print

সকল বন্ধন ছেড়ে চলে গেলেন মাহফুজ

জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ

15

ঠিকানা রিপোর্ট: কম্যুনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ছিলেন রিহ্যাব সেন্টারে। এই সাড়ে তিন বছরে তিনি জীবিত থাকলেও মূলত: ছিলেন অনেকটাই মৃত। কারণ তার কোন জ্ঞান ছিলো না। প্রথম দিকে মানুষজনকে চিনতে পারলেও শেষ দিকে তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। যে কারণে রিহ্যাব সেন্টারের বিছানায় তার শরীর ছিলো নিথর। কাউকে চিনতেন না। এ নিয়ে ঠিকানার ২৬ অক্টোবর ২০১৮ সালের সংখ্যায় ”জীবিত থেকেও যেন নেই মাহফুজ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস ২৬ অক্টোবর রাত ১০টায় ফ্লাশিং এর প্রেসবাইটারিয়ান হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মাহফুজুর রহমান (ইন্নাল্লিলাহে.. রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র পুত্র সন্তান, ভাই- বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মাহফুজুর রহমানের নামাজে জানাজা গত ২৮ অক্টোবর বাদ জোহর জ্যামাইকার দারুল উলুম মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন ঢাকাস্থ বায়তুল মোকাররম মসজিদের সাবেক ইমাম মুফতি রফিক আহমেদ। জানাজায় সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। নামাজে জানাজা শেষে মাহফুজের লাশ নিউজার্সির মুসলিম গোরস্তানে দাফন করা হয়।
বাংলাদেশের খুলনায় জন্ম নেয়া মাহফুজুর রহমান ৯০ এর দশকে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় এসেছিলেন। আমেরিকায় জীবিকার পাশাপাশি তিনি রাজনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন কম্যুনিটির সেবায় একজন নিবেদিত মানুষ। যে কারণে সবার কাছে স্বল্পভাষী এবং উন্নত মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। যেখানে মানুষের সমস্যা দেখেছেন সেখানেই তিনি দৌড়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রীর নাম ছিলো নাদিয়া আফরোজ সুমি। তাদের সুখের সংসারে এসেছিলো ফুটফুটে পুত্র সন্তান। তার নাম রেখেছিলেন শামীম ফারুক। মাহফুজ- সুমির সুখের সংসার বেশি দিন স্থায়ী ছিলো না। নিয়তির নির্মম পরিহাস ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর হার্টএ্যাটাকে আক্রান্ত হন মাহফুজুর রহমান। তাকে প্রথমে এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রেসবাইটারিয়ান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফ্লাশিং এর একটি রিহ্যাব সেন্টারে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই তিনি দীর্ঘ দিন ছিলেন। গত ১২ দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবারো হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে রাখার পর অবস্থার উন্নতি হলে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হয়। কিন্তু লাইফ সাপোর্ট খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরই মধ্যে মাহফজুর রহমানের স্ত্রী একমাত্র সন্তানকে রেখেই আত্মহত্যা করেন। মাহফুজের পুত্র সন্তানের দায়িত্ব নেন তার ছোট ভাই ইবনে ফারুক মাসুদুর রহমান।
মাহফুজের মৃত্যুতে পুরো বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। যদিও মাহফুজের সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশে তার বোনের কাছে রয়েছেন। মাহফুজের জানাজায় কম্যুনিটির সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। জানাজা পূর্ব বক্তব্য রাখেন মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই ইবনে ফারুক মাসুদুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট ডা. মাসুদুর রহমান, দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা ইয়ামীন।
জনাজায় অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতা গোলাম মাওলা মানিক, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রব মিয়া, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, কাজী আজহারুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, আতাউর রহমান সেলিম, ইসমাইল খান আনসারি, কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি শাহাদত হোসেন, বিএনপি নেতা শরিফ আহমেদ লস্কর, মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি কমিটির সদস্য আজাদ বাকির, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ, ভিপি জহিরুল ইসলাম মোল্লা, আমানত হোসেন আমানম, মহিদুল ইসলাম, দরুদ মিয়া রনেল, জেবিবিএ’র কর্মকর্তা হারুণ ভুইয়্,া জে মোল্লা সানি, সোসাইটির ক্রীড়া সম্পাদক নওশেদ হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here