print

হাসিনা সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন মোমেন

0

ঠিকানা রিপোর্ট: “জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ -এটিই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছে। গত ১০ বছরে শেখ হাসিনা সরকার তার নিবেদিত প্রচেষ্টায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে জনগণের জীবন-মানে গুণগত পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে এখন আইসিটি একটি কার্যকর বাহন”। গত ১৯ অক্টোবর জাতিসংঘের চলতি ৭৩তম অধিবেশনের দ্বিতীয় কমিটিতে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিষয়ে প্রদত্ত বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
দেশব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, এর ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। অনলাইনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক জনসেবার ব্যাপক প্রসারের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। দুর্নীতি ও অনিয়ম ব্যাপভাবে হ্রাস পেয়েছে আর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আইসিটিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়েছি বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। আমরা ইন্টারনেট ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে নারী ও প্রান্তিক জনগণ তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহজভাবে এর ব্যবহার করতে পারে এবং অসমতা হ্রাস পায়। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোবাইল ভিত্তিক আর্থিক সেবা এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। ব্লু-ইকোনমির প্রসারে কীভাবে তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।
আইসিটি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে সফট্ওয়ার নির্মাণ সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মর্মে জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জন বা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রেই নয়, সবুজ প্রবৃদ্ধি ও কার্বনমুক্ত শিল্পায়নের প্রসারেও আমরা আইসিটি ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের মাধ্যমে মহাশুন্যের জগতে বাংলাদেশের বিচরণের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জনে জনগণকে আমরা আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারবো।
তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রায়শ:ই সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। উন্মুক্ত সাইবার জগতের এসকল ঝুঁকি ও হুমকি আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের এই কষ্টার্জিত অর্জনকেও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলতে পারে মর্মে উদ্বেগের কথা জানান তিনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘পূর্ণাঙ্গ সাইবার নিরাপত্তা ইকো-সিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ৭৩তম সাধারণ পরিষদের হাই-লেভেল সপ্তাহে বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সাইবার সিকিউরিটি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’ বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রদত্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছি। বিশ্বের দেশসমূহের মাঝে বিদ্যমান তথ্য-প্রযুক্তিগত ব্যাপক ব্যবধান এই শিল্প বিপ্লবে অসমতা সৃষ্টি করতে পারে। এ সঙ্কটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তিগত ব্যবধান হ্রাস, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে আইসিটির ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

জাতিসংঘে মাসুদ বিন মোমেনের ব্যস্ততা
ঠিকানা রিপোর্ট: ফিলিস্তিন প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদ কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারে না। ওআইসি সতর্ক করে দিতে চায়, এক্ষেত্রে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। গত ১৮ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ওআইসির সভাপতি হিসেবে প্রদত্ত বক্তৃতায় একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
সম্মিলিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই ফিলিস্তিন প্রশ্ন হতে পারে একটি লিটমাস পরীক্ষা একথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “এর সমাধান আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। জাতিসংঘের রেজুলেশনসমূহ, মাদ্রিদ নীতি এবং আরব শান্তি প্রক্রিয়াসহ আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো বিচার্য্য বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান করতে হবে”।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের ঔপনিবেশিক নীতির বিষয়ে ওআইসি বার বার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছে। ইসরাইলের এই ঔপনিবেশিক আগ্রাসন পূর্ব জেরুজালেমের জনমত গঠন, অবস্থান ও চেহারা এমনভাবে পাল্টে দিয়েছে যার ফলে এই ভূখন্ড সাবলীল ফিলিস্তিনী পরিবেশ থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে গেছে। ঠিক এমনিভাবেই অনবরত ইসরাইলী পুলিশ দ্বারা অপমানিত করা হচ্ছে পবিত্র আল আকসা মসজিদ যা সৃষ্টি করছে ভয়ঙ্কর উত্তেজনা। তিনি আরো বলেন, সহিংসতা ও বেসামরিক নাগরিগদের হতা-হতের ঘটনা বেদনাদায়কভাবে বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনেই হত্যা করা হচ্ছে শিশু ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদেরকে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইসরাইলী অবরোধ সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়িত্বশীলতার সাথে সঙ্কটের সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
তিনি বলেন, যুগের পর যুগ কয়েক মিলিয়ন ফিলিস্তিনী শরণার্থী গৃহহারা; ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত। আর ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের রিলিফ এজেন্সী আনরওয়া’র তহবিল সঙ্কটের ফলে এই মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাস্ত্যুচ্যুত এসকল ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারসহ তাদের মানবাধিকার সংরক্ষণে আনরওয়া’র তহবিল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সকল আন্তর্জাতিক পক্ষকে এগিয়ে আসার জোর দাবি জানান তিনি।
ফিলিস্তিনী জনগণের ন্যায়সঙ্গত জাতীয় আকাঙ্খা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত বন্টন অনুযায়ী স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফলপ্রসূ সহযোগিতার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলতি মেয়াদে ওআইসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
বাংলাদেশের এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দারিদ্র্য মোকাবিলায় আমাদের সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞার ফলেই এবার প্রথমবারের মতো এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চলতি ৭৩তম অধিবেশনের দ্বিতীয় কমিটিতে ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্যান্য উন্নয়ন ইস্যু’ সংক্রান্ত আলোচনায় একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
“টেকসই উন্নয়নের ধারণা অধরাই থেকে যাবে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হই” -গত বছর এসডিজি’র বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক (ভিএনআর) জাতীয় রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত এই উদ্বৃতি রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করে বলেন, সামগ্রিক ও জনগণ কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার দারিদ্র্য ২১.৪ শতাংশে, অতি-দারিদ্র্য ১১.৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার আর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে”। গত নয় বছরে বাজেট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো ভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের সাথে সন্নিবেশিত ছিল বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “এমডিজির সফল বাস্তবায়ন বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে একীভূত করে এসডিজি’র বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাতের জন্য ২০১৭-২০২২ মেয়াদে ১৪.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মেগা প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একত্রিত করে প্রথমবারের মতো বর্তমান সরকার দেশে জাতীয় ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করেছে। ৬.৫ মিলিয়ন বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ও প্রতিবন্ধীগণ নিয়মিতভাবে ভাতা পাচ্ছেন।’’
যুব উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বিশেষ করে ২০২০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১২.৯ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আরও ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান, প্রবাসী কর্মীদের জন্য ২ মিলিয়ন চাকুরির সুযোগ সৃষ্টিসহ শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক তাঁর বক্তৃতায় তুলে ধরেন স্থায়ী প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে রপ্তানী খাতে ২০২০ সালের মধ্যে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের ৪.৫ মিলিয়ন কর্মীর ৮৫ শতাংশই নারী যা নারীর ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রসারিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার এবং তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পদক্ষেপ ফেলেছে এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে মর্মে উল্লেখ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য হুমকি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় করছি এবং মেগা প্রকল্প ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ হাতে নিয়েছি।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ দারিদ্র্য বিমোচনকে একটি অংশীদারিত্ব ভিত্তিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সক্ষমতা বিনির্মাণ, সম্পদ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, তথ্য ধারণ ক্ষমতা বিনির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহকে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান।
মানব পাচার রোধে জিরো টলারেন্স
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানব পাচার রোধে জিরো টলারেন্স এবং প্রবাসে শ্রমিক নিয়োগ খরচ হ্রাস সংক্রান্ত বৈশ্বিক আহ্বান জাতিসংঘে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। গত ১৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি ৭৩তম অধিবেশনের দ্বিতীয় কমিটির আওতায় ‘বিশ্বায়ন ও পারস্পারিক নির্ভরশীলতা’ বিষয়ক এক আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এই আহ্বান করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মাসুদ আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বক্তব্যের অংশ বিশেষ উদ্বৃত করে বলেন, “মানব পাচার রোধ এবং প্রবাসে শ্রমিক নিয়োগ খরচ হ্রাস করে তা সহনীয় পর্যায়ে আনতে প্রযোজ্য নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই একসাথে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে”।
অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ
“মানবাধিকার রক্ষার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কারণেই সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ- গত ১৮ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের আওতাভুক্ত তৃতীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক এক আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্ত্যুচ্যুত ও চরমভাবে নিগৃহীত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে মানবিক উদ্যার্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শক্ত অবস্থান এবং আশ্রয়দানের ঘটনাকে বিশ্বে মানবতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার মুলনীতি ও আদর্শসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “মানবাধিকার রক্ষার এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ এর শিকার মানুষদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছে যেমনটি আমাদের জনগণের উপর সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়”। তিনি আরও বলেন, “ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরূদ্ধে আমরা সবসময়ই উচ্চকিত। ওআইসির সভাপতি হিসাবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিন প্রশ্নের ন্যায়সঙ্গত সমাধানে নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছে”।
বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অবদানের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “জনগণের অধিকার রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অসমতা, ভয় ও বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে চলেছেন যেখানে সকল নাগরিক মর্যাদা ও সম্মানের সাথে বসবাস করবে, যেখানে থাকবে না কোনো সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা”। শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে আমরা সদা তৎপর এবং এক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তথাপি এ জাতীয় কোন ঘটনা ঘটলে তা দ্রুততার সাথে মোকাবিলা করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের সিভিল সোসাইটি, এনজিও এবং গণমাধ্যমের স্বপ্রণোদিত ও গঠনমূলক ভূমিকা এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে”।
তিনি বলেন, “নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন অর্থাৎ নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সুপরিচিত একটি নাম। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষার্থে আমরা বৈশ্বিক অভিবাসন কম্প্যাক্টের আলোচনায় সক্রিয় অবদান রেখে চলেছি। শ্রম খাতে গৃহীত হয়েছে নানা কল্যাণমূখী পদক্ষেপ। জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ, সাইবার-অপরাধ, মাদকসহ এ জাতীয় সকল অপরাধ রোধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছি”। বাংলাদেশ সরকার গৃহীত এসকল প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
২০১৯-২০২১ মেয়াদে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত মাসুদ সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে ধন্যবাদ জানান। ন্যায় ও সমতাভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে বহুপক্ষবাদ ও বহুপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী, সংরক্ষণ ও অগ্রগামী করতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পূনর্ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here