print

নিউ ইয়র্ক সিটির আইন সংশোধন: নিউ ইয়র্ক সিটি চাটার মিশন ২০১৮

0

মোহাম্মদ এন মজুমদার

ব্লাজিও প্রশাসন নিউ ইয়র্ক সিটি চাটারকে সংশোধন ও সংযোজন করার জন্য একটি কমিশন গঠন করেছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে মেয়র ব্লাজিও স্টেট অব দ্যা সিটি ভাষণে চাটার কমিশন গঠন করার ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী এই বছরের ১২ এপ্রিল মেয়র কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র সিজার পেরালিসকে এবং সাথে আরও ১৪ জন সদস্যকে নিয়োগ দেন। উক্ত কমিশন নিউ ইয়র্ক সিটি চাটার তথা নিউ ইয়র্ক সিটির সংবিধানকে সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তনের জন্য ৫টি বরোতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মিটিং, হিয়ারিং ও শিক্ষামূলক সেমিনার ও আলোচনা করে আসছেন। কমিশন প্রায় ১০০০টি বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করেছেন। জনগণের পক্ষ থেকে এই হাজারটি শুপারিশের মধ্য থেকে কমিশন তিনটি সংশোধনী নিউ ইয়র্ক শহরের সংবিধানে সংশোধনীর প্রপ্তাব করেছেন। এই তিনটি বিষয় আগামী ৬ নভেম্বরের ইলেকশনের ব্যালেটে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে : ক্যাম্পেইন ফাইনাল সিভিক এনগেইসমেন্ট ও কমিউনিটি বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ নির্ধারণ। কেম্পেইন ফাইনাস:
নিউ ইয়র্ক শহরের বর্তমান কেম্পেইন ফাইনান্স ল’ এর পরিবর্তন করে এতে নির্বাচনী দুর্নীতি বন্ধের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ডোনেশনের পরিমাণ কমিয়ে এর স্থলে মেচিং ফান্ড এর পরিমাণ ১ী৬ এর পরিবর্তে ১ী৮ তথা ১ টাকার ডোনেশন করা হলে উক্ত প্রার্থীকে সিটি তার ৮ গুণ মেচিং ফান্ড দিবেন। অর্থাৎ ১০০০ ডলারের ছোট ছোট বা ১৭৫ ডলার নিচের ডোনেশনগুলো ৮০০০ ডলার সিটি গভর্নমেন্ট থেকে পাওয়া যাবে এবং ওই ফান্ড নির্বাচনের শুরুতেই পাবেন।
সিভিক এনগেইজমেন্ট
একটি স্বতন্ত্র এবং পূর্ণাঙ্গ কমিশন সিভিক এনগেইজমেন্ট কমিশন ‘গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে উক্ত কমিশনের সদস্যরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, জনগণের প্রতিনিধিত্বকরণ এবং পার্টিসিপিটরি বাজেটকে জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিবেন। এই কমিশনের সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন। এদের ৮ জন নিযুক্ত হবেন মেয়র কর্তৃক, ২ জন স্পিকার কর্তৃক এবং প্রত্যেক বরো প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিবেন ১ জন করে সদস্য।
কমিউনিটি বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ নির্ধারণ:
কমিউনিটি বোর্ডের সদস্যরা বর্তমান আইনানুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বারবার নিয়োগ পেতে পারেন। নতুন আইনানুযায়ী ১০১৯ সাল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত বোর্ড মেম্বারদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ বছর মেয়াদী সর্বোচ্চ ৪ টার্ম এর জন্য। তবে ইতিমধ্যে ৪ টার্ম এর মধ্যে কর্মমেয়াদ ভঙ্গ হলে পুনরায় ৪ মেয়াদকাল বলবৎ থাকতে পারবেন।
কমিশনের প্রস্তাবিত তিনটি প্রস্তাবই ইতিবাচক জনকল্যাণমূলক এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলা যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই এবং এর পক্ষে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পক্ষে।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here