print

মিশেল বিধ্বস্ত বিরাণ বাস্তুভিটিতে বাসিন্দাদের প্রত্যাবর্তন শুরু

0

ঠিকানা ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় মিশেলের প্রলয়নৃতে পুরোপুরি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া মেক্সিকো বীচের সর্বহারা বাসিন্দারা নিজ নিজ বাস্তুভিটায় ফিরতে শুরু করেছেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে ও বিমর্ষ বদনে সর্বহারা জনগণ বালি-কাদায় আচ্ছাদিত ভিটেমাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঘরগৃহস্থালির আসবাবপত্র কুড়াতে শুরু করেছেন বলে ১৯ অক্টোবর জানা যায়। স্বামী টেয়লরের সাথে দীর্ঘকাল একত্রে বিশাল ক্যাম্পারে বসবাসকারী ন্যান্সী রেজিস্টার বাড়িঘরের কোন নিশানা দেখতে না পেয়ে মুষড়ে পড়েন। বিশেষ করে বৃদ্ধা মায়ের ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফটোটি অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে ন্যান্সী রেজিস্টার কান্না রোধ করতে না পেরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন।
কেন্টাকী থেকে আগত এডেনস জানান যে তিনি পাহাড়ের মত জমে থাকা ধ্বংসস্তুপ ও অসংখ্যা ভাঙ্গা ভবন দেখতে পেয়েছেন। এদিকে স্টেট ইমার্জেন্সী ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তাগণ জানান, ঘন্টায় ১৫৫ মাইল বেগে বায়ুপ্রবাহের সাথে ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসসহ ৪ ক্যাটাগরীর ঘূর্ণিঝড় মিশেল মেক্সিকো বীচে আঘাত হানার পর ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্যানহেন্ডেলের ১ লাখ ২৪ হাজার কাস্টমার এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন এবং ১৯ তারিখ পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৭ জন বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
২১ অক্টোবর ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে মেক্সিকো বীচ এবং প্যানহ্যান্ডেল ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় মিশেল ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া ও ফ্লোরিডায় আঘাত হানায় ফ্লোরিডার ২০ জনসহ সর্বমোট ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর প্রায় ১১ দিন কেটে গেলেও সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ধ্বংসাবশেষের স্তুপ, চলছে খাবার ও পানির তীব্র সঙ্কট এবং জনগণকে ঘন্টার পর ঘন্টা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্যাসোলিনের জন্য। ৭০ বছর বয়সী এড কার্কপ্যাট্রিক এবং তার ৭২ বছর বয়সী স্ত্রী সান্ড্রা শেফিল্ড কয়েক ঘন্টা চেষ্টার পর নিজেদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৃহ থেকে সামান্য কিছু মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছেন। প্যানহ্যান্ডেলের হাজার হাজার বাড়িঘর এখনও অন্ধকারে আচ্ছন্ন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here