print

ড. কামালে সরকারের সেফ এক্সিট!

0

বিশেষ প্রতিনিধি : ড. কামাল হোসেনের মাধ্যমে আপাতত নিরাপদ প্রস্থান এবং আবার ফিরে আসার ছক চূড়ান্ত করে রেখেছে সরকার। সেই ছকের অংশ হিসেবেই হঠাৎ এবং নাটকীয়ভাবে সংলাপে রাজি হন প্রধানমন্ত্রী। নানা রহস্য ও কৌশলের খেলায় ভরপুর এ রাজনৈতিক উদ্যোগে সব সামলে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। শেখ হাসিনার একান্ত নিজস্ব চিন্তা ও বিশেষ কয়েকজন ছাড়া বাকিদের এখনো এ বিষয়ে অন্ধকারেই রাখা হয়েছে।
ছকটির যাবতীয় হ্যান্ডেলিং তিনি এখন পর্যন্ত এক হাতেই করছেন। যেমনটি করেছিলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপরে। যার পুরোটা বুঝতে বুঝতে অপজিশনের পাক্কা পাঁচ বছর চলে গেছে। এবার আরো চাতুরী ও নৈপুণ্যতার সঙ্গে পরিস্থিতি উতরানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারার সঙ্গেও সংলাপের দিনক্ষণ ঘোষণার পর সরকারের চাতুরীর একঝলক টের পেয়েছেন কেউ কেউ। সংলাপে আন্তরিকতার শোডাউন করে তাৎক্ষণিক লাভের মধ্যে শেখ হাসিনা এরই মধ্যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে তার আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটাতে শুরু করেছেন। দেশ-বিদেশকে জানাচ্ছেন তার উদারতার কথা। সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের কৌশল আরো ডালপালা ছড়াবে, তা অনেকটা নিশ্চিত হলেও বিরোধী মতের প্রধান শক্তি বিএনপির আপাতত করার কিছুই নেই।
দুই মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদ-, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশÑআরপিও সংশোধন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন নিশ্চিত করেই সরকারের সংলাপে এ সম্মতি। ২৯ অক্টোবর সকাল-দুপুর, বিকেলেও বলা হয়েছে সংলাপের প্রশ্নই আসে না। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার একটিও মানার মতো নয়। সন্ধ্যা নাগাদ একেবারে ইউটার্ন। সংবাদ সম্মেলন ডেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দরজা কারও জন্য বন্ধ নয় বলে নতুন ও অসাধারণ বার্তা দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেদিন থেকেই শুরু হয় সংলাপ নিয়ে হুলুস্থুল। একদিন পর বি. চৌধুরীর সঙ্গেও চিঠি চালাচালি ও সংলাপের সিডিউল ঘোষণার পর এ খেলার আংশিক প্রকাশ পায়।
ড. কামাল হোসেনকে এমন একটি আভাস আগেই দিয়ে রেখেছেন তার হিতাকাক্সক্ষী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। চাতুরী-চালাকিতে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করার দক্ষতায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষত্ব ও দক্ষতার বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ড. কামালকে। বিদ্যান-গুণীজনদের নাস্তানাবুদ করা, তাদের আনফিট প্রমাণ করা, প্রয়োজন শেষে ছুড়ে ফেলার কিছু ঘটনাও উল্লেখ করেছেন। সংলাপের নামে শেখ হাসিনা আরেকটি নাটকীয়তা তৈরি করে কীভাবে সবার চোখে ধুলা দিতে পারেন, সেই শঙ্কার বিস্তারিত ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি তার ঘনিষ্ঠদের অবহিত করেছেন। প্রকাশ্যে কথা বলাও অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকারকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এস কে সিনহা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here