print

সংলাপ ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়

বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বার্নিকাট

55

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদল এবং সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার সংলাপ উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তবে সংলাপ ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত পরিসরে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আসন্ন নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে প্রতিনিয়ত উৎসাহদাতা রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে আলোচনা, বিতর্ক এবং বিস্তৃত সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাক্সিক্ষত পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এমন নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়। নির্বাচনটি এমন হতে হবে, যাতে জনগণের ইচ্ছার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং নির্বাচনী ইশতেহার প্রদর্শনের সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেসব দেখে জনগণই ঠিক করবে তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দেবে। রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট এ সব কথা বলেন।
মার্কিন দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক। এ গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এটিকে শক্তিশালী করতে হবে। এ সময় তিনি গ্রহণযোগ্য বিরোধী দলও দেখার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন না করলেও বাংলাদেশের কেউ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি ফোকাস করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারে? এমন আশঙ্কা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি বা তার দেশ বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটকে সমর্থন দিচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সমর্থন এবং সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সরকারি দল বিরোধী ঐক্যফ্রন্টের নিজেদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি আশাবাদী এটি আরো বিস্তৃত হবে। সেখানে সব বিষয় খোলামেলা আলোচনা হবে।
আসন্ন সংলাপ আয়োজনে বিদেশিদের ভূমিকা আছে কি-না? এমন প্রশ্নে বার্নিকাট বলেন, ২০১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগটি চলমান ছিল। কিন্তু এখন যেটি হচ্ছে সেটি নিজেদের উদ্যোগ। বন্ধু হিসেবে আমরা এর সফলতা কামনা করি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ গৃহযুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারে। বড় ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে এমন কোনো কিছু ঘটেনি, যাতে বিদেশিদের সহায়তা লাগবে। এখানে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ বা ভিন্নমত রয়েছে, তা রাজনীতিকরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলতে পারবেন।
সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি কঠিন আইন। এ নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরা সরকারের প্রতি নিয়মিত আহ্বান জানাচ্ছি যাতে সেই উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করা হয়।
তার নিজের গাড়িবহরে দুর্বৃত্তদের আক্রমণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চায়। যারা ঘটিয়েছে, সেই সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে- এমনটাই দেখতে চায়। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ (অ্যাপলজি) করেছে বলেও জানান তিনি।
পড়ন্ত বিকালের বিদায়ী ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উত্থাপিত ডজনখানেক প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন প্রায় সাড়ে ৩ বছর ঢাকায় দায়িত্বপালনকারী মার্কিন দূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। সেখানে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনীতিসহ তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন।
জানান, ২ নভেম্বর তিনি তার ঢাকা মিশন শেষ করতে যাচ্ছেন। তিনি এখানে ব্যক্তিগতভাবে এবং তার টিমকে নিয়ে অনেক কিছু অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতেই তার সব চেষ্টা ছিল।
তিনি বলেন, আমি এবং আমার টিম অপরূপ সুন্দর ওই বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রয়াসে সহায়তা করতে চাই। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হয়েছি, যে বাংলাদেশ থেকে শান্তি রপ্তানি হবে। এই বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিতে আরো বলিষ্ঠ অবদান রাখবে।
তিনি কী নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, আমি গোটা বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করেই আমার দেশে ফিরছি। তবে আমি একেবারে যাচ্ছি না। আমি গুড বাই বলবো না। আমি বলবো, আবার দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here