মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ফজিলত

25

মমতাজ সবুর চৌধুরী

যিনি বিশ্ব জগতের মালিক এবং সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা আল্লাহ রহমানুর রহিম, যাঁর কোন শরিক নেই। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। আল্লাহ তাঁর পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন লও মাহফুজে সংরক্ষিত রেখেছেন (আল কোরআন)। এই পবিত্র কোরআন সর্বপ্রথম নাযিল করেছেন পবিত্র শবে কদর রাতে। তার পর বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে হজরত জিব্রাইল ইসলামের মাধ্যমে এবং আমাদের নবীকূল শিরোমণি হজরত মোহাম্মদ (দ.)-এর নিকট অবতীর্ণ করেছেন।
পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা ও আয়াতে আল্লাহ তায়ালার প্রথমে সিফাত ও গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরিক নেই। তিনি সব ক্ষমতার মালিক। ইহকাল ও পরকালের রাজত্ব তাঁরই এবং তিনি সর্বশক্তিমান। অভিশপ্ত শয়তান হযরত আদম (আ.) এবং মা হাওয়াকে ছলনায় ভুলিয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্যে প্ররোচিত করে। আল্লাহর আদেশ অমান্যের দায়ে আদম (আ) এবং হাওয়া (রা) জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়ে দুনিয়াতে প্রেরিত হন।
যুগে যুগে আল্লাহর আদেশ এবং নবীদের প্রদর্শিত পথ অমান্য করার দরুন বহু জাতি আল্লাহর আযাব এবং গজবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
পবিত্র কোরআন হল মানব জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান ও সঠিক পথ প্রদর্শক। পরিপূর্ণভাবে পবিত্র কোরআনকে আঁকড়ে ধরলে একজন মানুষ পুরোপুরি মুমিন হতে পারবে। তার পথ হারাবার কোন ভয় থাকবে না। আল্লাহ বলেছেন- আমি পবিত্র কোরআনকে মানুষের রোগ মুক্তির জন্য উপায় করেছি। আমাদের নবী (স) বলেছেনÑ সবচেয়ে বড় সুপারিশ আমাদের আল কোরআন, কোন নবী নয়, কোন ফেরেশতা নয়। যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের দশটি আয়াত রাতে পড়বে, সে অনেক ছওয়াবের ভাগি হবে। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত যখন আল্লাহর বান্দা পড়তে থাকে, তখন সূরাটি শেষ হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।
মুসলমানদের কুরআন শুদ্ধভাবে পড়তে হবে এবং তাহবিদ সহকারে খুব সঠিক উচ্চারণে বুঝে বুঝে পড়তে হবে। যদি ভুলভাবে পড়া হয়, তবে ছওয়াবের পরিবর্তে গুণাহ হয়ে যাবে। প্রত্যহ ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য পবিত্র কোরআনের কতগুলো সূরা শুদ্ধভাবে মুখস্থ করা দরকার। এটা কিন্তু ফরজ, অর্থাৎ বাধ্যতামূলক। পবিত্র কোরআন মুখস্থ করাকে ফরজে কেফায়া বলে। যারা পুরো কোরআন মুখস্থ করেন, তারা বড় ভাগ্যবান। তাদেরকে কোরআনে হাফেজ বলে। আল্লাহ রাহমানুর রাহিমের কাছে তাদের স্থান কতটুকু, তা বলে শেষ করে যাবে না। এমন বলা হয়েছে- ছেলে হউক, মেয়ে হউক যারা কোরআনে হাফেজ, তাদেরকে আল্লাহ বেহেস্তবাসী করবেন। তাদের জন্য আল্লাহ রাহমানুর রাহিম বেহেস্ত নির্ধারণ করে রেখেছেন। সেখানে তাদের সুখ আর সুখ! সেই বেহেস্তের সুখের সাথে এই নশ্বর পৃথিবীর সুখের কোন তুলনাই হয় না। সুতরাং যারা দুনিয়ার কিছুদিনের সুখে মগ্ন হয়ে পরকালের সুখকে প্রাধান্য দেয় না, তাদের মতো বোকা আর নেই। সত্যিই তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। আফসোস হয় তাদের জন্য। আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন- যারা কোরআনে হাফেজ, হাসরের দিনে তাদের মা-বাবাকে সোনার মুকুট পরাবেন এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনকে হাসরের দিন বড় দরজা দেবে এবং সবাই তারা আরশের নিচে ছায়া পাবে। কি সৌভাগ্য তাদের! আল্লাহ বেহেস্তবাসীদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানাবেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘সালামুন কাউলাম মির রাব্বির রহিম, অ আমতাজুল ইউমা আয়্যুহাল মোজরেমুন’ অর্থাৎ আল্লাহর সালাম বেহেস্তবাসীদের। দোজখিরা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাও। আমাদের নবী (স) বলেছেন- যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করল, সে এর বিনিময়ে দশটি নেকি লাভ করল। আমাদের নবী (স) আরও বলেছেন, যে পবিত্র কালাম পাঠ করবে, হাসরের দিন তার পিতামাতাকে নূরের টুপি পরাণো হবে, যার জ্যোতি সূর্যের চেয়েও উজ্জ্বল হবে। আল্লাহ বলেছেন, হে বান্দা তোমার বন্ধুর চিঠি যখন তোমার হাতে আসে, তখন তুমি দেরী না করে বার বার পড়তে থাক। অথচ পবিত্র কোরআনে সব কিছুর বিশদ বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও তুমি এর প্রতি যতœবান হওনা। তবে কি আমি তোমার বন্ধুর থেকেও নিষ্কৃষ্ট হলাম।
আল্লাহতায়ালা বলেছেন, কোরআন তেলায়াতের প্রতিদান তোমরা কারো কাছ থেকে চেয়ো না, অর্থাৎ টাকা-পয়সা কারো কাছ থেকে চেয়ো না। কেন না আখেরাতে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে, সেই প্রতিদান অবর্ণনীয়। আল্লাহতায়ালা বলেছেন- ‘তোমরা রাত্রিবেলা আস্তে আস্তে পড়, যা তোমাদেরকে অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে (আল কোরআন)। পবিত্র কোরআন পাঠে যারা পারদর্শী, তাদেরকে আল্লাহতায়ালা শ্রেণীভূক্ত করবে এবং যারা কোরআন আস্তে আস্তে পড়ে তাদেরকে আল্লাহ দ্বিগুণ ছওয়াব দেবেন (বোখারি)। অনেকে কোরআন পড়ে, যখন দেখে কষ্ট হচ্ছে তখন তারা পড়া ছেড়ে দেয়। কষ্ট করে শিখতে পড়তে চায় না। তারপরও যদি কষ্ট করে পড়ে, তাদেরকে আল্লাহ কষ্ট করার বিনিময়ে দ্বিগুণ ছরয়াব দেবেন। কেউ কোরআন পড়া ছেড়ে দিক, আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। পবিত্র কোরআন যারা নিয়মিত পড়েন, তাদেরকে আল্লাহ বেহেস্ত দান করবেন। যারা কোরআনকে অবহেলার চোখে দেখে, তাদেরকে আল্লাহ জাহান্নাম অর্থাৎ তাদের জন্য আল্লাহ দোজখ নির্ধারণ করেছেন।
আমাদের নবী (স) যখন দোজখের দৃশ্য আলোকন করেছেন, তখন তিনি দেখেছেন এক ব্যক্তির মাথায় বিরাট আকারের পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে! তার ফলে তার মস্তক চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মগজ বের হয়ে যাচ্ছে। আবার মস্তক জোড়া লাগাচ্ছে, আবার পাথর মেরে চূর্ণ করা হচ্ছে, আবার জোড়া লাগানো হচ্ছে! আমাদের নবী (স) এ রকম ভয়ঙ্কর শান্তির কারণ জিজ্ঞেস করলে ফেরেশতারা বললেন- এই ব্যক্তি কোরআন শিক্ষা করে ছেড়ে দিয়েছিল। এজন্য তার এ রকম শাস্তি হচ্ছে। কোরআন এত বড় নেয়ামত, কোরআন কেউ অবহেলা করুক, আল্লাহতায়ালা কোনদিনও সহ্য করবেন না। কারণ রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে আল্লাহ আমি তাকে দিনের বেলায় খানাপিনা থেকে বিরত রেখেছি, কাজেই এই বান্দার জন্য আমার সুপারিশ কবুল কর। এবং কোরআন বলবে হে পরওয়ারদিগার তাকে আমি রত্রিবেলায় নিদ্রা হতে বিরত রেখেছি। সুতরাং তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর।
পবিত্র কোরআন যত তাড়াতাড়ি খতম করা যায়, ততই উত্তম। যেমন সপ্তাহে একবার খতম করা সবচেয়ে উত্তম। অনেক ছাহাবী বলেছেন, কমপক্ষে বছরে দু’বার খতম করা উচিত। এর চেয়ে কম করা মোটেই উচিত নয়। আমাদের নবী (স) বলছেন, কেয়ামতের দিনে কোরআন বড় ধরনের সুপারিশকারী হবে। এমন কি কোন ফেরেশতাও নয়, কোন নবীও নয়। মানুষ যখন মারা যায়, তখন পরিবারের লোকজন মুর্দাকে দাফন-কাফনের জন্য তৈরি করে। তখন মৃত ব্যক্তির সিনার উপর এক সুন্দর যুবক হাজির হয় এবং সে মৃত ব্যক্তির সাথে থাকে। লোকজন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে ঘরে ফিরে আসার পরও যুবকটি মৃত ব্যক্তির সাথে থাকে। এ সময় মুনকির-নকির ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে এবং প্রশ্ন করে- তুমি কে? তখন ঐ যুবক উত্তর দেয়- আমি তাঁর সঙ্গী, বন্ধু। আমি আর তাকে ফেলে যেতে পারি না। তখন সে মৃত ব্যক্তিকে বলে, আমি তোমার সেই কোরআন, যা তুমি একবার আস্তে পড়তে, একবার জোরে পড়তে। মুনকির-নকির তখন সেই মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকে। তখন মৃত ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা বেহেস্তে বিছানার ব্যবস্থা করে। সেই বিছানায় মেশক এবং জাফরানের খুশবু ভর্তি থাকে (হাকেম)। আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দার উচিত সময়কে তিন ভাগ করে এক ভাগ আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকা, এক ভাগ ভাল-মন্দ হিসাব-নিকাশে কাটিয়ে দেয়া আর এক ভাগ হালাল উপার্জনে ব্যয় করা।
কোরআন উম্মতের গৌরব। আমাদের নবী (স) বলেছেন- পবিত্র কোরআন হল আমার উম্মতের গৌরব (হেলিয়া)। আমাদের নবী (স) বলেছেন, তোমরা বেশি বেশি করে কুরআন তেলোয়াত কর কারণ তা দুনিয়াতে তোমাদের আলোস্বরূপ এবং আখেরাতের জন্য সঞ্চিত ভাল আমলস্বরূপ।
একটি হাদিসে আছে- যে ঘরে কুরআন তেলোয়াত হয়, সেই ঘর আসমানের ফেরেশতাদের কাছে এমন করে ঝলমল করতে থাকে, দুনিয়ার লোক সকল ঐসব দেখে থাকে। যারা সব সময় কোরআন পাঠ করে, তারা আল্লাহর (বাকি অংশ ৭৬ পাতায়)

মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ফজিলতপরিবারের লোক হয়ে থাকে (নাছায়ী ইবনে মিজান)। সামান্য একটু কষ্ট করলে যে আল্লাহ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, আল্লাহর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ হল আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হওয়া। এর থেকে আর বড় পাওয়া আর কি আছে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, মধুর সুরে আল্লাহর কোরআন পড়। এর প্রতিদান দুনিয়াতে চেয়ো না। এর জন্য পরকালে বিরাট ছওয়াবের ভাগি হবে (বায়হাকী)।
সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আমিনের জন্য। লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম রসূল (স.)-এর প্রতি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবন চলার শ্রেষ্ঠ সাথী হিসাবে কুরআনুল কারিম নাযিল করেছেন। এই কুরআন মানুষের সব বেদনা দূর করে মর্যাদাপূর্ণ ও প্রশান্তিময় জীবন উপহার দিতে পারে। অতএব মানুষের প্রথম কাজ হল এলম অর্জন করা, অর্থাৎ (কুরআন শিক্ষা করা)। পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন (সূরা আলাক্ক, আয়াত-১)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন- কুরআন পড় তারতিলসহ (সূরা মুযাম্মিল, আয়াত ৪)। যে ব্যক্তি আমার কুরআন হতে মুখ ফিরিয়ে থাকবে, তার দুনিয়ার জীবন হবে সংকীর্ণ, কেয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাব। সে বলবে হে আমার রব, দুনিয়াত আমি অন্ধ ছিলাম না। এখানে কেন অন্ধ করে উঠালে? প্রত্যুত্তরে আল্লাহতায়ালা বলবেন- ‘আমার আয়াতগুলো যখন তোমার নিকট এসেছিল, তখন তা ভুলেছিলে, সে রকমই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে আমি সীমা লঙ্গনকাীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।’ এবং আল্লাহ আয়াত অমান্যকারীদেরকে ভুলে থাকে এবং পরকালের আজাব অধিক কঠোর ও স্থায়ী (সূরা তোহা)।
আমাদের নবী (স) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস মুখস্থ করবে এবং মেনে চলবে, তারা বেহেস্তবাসী হবেন ইনশআল্লাহ! (১). আল্লাহর উপর ঈমান আনা; (২). পরকালে বিশ্বাস করা; (৩). ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস করা; (৪). সকল আসমানি কিতাবের উপর বিশ্বাস করা; (৫). সমস্ত নবীদের উপর; (৬). মৃত্যুর পরে আবার জিন্দা হওয়া; (৭). তকদিরের উপর বিশ্বাস করা; (৮). আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ (দ.) আল্লাহর রসুল; (৯). পাঁচ ওয়াক্ত দৈনিক নামাজ পড়া; (১০). জাকাত দেয়া; (১১). রমজান মাসের রোজা রাখা; (১২). সামর্থ থাকলে হজ্ব করা; (১৩). দৈনিক বার রাকায়াত সুন্নতে মোয়াককাদা আদায় করা; (১৪). আল্লাহর সাথে কারও শরীক না করা; (১৫). এতিমের মাল আত্মস্যাৎ না করা; (১৬). মদ-সরাব পান না করা; (১৭). মাতা-পিতার সাথে নাফরমানি না করা; (১৮). জেনা ব্যভিচার না করা; (১৯). আল্লাহর নামে মিথ্যা কছম না করা; (২০). মিথ্যা সাক্ষী না দেয়া; (২১). কারও গীবত না করা; (২২). চোগলখুররি না করা; (২৩). জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ ত্যাগ না করা; (২৪). আত্মীয়-স্বজনের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন না করা; (২৫). সবসময় কোরআন তেলোয়াত করা; (২৬). আল্লাহর আজাবকে ভয় করা; (২৭). রঙ-তামাশায় শরিক না হওয়া; (২৮). বিপদে ধৈর্য ধারণ করা; (২৯). আল্লাহর কেয়ামতকে শুকর করা; (৩০) ছোবহাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বেশি বেশি করে পড়া; (৩১). আল্লাহতায়ালা কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, আমি যাদের এই কিতাব দিয়েছি, তারা যেন যথাযথভাবে তা তেলোয়াত করে। এই কিতাবের প্রতি নিষ্ঠা সহকারে তেলোয়াত করে এবং ঈমান আনে। আর কিতাবের প্রতি নিষ্ঠা সহকারে ঈমান আনে না, এবং কুফরী করে তারা মূলত ক্ষতিগ্রস্থ হয় (সূরা বাকারা ১২১)।
আল্লাহ বলেছেন, রমাদান মাসে পবিত্র কোরআন নাযিল করেছি মানুষের হেদায়েতের জন্য (সূরা বাকারা ১৮৫)। তিনি আরও বলেছেন- আমি পবিত্র কোরআন নাযিল করেছি কদরের রাতে (সূরা কদর, আয়াত ১-৫)। তিনি পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মানুষের পথ প্রদর্শক এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন নাযিল করেছি (সূরা বাকারা ১১৫)। আমাদের নবী বলেছেন- তোমরা সর্বদা নিয়মিত কোরআন পড়তে চেষ্টা কর যেন, কেননা তা পাঠকের জন্য আল্লাহর কাছ সুপারিশ করবে (মুসলিম শরিফ)। কোরআন পবিত্র রমজানে জিব্রাইল ফেরেশতাকে দিয়ে আল্লাহ নাযিল করেছেন। কোরআন হল আমাদের পথ প্রদর্শক। পরিশেষে আল্লাহর কাছে আমার এই আর্জি আল্লাহ যেন আমার সব মুসলিম ভাইবোনদের তছবিদ সহকারে কোরআন পড়ার তওফিক দান করেন। আখেরাতে কোরআনের সুপারিশ পেয়ে যেন জান্নাতিদের কাতারে শামিল হতে পারি। আমিন!
-হিউস্টন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here