print

যুক্তরাষ্ট্রে তিন-চতুর্থাংশ এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারী ভারতীয়

0

ঠিকানা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিসাপ্রাপ্তদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজনই ভারতীয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কর্মীদের ওপর ‘এইচ-ওয়ানবি পিটিশনস বাই জেন্ডার অ্যান্ড কান্ট্রি অব বার্থ ফিসক্যাল ইয়ার ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। প্রতিবেদন অনুসারে, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৭ জন বিদেশী নাগরিক এইচওয়ান-বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯ হাজার ৯৮৬ জনই ভারতীয় নাগরিক।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনটিতে এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের মধ্যে লিঙ্গীয় বৈষম্যের দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন নারী রয়েছে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৭ জন এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীর মধ্যে মাত্র ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বা ১ লাখ ৬ হাজার ৯৬ জন নারী এবং ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন পুরুষ। প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতীয়দের মধ্যে লিঙ্গীয় বৈষম্য সবচেয়ে বেশি।
৫ অক্টোবর পর্যন্ত এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বা ৬৩ হাজার ২২০ জন নারী, অন্যদিকে বাকি ৮০ শতাংশ (সুনির্দিষ্টভাবে ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ) বা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫১৭ জন পুরুষ। ১ হাজার ২৪৯ জন এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারী ভারতীয়কে অনুপস্থিত বা অন্যান্য শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীর ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশই ভারতীয়। এরপর রয়েছে চীনা নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রে এ কর্মভিসাধারী বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ১১ দশমিক ২ শতাংশ বা ৪৭ হাজার ১৭২ জন চীনা নাগরিক। তবে চীনা এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের মধ্যে লিঙ্গীয় বৈষম্য তুলনামূলক কম বলে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে, মোট এইচ-ওয়ানবি ভিসাপ্রাপ্ত চীনা নাগরিকদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ বা ২১ হাজার ৩৪২ জন নারী ও ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার ৭১৮ জন পুরুষ।
ভারত ও চীনের পর ১ শতাংশের কিছু বেশি এইচ-ওয়ানবি ভিসা রয়েছে কেবল কানাডা ও দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের। এর বাইরে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাকি দেশগুলোর এ কর্মভিসা পাওয়ার পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম।
ইউএসসিআইএসের প্রতিবেদন অনুসারে, শীর্ষ ১০টি এইচ-ওয়ানবি ভিসাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল ফিলিপাইনে নারী ভিসাধারীর সংখ্যা বেশি। দেশটির ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ১ হাজার ৫১৯ জন পুরুষের তুলনায় এইচ-ওয়ানবি ভিসাপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা ১ হাজার ৭১২ জন বা ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফিলিপাইনের ৩ হাজার ২৫০ জনের এ কর্মভিসা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাসংক্রান্ত এজেন্ডা প্রকাশ করার কয়েক দিন পর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। এজেন্ডা অনুসারে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিশেষ পেশার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনার এবং কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যকার সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়িত করার পরিকল্পনা করেছে।
সারা বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী ও সর্বোত্তম কর্মীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এসব বিধিবিধানের প্রস্তাব দেয়ার কথা ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে। একই সঙ্গে এইচ-ওয়ানবি ভিসার অপব্যবহার রোধ করাও এর লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইউএসসিআইএস যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাক-নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে যদি ৮৫ হাজার বিদেশী শিক্ষার্থী এইচ-ওয়ানবি ভিসা পেতে সক্ষম হয়, তবে আর কোনো বিদেশী প্রার্থী আবেদন করতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here