print

স্বপ্ন বিলাস

0

এইচ এম মুশফিক

ভাবতে ভাবতে একসময় বেলকনিতে পাতা ইজি চেয়ারে বসে পড়ল মাহ্ফুজ। হঠাৎ করে ঘাড়ের ওপর কার যেন হাতের চাপ অনুভব করল সে। ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে ফিরে তাকাল। মারুফকে দেখে চমকে ওঠল মাহ্ফুজ! মারুফ মাহ্ফুজের ক্লাশ ফ্রেন্ড, একই বর্ষে পড়ালেখা করেছে। কিন্তু বর্তমানে দু’জনেরই ভবঘুরে অবস্থা। তবে মারুফ খুব দুরন্ত প্রকৃতির। যে কোন সিচ্যুয়েশন টেকল দিতে মোটামুটি ওস্তাদ সে। কিন্তু মাহফুজ তার পুরো বিপরীত। শান্ত প্রকৃতির, কিছুটা উদার মনের। ঠিক সময়ই এসেছিস, বোস্, কথা আছে অনেক। এই বলেই পাশের চেয়ার ইঙ্গিত করল মাহফুজ।
মারুফ চোখ থেকে সানগ্লাস নামিয়ে মুছতে মুছতে বলল, ‘যেভাবে গালে হাত দিয়ে ভাবছিলি, তাতে মনে হয়- জীবনের মারাত্মক একটা বিয়োগ অংকের হিসাব মিলাচ্ছিস!’
-পুরাটা জীবনই বিয়োগ অংক দোস্ত। যোগ অংকের হিসাব আর জীবনে পেলাম কই? কাঁপা চোখে চেয়ে বলল মাহফুজ।
-তোর জন্য আজ একটা যোগ অংকের হিসাব নিয়ে এসেছি। চল গেস্টরুমে গিয়ে অংকটা শুরু করি। ক্লোজ ডোর অংক। দেখবি সহজেই অংকের হিসাবটা মিলে যাবে।
-তুইতো প্রতিদিনই আবোল-তাবোল কথা নিয়ে বক বক করিস শুধু, কাজের বেলায় ফক্কা! মারুফ খুব দৃঢ় গলায় বলল।
-বিশ্বাস কর দোস্ত, আজকে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছি। সিদ্ধান্তটা আমার একার নয়। আমার পেছনে বিরাট একটা শক্তি কাজ করবে। যাকে বলে বেকিং গাইড। বেকারত্ব আর কতকাল সইব। পরিবারের সবাই এখন টানা টানা বাঁকা কথা বলে। জীবনটা অসহ্য লাগছে। একটা কিছুতো করা চাই-ই, চাই। আমার ভার্সিটির জীবনটা কেটেছে কত সুখে। মিছিল-মিটিং আর দু‘চারটা চাঁদা আদায় করলেই পকেটটা গরম হয়ে যেত। টাকার কচকচানিতে শরীরের রক্ত গরম হয়ে উঠত। চার বছরের কোর্স হলেও কর্তৃপক্ষ বোধ হয় আমাদের বেকারত্বের কথা ভেবেই আট-নয় বছর কাটাবার ফুরসতটা দিয়ে দিলেন। আত্মীয়-স্বজন কেউ জিজ্ঞেস করলে বুক ফুলিয়ে বলতাম, ভার্সিটিতে ফাইনাল ইয়ারে আছি। সবাই ভয় পেত। সম্মান করত। ভাবত এরা জাতির ভবিষ্যত। আর এখন? এখন কোন আত্মীয়-স্বজনের সামনে পড়লেই লজ্জায় শরীরটা রি রি করে ওঠে!
মাহফুজ নড়েচড়ে বসল। টেবিলের ওপর থেকে একটা কাগজ জানালার বাতাসে পড়ে গেল নিচে। মাহফুজ সেটা তুলে পেপার ওয়েট চেপে দিয়ে বলল -আমার কি মনে হয় জানিস?
-কি মনে হয়?
-আমার মনে হয়, আমাদের চাকরি না হবার পেছনে একটা কারণ আছে।
-কি কারণ? তীর্যক দৃষ্টিতে তাকাল মারুফ।
-আমার মনে হয় বাসের কিছু কন্ডাক্টর আর হেলপারের অভিশাপ লেগেছে! যাদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করেছি, তাদের অভিশাপ লেগেছে! তুই শালা রাস্তার কত লোককে খুন করেছিস, মনে আছে?
-তোর সব ফালতু প্রলাপ। ওসব বক বক বাদ দেতো! চল সময় খুব একটা হাতে নেই, দারুণ একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি! বিবেচনা করে দেখ কেমন লাগে তোর কাছে। অবশ্য ব্যাপারটা খুব টাফ, কিন্তু সফল হতে পারলে…! বাকীটা আর বলল না মারুফ। মাহফুজের দিকে তাকাল।
মাহফুজ আশান্বিত দৃষ্টি নিয়ে বলল, -চল, গেস্টরুমে গিয়ে শুনি। দেখি তোর প্রস্তাবটা কেমন লাগে!
দুজনে ভেতরে ঢুকে মুখোমুখি বসে পড়ল। জানালার ফাঁক গলিয়ে শীতের মিষ্টি রোদের সুন্দর ঝিলিক পড়ছে ভেতরে। ইচ্ছা করেই মাহফুজ গিয়ে বসল রোদের ঝিলিকে। মারুফ হাসে।
-কি ব্যাপার, রোদে গিয়ে বসলি যে?
-এমনিতো আর শরীরে কোন ভিটামিন-টিটামিন পাচ্ছি না, দেখি না রোদ থেকে মাগনা কিছু ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় কিনা!
হাসল মারুফ। মাফুজ প্রসঙ্গ পাল্লায়।
-ভাবতে খুব অবাক লাগে! আগে নেতারা বলতেন- ছাত্ররাই জাতির ভবিষত। আমি ভাবতাম লেখাপড়া শেষ করেই হয়ত সরকারি উচ্চ পর্যায়ে চাকরি করব। সচিব হব, একটা সময়ের পর দেশের বড় আমলা বা মন্ত্রী-টন্ত্রী হয়ে যাব! সরকারি গাড়ি পাব, বাড়ি পাব, আগে-পিছে পুলিশের মহড়া থাকবে! গাড়িতে জাতীয় পতাকা পৎ পৎ করে উড়বে! আরো কত কি! অথচ এখন! সব ফাও! বিশাল শূন্য বিস্তৃত মরুভূমি। ধু ধু বালুচর! হাহাকার ভরা জীবনের ব্যর্থ আর্তনাদ শুধু।
-আসলে নেতারা ঠিকই বলেছেন। আমরা বুঝতে ভুল বুঝেছি তখন! ওদের কথার আগ-পিছ না ভেবে তিড়তিড় করে নেচে উঠেছি। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস খেয়ে অহেতুক শুধু চোখের পর্দা নষ্ট করেছি। আমি বিরাট একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে আমাদের এ ব্যাপারটা নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছি। তিনি আমাকে দারুণ একটা পরামর্শ দিলেন। আমার মতে পরার্মশটা তোর আর আমার বিরাট একটা সফলতা। তিনিও নাকি প্রথম জীবনে আমাদের মত এমন অবস্থায় ছিলেন।
মাহফুজ একটু নড়েচড়ে বসল। কথাটা শুনে তার ঠোঁটের এক প্রান্তে হাসি ফুটে উঠল।
-বল, তোর প্রস্তাবটা এবার শুনি!
মারুফ খুব গম্ভীর ভাব নিয়ে শুরু করে
-আমরা একটা দল করব।
ভ্রূকুচঁকে গেল মাহফুজের!
-তার মানে? কিসের দল করবি?
-তুই অবাক হচ্ছিস কেন? রাজনৈতিক দল। দারুণ একটা ব্যবসা। বর্তমানে এ ব্যবসার মত সময়োপযোগী ব্যবসা আর একটাও নেই। বিদেশিরা এখন তাদের আদর্শ-ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি বিক্রয় করছে। এ সুযোগ হাতছাড়া করলে আর সুযোগ পাওয়া যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশের… থেমে গেল ও।
-বুঝলাম না তোর কথাটা? এটা ব্যবসা হবে কি করে? বরং এটা তো একটা বাড়তি ঝামেলা। জাতীয় উন্নয়নমূলক একটা কাজ। এটা হচ্ছে তাদের জন্য, যাদের পেটে ভাত আছে, দিব্যি আরামে দিন কাটছে, টাকার উপর শুয়ে রং-বেরংঙের স্বপ্ন দেখে! এটা তো আমাদের জন্য নয়।
মারুফ একটা অবজ্ঞার হাসি ছুঁেড় মারল। -আরে ধ্যাৎ! তুই যা বলছিস সেটা হচ্ছে আগের যুগের কথা। সে যুগ এখন নেই, এটা হচ্ছে প্রগতির যুগ। পুরাতন সব নীতির এখন পরিবর্তন ঘটেছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি- সব এখন নতুন রীতি মেনে চলেছে। দেখিস না, আগের যুগে শিক্ষকরা ছাত্র পিটাতেন, আর এখন ছাত্ররাই শিক্ষক…!
মাহফুজ অবাক হয়। -তোকে কি এসব রাজনৈতিক নেতাই বললেন?
-হ্যাঁ। তিনি আমাকে একটা সংবিধান ও প্রণয়ন করে দেবেন। কিভাবে কি করতে হবে, কিভাবে এগুতে হবে, পুরাতন নেতাতো, লোক ঠকাতে দারুণ পটু!
-আচ্ছা, দল গঠন করবি যে, আমাদেরতো কোন নেতা-টেতা কেউ নেই। নেতা পাবি কই? মারুফ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।
-আরে অন্য নেতা লাগবে ক্যান? তুই আর আমিই যথেষ্ট। তুই হবি দলের বিপ্লবী চেয়ারম্যান। আমি হব সংগ্রামী মহাসচিব। তারপর একটা সাংগঠনিক প্যাড, কিছু রসিদ বুক, কয়েকটা সিল-ছাপ্পর তৈরি করতে পারলেই কেল্লা ফতে! কাম খালাস!
-প্রথমে একটা সাংবাদিক সম্মেলন। তারপর প্যাডে করে বড় বড় দৈনিক পত্রিকায় যুক্ত বিবৃতি! রসিদ বুক দিয়ে তোর আর আমার নামে মোটা অংকের চাঁদা আদায়, এভাবে কিছুদিন চললে দেখবি বেকারত্বের মুক্তি কিভাবে আসে! তারপর আস্তে আস্তে ছাত্র সংগঠন। অবশ্য প্রথম প্রথম বলতে হবে ছাত্র সমাজকে আমরা রাজনীতিমুক্ত অঙ্গনে দেখতে চাই। প্রথমে ছাত্র সংগঠন বের করা যাবে না!
-কেন? বের করলে দোষ কি?
-কারণ প্রথমত সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হবে, তারপর কৃষক-শ্রমিক সংগঠন।
-এত লোক পাবি কোথায়? -কেন বেশি লোকের প্রয়োজন কি? মাত্র দু’জন হলেই যথেষ্ট। দেখিস না, আমাদের বাংলাদেশে ব্যাঙের ছাতার মত কয়েক ডজন সংগঠন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় একটা কিছু। অথচ খবর নিয়ে দেখ, কোন দলে শুধু একজনই মহাসচিবের পদ পেয়ে টেং টেং করছে, অন্য কারো অস্তিত্বও নেই। আবার কোন কোন সংগঠন আছে শুধু ঘরে বসে বসে বিবৃতিই সার-কাজের বেলা ফাক্কা। কিন্তু ব্যবসা ঠিক, রীতিমতই চলছে। অবশ্যই মারাত্মক কিছু সিচুয়েশন ট্যাকল দেয়ার জন্য ডজনচারেক সন্ত্রাসী প্রয়োজন হবে। ওদের জন্য খুব একটা চিন্তা করতে হবে না। মাঝে মাঝে বাসায় ডেকে এনে মালপানি কিছু দিয়ে দিলেই কেইস খতম!
-আচ্ছা তুই যে বললি, বিদেশিরা তাদের আদর্শ-ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি বিক্রয় করছে, তার সাথে দল গঠনের কি কোন সম্পর্ক আছে?
-বলিস কি! আসল মূলধনটাই তো এখানে। আমরা ওদের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করব। রাজি হলে তো টাকার সমস্যাটা মোটামুটি চুকে গেল। আর কি? অবশ্য ওদের টাকাগুলো হালাল করার জন্য মাঝে মাঝে দু’একটা মশাল মিছিল, জঙ্গি মিছিল বের করে পুরানা পল্টন এলাকায় কয়েকটা চক্কর মারতে হবে।
-মিছিলে হাজার হাজার লোক পাবি কই?
-তখন আর সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না! আমাদের হাতে তখন লক্ষ লক্ষ টাকা থাকবে, বস্তিবাসী আর রিকশাওয়ালাদের দশ-বিশ টাকা করে দিলেই দেখবি জীবন নিয়ে ফালাফালি শুরু করবে। অবশ্য লোক বাড়ানোর আরেকটা স্কোপ আছে, সেটা হচ্ছে দু’চারটি সুন্দরী যুবতীকে মঞ্চে আমাদের পাশে রাখতে হবে। আর ওদের দিয়ে মাঝে মাঝে দু’চার চরণ কবিতা আবৃত্তি, পদ্য পাঠ করালে দেখবি লোকের জায়গা সংকুলনই হবে না!
পরের দিন দেখবি পত্রিকার প্রথম পাতায় মশাল মিছিলের ছবি উঠেছে! তোর আর আমার বিবৃতি ছেপেছে! কারণবশত পত্রিকায় না উঠলে গোপনে ওদের সাথে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে আসতে হবে। পত্রিকায় একবার ছবি উঠলেই আমাদের দলটা একটা বিরাট শক্তি হিসাবে জনসম্মুখে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর তোপখানা সড়কে বিরাট একটি জনসভা! যেখানে তুই হবি সভাপতি, আর আমি হলাম একমাত্র প্রধান বক্তা! জনসভার প্রস্তুতির জন্য এর পূর্বে কয়েকটি মশাল মিছিল, জঙ্গি মিছিল-পথসভা আর আমাদের দু’জনের ছবি নিয়ে বিরাট বিরাট পোস্টার-হ্যান্ডবিল আর বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। তারপর মাইকিং…!…আগামী…বুধবার বেলা…টায়…মাইকিং চলবে পুরো ঢাকা শহর। পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন, টিভি নিউজে ধরানোর জন্য দু’একজন টিভি সাংবাদিককে যে কোন মূল্যে হাত করতে হবে!
-কি বলিস! আমাদের নিয়ে টিভিতে নিউজ হবে!! ভেবেতো আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে! বিস্মিত কণ্ঠ মাহ্ফুজের।
-তুই কেন যে ইউনিভার্সিটিতে এতোটা বছর কাটালি!!! এখনও আবালের মতো কথা কস। টিভি নিউজে নাম উঠানো কি এতো কঠিন! এমনি এমনি না উঠলে পল্টন মোড়ে আর জিরো পয়েন্টে আট-দশটা গাড়ি ভাংচুর করলে দেখবি শুধু দেশি টিভি না বিবিসি, সিএনএন, ভয়েস অব আমেরিকার নিউজও হয়ে যাবো আমরা!
খুব উৎফুল্ল মনে হলো মারুফের কণ্ঠটা। কিন্তু মাহফুজ চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো হতাশ কণ্ঠে বলল
-একি বলছিস! ভাংচুর করলে আমাদের জনসমর্থন থাকবে? তাহলেতো যাত্রায় বিলুপ্তি।
-আরে গাধা! আমদেরতো জনসমর্থনের দরকার নেই! আমরা মোটামুটি দু’চারটা ত্রাস সৃষ্টি করে মিডিয়ার কল্যাণে একটা কাগুজে বাঘে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করবো।
-তারপর?
মাহফুজের চোখমুখের কৌতূহলী ভাবটা দেখে মনে হচ্ছে ও আরও শুনতে চায়
-তারপর…! তারপর যখন দেখবো আমরা কাগুজে বাঘে পরিণত হয়ে গেছি, তখন শুরু করবো লবিং!
-কার সাথে? কিসের লবিং?
-পদ-পদবি, পাওয়ার, ক্ষমতার ভাগাভাগি, দেনা-পাওনা!
বলতে বলতে মারুফ মাহফুজের পিঠ চাপড়ে বলে ওঠে
-দোস্ত! তখন তো তুই আর তুই থাকবি না! তুই হয়ে যাবি পলিটিক্যাল আইকন। কথাগুলো শুনে মাহফুজ আশায় যেনো বুক বাঁধে।
-একটু খুলে বলতো! কথাটা যোগ করে মাহফুজ নড়েচড়ে বসল।
-আমরা নির্বাচন এলে বড় বড় দলগুলোর সাথে ঐক্য করার প্রস্তাব দেবো, সরকারকে ভয় দেখাবো। সরকারকে বোঝাবো আমাদের অনেক পাওয়ার, জনসমর্থনও কম নয়। মাঠে ময়দানে টিভি টক শোতে আদর্শের কথা বলবো, নীতির কথা বলবো। কিন্তু আমরা তো জানি, আমাদের উদ্দেশ্য কি? যেদিক থেকে ভালো প্রস্তাব পাবো, আদর্শ-টাদর্শ নীতি-টিতির বুকে লাথি মেরে ঐদিকে ঝাঁপিয়ে পড়বো।
-কোন দিকে? মাহফুজের ছোট প্রশ্ন!
-কোন দিকে আবার! সরকারি দল থেকে যদি অন্তত তোকে আর আমাকে দু’টি আসনে তাদের মার্কায় নির্বাচন করে এমপি বানিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা তখন মন্ত্রীত্ব চেয়ে বসে বিরোধী ঐক্য দলের সাথে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার ব্যপারটা সরকারের সামনে তুলে ধরবো!
মাহফুজের ঠোঁটে বিজয়ের হাসি!
-তারপর দোস্ত…! বল বল!!
-যে দিক থেকে গুড এবং লাভজনক অফার পাবো, সেদিকেই নৌকা ভিড়াবো! বলেই হো হো করে হেসে ওঠে মারুফ।
-তাহলে শেষ পর্যন্ত আমাদের দলের কি হবে?
-ওহ্! দল!! আর্দশের দ্বন্দ্ব লাগিয়ে যার নুন খাবো তার গুণ গাওয়া গোলামে পরিণত করবো! -ওয়াও!! এমন একটা আইডিয়া এতোদিন চেপে রাখলি কেনরে দোস্ত! আমিতো স্বপ্নবিলাসী হয়ে যাচ্ছি কল্পনায়!!
-নিউ ইয়র্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here