print

কবিরাজের নিত্য জ্বর

0

ঠিকানা রিপোর্ট: মান্ধাতার আমলে গ্রামবাংলার চিকিৎসা সুযোগবঞ্চিত সাধারণ জনগণের চিকিৎসা পরিষেবার পুরো দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল কবিরাজের উপর। অন্যদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে গিয়ে এ সকল হাতুড়ে ডাক্তার বা কবিরাজরা এতই ব্যস্ত থাকতেন, নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সচেতন ছিলেন না। ফলে অধিকাংশ কবিরাজই বছরের অধিকাংশ সময় জ্বর কাশিসহ নানা উপসর্গে ভুগতেন। কবিরাজদের এই করুণ দশার প্রতি কটাক্ষ করতে গিয়ে গ্রাম বাংলায়-‘কামলার ভাঙ্গা ঘর এবং কবিরাজের নিত্য জ্বর’ প্রবাদ প্রবচনটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
একবিংশ শতাব্দীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের চরম মাহেন্দ্রক্ষণেও অন্যদের স্বাস্থ্য পরিষেবাদাতাগণ যখন নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন এবং প্রায়শ নানা উপসর্গে ভোগেন তখন বিষয়টিকে কবিরাজের নিত্য জ্বর হিসেবে অভিহিত করা ভুল হবেনা। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য এসোসিয়েটেড প্রেস- এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে অন্যদের পরিষেবাদাতা বা কেয়ারগিভারদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রুটিনমাফিক নিজেদের শারীরিক বা দাঁতের পরিষেবার ধার ধারেন না। এ সকল অন্যের পরিষেবাদাতাগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিয়ে এতই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন যে দায়িত্ব পালনের অজুহাতে নিজেদের নির্ধারিত টেস্ট বা ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে গেছেন। আবার একই অজুহাতে কেউ কেউ অসুখ-বিসুখে কিংবা আঘাতপ্রাপ্তির পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে কিংবা প্রেসক্রিপশন পূর্ণ করতেও ভুলে গেছেন। ফলে চিকিৎসকগণও তাদের সাহায্য করার সুযোগ হারিয়েছেন।
অধিকাংশ কেয়ারগিভার তাদের কেয়ার বা পরিষেবাদাতা সিনিয়রদের নিকট মেডিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিকট গমন করেন। এমনতর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে পরামর্শের জন্য নিজেদের ফিজিসিয়ানের সাথে সময় করে দেখা-সাক্ষাৎকালে বেশিরভাগ কেয়ারগিভারই সেলফ-কেয়ার বা (আত্মপরিষেবা) , সার্পোট প্রোগ্রামস বা অন্যান্য সার্ভিস বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য একান্ত কমই সংগ্রহ করেন।
এএআরপির দীর্ঘকালীন কেয়ার স্পেশালিস্ট লীন ফিনবার্গ বলেন, প্রায় ৪০% কেয়ারগিভারেরই স্বাস্থ্য সমস্যা, শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক সমস্যা রয়েছে যা তাদের প্রাত্যহিক দায়িত্ব নির্বাহের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফিনবার্গ জানান, প্রায় ৪০% আমেরিকানই নিজেদের বুড়ো আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু বান্ধবদের দীর্ঘকালীন পরিষেবা দিয়ে থাকেন। আবার বয়স্ক আমেরিকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করছেন। জানা যায়, এদের মধ্যে ৪০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী পরিষেবাদাতারা কোন না কোন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here