print

হার্ভার্ডে ভর্তি নিয়ে এশিয়ান ও শ্বেতাঙ্গদের মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন

0

মঈনুদ্দীন নাসের : হার্ভার্ড আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভর্তি নিয়ে কেলেঙ্কারি এখন কোর্টে গড়িয়েছে। এখন এশিয়ান আমেরিকানদের সাথে একটি শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলদের মধ্যে গড়ে উঠেছে মোর্চা। আর এ মোর্চা হার্ভার্ডে ভর্তি করতে এফারমেটিভ বা হ্যাঁ বোধক একশনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ান আমেরিকানদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। আমাদের লোকজন তাদের কঠোর পরিশ্রমে আয় করা অর্থ ব্যয় করে থাকে কোচিংয়ের পেছনে। কোচিং সেন্টারগুলো ছাত্রদের স্পেশাল স্কুলে ভর্তি করে দিতে পারলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। তাদের কোন কোচিং সেন্টার থেকে কী বলে দেয়া হয়- তারা স্পেশাল স্কুল থেকে বেরিয়ে কোথায় যাবে। আইভি লীগের কলেজগুলোতে এডমিশন কি তাদের হবে? তারা কি কোনো ভালো কলেজে যেতে পারবে? তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে? এমনও অনেকে আছেন যারা বছরের পর বছর কলেজে অধ্যয়ন করে উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। প্রশ্ন জাগে স্পেশাল স্কুলে ভর্তি কি জরুরি না হাইয়ার এডুকেশনের জন্য কোন ভালো কলেজে যাওয়া জরুরি। বিষয়টি নিয়ে হার্ভার্র্ড এর ভর্তির বিষয়ে মামলা নতুন করে ভাববার সুযোগ এনে দিয়েছে।
২০১২ সালে মাইকেল ওয়াং নামে এক সিনিয়র জেমস লোগান হাই স্কুল থেকে পাস করে বেরিয়েছিল। তার আশা ছিল যে, সে অনেক কিছু শিখেছে যা আইভি লীগ কলেজে যেমন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্টানফোর্ড, পিস্টনে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তার জিপিএ ছিল ৪.৬৭। সে যে শুধু বইপোকা ছিল তাই না। মাইকেল ওয়াং বক্তৃতা দিত, বিতর্ক করতো। ম্যাথ ক্লাস প্রতিষ্ঠা করে তার স্কুলে। সে পিয়ানো বাজাতো এবং সানফ্রানসিসকো অপেরার সাথে বাজিয়েছে কোরাস। বারাক ওবামার প্রথম উদ্বোধনীতে বাজিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী বসন্তে মাইকেল ওয়াং সকল আইভি লীগ কলেজে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়। সে পেনসিলভানিয়া ছাড়া সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে। হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়ায় তাকে ওয়েট লিস্টে রাখা হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে নাকচ করা হয়। তাতে সে ভেঙে পড়ে। তারপর সে ভাবতে থাকে সকল প্রতিবন্ধকতা নিয়ে। তার ক্লাসমেটদের মধ্যে অনেকেই এসব কলেজে চান্স পেয়েছে যাদের ক্রেডেন্সিয়াল তার চেয়ে খারাপ। কিন্তু তারা হিসপ্যানিক ও আফ্রিকান আমেরিকান। প্রশ্ন হচ্ছে তাকে কি বাদ দেয়া হয়েছে কারণ সে একজন এশিয়ান ছাত্র?
ওয়াংকে সব সময় বলা হয় এশিয়ান ছাত্ররা যে কোন কারো চেয়ে অনেক ভালো স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে চলে। তার পিতা তাকে সব সময় বলতো সে যদি কোন হার্ভার্ড স্কুলে যেতে চায় তাহলে অন্য যে কোন এশিয়ান ছাত্র থেকে তাকে এগিয়ে থাকতে হবে। হাই স্কুলে তার এশিয়ান বন্ধুরা বলতো, এশিয়ান হওয়ার কারণে তাদের ভর্তি হওয়া কঠিন হবে। ওয়াং মিশ্র এশিয়ান ও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান বন্ধুদের জানতো। যদিও তারা অন্যান্য ভালো ছাত্রদের চেয়ে নিচু স্থানে আছে।
প্রিন্সটন রিভিউতে অতীতে এশিয়ানদের উপদেশ ছিল তাদের সাংস্কৃতিক আইডেন্টিটি বা সাংস্কৃতিক পরিচয় যাতে গোপন রাখার প্রয়াস নেয়া হয়। এশিয়ান এডভানটেজ এর মতো এডমিশন কাউন্সিলর সংগঠনসমূহ কৌশল বাতলিয়ে দিত। তাদের সিলেবাস বহির্ভূত কাজের। তাদের বলতো পিয়ানো ও টেনিস তেমন না উল্লেখ করতে। নিউ ইয়র্ক সিটির আইভি কোচেরা বলতো তাদের আবেদনে যেন তেমন এশিয়ান এশিয়ান মনে না হয়।
কিন্তু ওয়াং এসব বিষয় নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে এগুলো প্রতিবন্ধক হবে কেন? আমি কে তা বলতে কেন একজন গর্বিত হবে না? সান ফ্রান্সিসকোতে সে প্যারালিগ্যাল হিসেবে কাজ করে। তার অফিস ফিনান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে যা চায়না টাউনের বর্ডারে অবস্থিত।
দি নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনে লেখা হয়, ২০১৩ সালে ওয়াং তার পরিবারের বন্ধুদের সাথে আলাপ করে। জুন মাসে সে ইয়েল, স্টানফোর্ড ও প্রিন্সটন এর বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ এনে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অফিস ফর সিভিল রাইট ও আবেদন করে। সে হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া অন্তর্ভুক্ত করেনি। কারণ তখনও সে এই দুই কলেজে ওয়েট লিস্টে ছিল। এরপর ওয়াং রক্ষণশীল একটি ভিস্ট এডওয়ার্ড ব¬াম এর সাথে কথা বলে। ব্লাম সারা জীবন বর্নবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে। ব্লাম দুর্বলতাকে সোজা-সাপটা দেখিয়ে দিতে পারঙ্গম। তারা দু’জন টেলিফোনে আলাপ করে। তারা একসাথে কাজের অঙ্গীকারও করে। ব্লাম এর একটা নন প্রফিট সংগঠন আছে প্রজেক্ট অন ফেয়ার রিপ্রেজেন্টেশন। সে আবিগেইল ফিসার নামে এক শ্বেতাঙ্গ ছাত্রকে নিয়ে কাজ করছিল। ২০০৮ সালে সে অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়। স্কুলে ভালো রেজাল্ট ছাড়াও কলেজে জাতি ও পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হয়। ফিসার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। এই মর্মে মামলা হয় যে, এ ব্যবস্থা অসাংবিধানিক। ব্লাম ফিসারের আইন টিমকে অর্থ যোগান দেয়, অনেকেই সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে ফিসারের বিরুদ্ধে রায় দেয়। এরপর ব্লাম ও অন্যান্য অ্যাকটিভিস্টরা ওয়াং এর অভিযোগকে একটা বর্ণনা দেয়। এশিয়ানরা কলেজ এডমিশান প্রসেসে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এফারমেটিভ একশনের প্রাথমিক বেনিফিশিয়ারি আফ্রিকান আমেরিকান ও হিসপ্যানিকরা।
ওয়াং যেভাবে এই প্রসেস সম্পর্কে ব্যবস্থা নিয়েছে তা অনেকগুলো সূত্রের সূচনা করে তারা তা সিভিল রাইটস হিস্টোরির ইতিহাসের ধারা পাল্টে দিতে পারে। ওয়াং উইলিয়াম কলেজে ভর্তি হয়। কলেজ অব এডুকেশন তার সাক্ষাৎকার নেন। ওয়াং বলেন যে, তার আইডি লীগ পরীক্ষায় তেমন কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেনি। ওয়াং এর মামলায় অফিস ফর সিভিল রাইটস কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। জুলাই ২০১৪ পর্যন্ত খুব কম লোকই জানতেন ওয়াং এর মামলা নিয়ে। তাছাড়া সান হোজ মারকারী নিউজে এশিয়ান আমেরিকানদের ক্রোধ নিয়ে এক লেখা লিখে। এরপর সবাই জেনে যায়। তারপর চায়নিজ আমেরিকান নেটওয়ার্ক যারা তেমন কোন রাজনীতিতে উৎসাহ নিত না তারাও এগিয়ে আসে। ওইচার্ট নামে এক চীনা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়াংকে সমর্থন দেয়। এসব তৎপরতাকে সমর্থন দেয় ব্লাম। ঐ ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ব্লাম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। ব্লাম সেখানে বলেনি যে, এই এফারমেটিভ একশন শ্বেতাঙ্গদের ক্ষতি করছে। বরং সেখানে বলা হয় এফার্মেটিভ একশন যা সংখ্যালঘুদের ভালোর জন্য করা হয়েছে তা সংখ্যালঘুদের ভালোটার চাইতে মন্দটা বেশি করছে। এশিয়ান আমেরিকানদের এই প্রক্রিয়া লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি করছে। ব্লাম স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার এডমিশন নামে সংগঠন গড়ে তুলে। এরপর তার সদস্যদের পক্ষে মামলা করে। অনেকে ওয়াং এর মতো ভুক্তভোগী। যদি এই সংগঠন প্রমাণ করতে পারে হার্ভার্ড এই আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ভারসাম্য করছে, তাহলে এই হার্ভার্ড বাধ্য হতে পারে জাতি ও গোত্রগত কোন বিবেচনা এডমিশন প্রসেসে বাতিল করতে। হার্ভার্ড ল’ স্কুলের এক প্রফেসর রেনভেল কেনেডি বলেন, এই হার্ভার্ড যদি এই বিবেচনা বাতিল করতে বাধ্য হয় তাহলে, শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত আমেরিকাকে মেনে নিলে এশিয়ানরা উপকৃত বেশি হবে। বিষয়টা তেমন উৎকৃষ্ট মনে না হলেও সত্য। আর তাতে এই মামলা চালানোর কথা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের প্রধান এটর্নি জেনারেল জেফ সেশন তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এডওয়ার্ড ব্লাম বলেন, আমাদের মতো মাল্টি রেসিয়াল, মাল্টি এথনিক দেশে বর্তমানে কোন কোন জাতি গোষ্ঠীকে আটকানোর জন্য এডমিশন প্রতিবন্ধকতা করা যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here