে।
এদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আটককৃত এই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী পলাতক রয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সাবরাং ইউনিয়নের ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দেলু ও কাভার্ডভ্যান চালক বাঁশখালীর কালাম। এই দুজনকে আটক করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো পলাতক আসামিদ্বয়ের সহায়তা গাড়ির পেছনে বডির ভেতরে এক্সেলের ডান এবং বামে বিশেষ কায়দায় বানানো বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিল। কক্সবাজার থেকে কম দামে ক্রয় করে বেশি দামে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে বিক্রি করার উদ্দেশে পরিবহন করছিল বলে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে।
এ দিকে র‌্যাব সেভেনের ইন্টেলিজেন্স টিম জানতে পারে, গত ৬ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন টেকনাফ পৌরসভা এলাকার অলিয়াবাদ গ্রামে কয়েক মাদক কারবারি তাদের বাসায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট মজুদ করেছে। ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় করে তারা ইতোমধ্যে কোটিপাতি বনে গেছে। গত ১৪ অক্টোবর সকাল পৌনে ৯টায়, র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন গোদার বিল হোসাইন বাড়ির সৈয়দ আলমকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তার শয়নকক্ষে থাকা খাটের নিচে লুকানো অবস্থায় প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৮৩ হাজার ৬০০ ইয়াবা উদ্ধার করেছে অভিযান টিম। এসবের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here