print

জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি

20

রেহানুজ্জামান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয়-সন্দেহ ততই দূর হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য ফ্রণ্ট নামে বৃহত্তম দল বিএনপি ও মার্কাবিহীন, নিবন্ধনহীন,সংখ্যালঘু কিছু দল নিয়ে ছোট ছোট দলের বড় বড় কিছু নেতা নিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। ৩০ অক্টোবরের পর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে। নানা ধরনের গুঞ্জনের পাশাপাশি হিসাব-নিকাশ দর কষাকষি শুরু হয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তা খোলাসা হবে।
আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দেশের জনগণকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন মার্কা নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এ ঘাট সে ঘাটে ভোটের জন্য দলবেঁধে গ্রামেগঞ্জে ফেরি করা, ছালাম আদাব জানানো, বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে নিয়ে উঠান বৈঠক, জেলা উপজেলা সদরে পথসভা ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে ভোট আদায়ের নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছড়ানো এবং অঙ্গীকার পালনে প্রার্থীরা বদ্ধপরিকর থাকেন। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে এলাকার অবসরপ্রাপ্ত আমলা,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, খেলোয়ড়, সিংগার,অফিসার, নায়ক, নায়িকা লম্বা বেতনের বড় বড় হর্তাকর্তাদের পদচারণায় এলাকা রীতিমত মুখরিত ও ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। অথচ নির্বাচনী এলাকায় বছরের অন্যান্য সময় তাদের তেমন পা পড়েনা।
নির্বাচন এলেই মৌসুমী পাখির মত নতুন মুখের আনাগোনা বেড়ে যায়। ঈদ পার্বণ ছাড়া যাদের হদিসই মিলত না তারাই উড়ে এসে জুড়ে বসার চেষ্টা তদবির করেন। জনদরদী সেজে এলাকার খোঁজ খবর নেন, দান খয়রাতের হাত প্রসারিত করেন, এলাকার উন্নয়নে ওয়াদা বদ্ধ হন। এই করব সেই করব বলে কথা ও দেন। এলাকার মানুষের খবরাখবর নেন, মুরব্বীয়ানদের কাছে দোয়ার দরখাস্ত করেন। নতুন প্রজন্মের ভোটারদেরকে কাছে টেনে নেয়ার জন্য তাদের প্রতি উদারতা দেখান। তাদেরকে খেলাধুলা, গানবাজনা, আমোদ ফুর্তির জন্য তাদের হাতে বড় অংকের উৎকোচ ও তুলে দেন। তাদেরকে আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে ক্লাব দিবেন, মাঠ দিবেন ঘাট দিবেন,খেলাধুলার সামগ্রী দিবেন, গান বাজনার বাদ্যযন্ত্র দিবেন, গান তালিমের স্কুল ও দিবেন। আরো কত কিছুর প্রতিশ্রুতি থাকে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার ও প্রতিশ্রুতি দেন।
স্কুল মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা, কালবার্ট,গ্যাস, ইলেকট্রিসিটির অভাব পূরণ করে দিবেন। ভাবখানা এমন থাকে অভাব পুরণে তাহারাই একমাত্র ব্যক্তি তাদের দ্বারাই সবকিছু সম্ভব হবে কারণ তাদের হাত নাকি অনেক লম্বা হাত একেবারে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পর্যন্ত। তাহলে যুগের পর যুগ তাদের অবস্থান কোন তিমিরে থাকে। জনসেবা করার কোন সুযোগ কি মিলে নাই? এখনই মোক্ষম সময় নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকায় নাকি দুদের নহর বইয়ে দিবেন। জনসেবা, জনকল্যানকর কাজ করতে নাকি এলাকার প্রতিনিধি হতে হয়!
-নিউ ইয়র্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here