print

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বানচালের অঙ্গীকার রুহানির

46

ঠিকানা ডেস্ক : মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বানচালের অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রির ক্ষমতা ইরানের আছে। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে এক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বানচাল করা হবে।

সোমবার (৫ নভেম্বর) অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বৈঠকটি সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

হাসান রুহানি বলেন, আমেরিকা ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনতে চায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমরা বিক্রি অব্যাহত রাখবো।

২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত ৮ মে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সোমবার (৫ নভেম্বর) পরমাণু চুক্তি পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প একে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা হিসেবে আখ্যা দেন। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে নিতে চান বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান সাইবার হামলা, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেওয়াসহ নানা হুমকিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আর এসব তৎপরতা বন্ধের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনাকারী দেশগুলোর ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ নভেম্বর) অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের প্রত্যয় জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা গর্বের সঙ্গে এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করব।’

যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু আখ্যা দিয়ে রুহানি বলেন, ‘আজ শত্রুরা আমাদের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। নিষেধাজ্ঞার মূল শিকার আমাদের জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে চায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে আমরা আমাদের তেল বিক্রি চালিয়ে যাবো।’

যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও অন্যায্য বলে আখ্যা দেন হাসান রুহানি। তিনি বলেন, ‘এটি ইরানের বিরুদ্ধে এক অর্থনেতিক যুদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জানা দরকার যে তারা ইরানের ওপর জোর করতে পারে না। যেকোনও ধরনের চাপ প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত।’

ইরানের ৭০০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জাহাজ ও বিমান এখন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে। এরমধ্যে বড় বড় ব্যাংক ও তেল রফতানিকারক দেশ ও শিপিং কোম্পানিও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী আটটি দেশকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইতালি, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, চীন ও ভারত এই ছাড় পাওয়ার তালিকায় আছে। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও দাবি করেছেন, ছাড় পাওয়া দেশগুলো তাদের তেল রফতানির হার কমিয়েছে। এ রফতানির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আরেকটু সময় লাগবে। তা বিবেচনায় নিয়ে তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here