print

নির্বাহী আদেশের খড়গ নিয়ে প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট : বিরোধিতায় স্পিকার

অবৈধদের সন্তান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না!

28

ঠিকানা রিপোর্ট: অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই চটজলদি নানা নির্বাহী আদেশ জারি করে ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে অবৈধদের সন্তান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না! আলোচানা-সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। সবশেষে ৩০ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথার ইতি ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে আবারও ট্রাম্প দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ননসিটিজেনদের সন্তান-সন্ততিদের আমেরিকান নাগরিকত্বের ইতি ঘটানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এক্সিয়োসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের বুকে আমেরিকাই একমাত্র দেশ যে দেশটি বিগত ৮৫ বছর ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের পর এ দেশে তাদের জন্ম দেয়া ছেলে-মেয়েদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব বৈধ আমেরিকান নাগরিক হিসেবে অপরিহার্যভাবে বহন করে আসছে। চলতি সপ্তাহান্তে নতুন এইচবিও সিরিজের অংশবিশেষ হিসেবে সম্প্রচারিত হতে যাওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি হাস্যস্পদ এবং নিছক হাস্যস্পদ। এই হাস্যস্পদ প্রথার অবসান অবশ্যই হওয়া উচিত।
ইতোপূর্বে ১৩ অক্টোবর কেন্টাকীতে অনুষ্ঠিত র‌্যালীতে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প অ্যাঙ্কর বেবীদের নিন্দা করে বলেছিলেন, নিজস্ব লিগ্যাল কাউন্সেলের সাথে পরামর্শ করে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথার ইতি ঘটাতে চান। ট্রাম্প এও বিশ্বাস করেন যে নির্বাহী আদেশে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ইতি ঘটাতে পারেন।
ট্রাম্পের উক্ত ঘোষণাকে লিগ্যাল এক্সপার্টগণ ( আইন বিশেষজ্ঞগণ) সংবিধান পরিপন্থী বলায় ট্রাম্প তা মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন পূর্বে ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন বিষয়ক উক্ত বিতর্ক হাউজে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ হতে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
উল্লেখ্য, ১৮৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারীদের নাগরিকত্ব প্রদানের আদেশ দিয়েছিল। সে সময় থেকে আমেরিকার ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারীমাত্রই এ দেশের বৈধ নাগরিক।
এসিএলইউএস ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের পরিচালক ওমর জাডওয়াটসহ ইমিগ্র্যান্টস-রাইটস অ্যাক্টিভিস্টগণ ট্রাম্পের পরিকল্পনার ঘোর বিরোধিতা করেছেন। জাডওয়াট বলেন, নির্বাহী আদেশে সংবিধান মুছে ফেলার এক্তিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। জাডওয়াট বলেন, এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে অভিবাসী বিদেশী ঘৃণাবোধকে উস্কে দেয়ার সামিল।
সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আলোকে নির্বাহী আদেশ নিয়ে রীতিমত বিতর্কের ঝড় উঠবে। আমেরিকার ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারী সকল শিশু বা ন্যাচারালাইজড সিটিজেনগণ এবং বিশ্বের যে কোন দেশে আমেরিকান নাগরিকদের জন্মনেয়া সন্তান-সন্ততি আমেরিকান নাগরিক হিসেবে বিবেচিত। আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে আমেরিকান ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুই আমেরিকান নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত।
স্পিকারের বিরোধিতা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশবলে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম বাতিলের পরিকল্পনা জানানোর পর এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকা জানায়, ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার ডব্লিউভিএলকে বেতার কেন্দ্রে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কংগ্রেসের এ শীর্ষ রিপাবলিকান। “আপনি স্পষ্টতই একাজ করতে পারেন না,” বলেন রায়ান। তিনি বলেন, “নির্বাহী আদেশ দিয়ে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে না। ওবামা (সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট) যখন নির্বাহী আদেশ দিয়ে অভিবাসন আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন তখন আমরা তা পছন্দ করিনি। আর কনজারভেটিভ দল হিসাবে আমরা সংবিধানে বিশ্বাসী।”
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা বেশির ভাগ মানুষই আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং আদালতের সিদ্ধান্তেই এ অধিকার সংরক্ষিত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here