নো মোর ক্যাচ এন্ড রিলিজ এখন ক্যাচ এন্ড ডিটেইন্ড

20

এম.এস.হক : ডেমক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট ওবামার কার্যকালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ অভিবাসন নীতিমালা। সেই নীতিমালার আলোকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার মামলার সুরাহা হওয়া পর্যন্ত অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়াদের মুক্তি দেয়া হত এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জীবিকার্জনের সুযোগ পেত। আদালতের রায়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনপত্র নাকচ হয়ে গেলে তাদের ডিপোর্টেশন বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেয়া হত। আর রায় কার্যকরের দায়িত্ব ন্যস্ত হত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের উপর।
রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথেই অবৈধ অভিবাসী এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের উপর নেমে আসে মরণ খড়গ। সীমান্তে জিরো টলারেন্সসহ গ্রহণ করা হয় নানাবিধ অমানবিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োগ করা হয় কঠোর নিয়ম-কানুন। সর্বশেষ, আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের অভিপ্রায়ে সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে ২ হাজার ৭৫০ জন দেশত্যাগীর প্রথম দলটি পদব্রজের পরিবর্তে বিভিন্ন যানযোগে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী টিজুয়ানা নগরীতে পৌঁছার সংবাদে ট্রাম্পের ক্ষোভ এবং উষ্মা চরমে উঠেছে। ১৯ নভেম্বর এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ নয়; এখন থেকে কার্যকর হবে ক্যাচ অ্যান্ড ডিটেইন (ধর ও মুক্তি দাও নয় বরং ধর ও আটক কর) আদেশ।
বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার উদ্দেশ্যে জীবন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রাকারী হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৭৫০ জনের প্রথম দলটি আমেরিকা-মেক্সিসো সীমান্তবর্তী টিজুয়ানা নগরীতে পৌঁছে গেছে। সান ডিয়াগো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সেন্ট্রাল আমেরিকাতে থেকে টিজুয়ানা নগরীতে প্রবেশকারীদের প্রতি মেক্সিকোর মেয়র জুয়ান ম্যানুয়েল গ্যাস্টেলুম অত্যন্ত কঠোর মনোভাব পোষণ করেন বলে জানা যায়। মেয়র গ্যাস্টেলুম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, হাজার হাজার আশ্রয় প্রার্থীর প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর মত আর্থিক সঙ্গতি সীমান্তবর্তী নগর টিজুয়ানার নেই।
গ্যাস্টেলুম আরও বলেন, বিশ্বের কোন সীমান্তবর্তী নগরীর এত ব্যাপক সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর ভার বহনের সামর্থ নেই। তিনি আরও বলেন, টিজুয়ানার উপর এ ধনের বড় বোঝা চাপিয়ে দেয়া হলে তা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি বলেন, এটি টিজুয়ানার জন্য রীতিমত সুনামি। টিজুয়ানার জনগণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের শঙ্কিত।
গ্যাস্টেলুমের কঠোর পদক্ষেপের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, কোর্টের হাজিরার জন্য যে সকল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী অপেক্ষা করছেন বা করবেন তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবেনা। তাদেরকে শুনানী সাপেক্ষে ডিটেনশন কেন্দ্রে আটক রাখা হবে। এদিকে অবৈধ কোন অনুপ্রবেশকারী অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার অজুহাতে যেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ না পায় তা ঠেকানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হাজার হাজার সেনাসদস্য সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী কয়েক শ দেশত্যাগী বাস থেকে নামার পর সীমান্তের নিকটবর্তী মেক্সিকান সাইডের আশ্রয়কেন্দ্রে গমন করেছে এবং লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করছে। সর্দি-কাশি এবং অন্যান্য উপসর্গে আক্রান্তদের চিকিৎসকগণ প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিচ্ছেন। তবে সিঙ্গেল দেশত্যাগীদের বৃহত্তর অংশই টিজুয়ানা বীচে রাত কাটিয়েছে। বীচটি ধাতুর দন্ড দ্বারা স্থানটিকে আমেরিকা বিচ্ছিন্ন বলে জানা গেছে। সান ডিয়াগোর বেশ কিছু সংখ্যক বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট আমেরিকা এবং মেক্সিকোতে বিচ্ছিন্নতাকারী ব্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে এদের প্রতি কড়া নজর রাখছেন।
৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী দেশত্যাগীদের প্রথম দলের বেশ কিছু সংখ্যক সদস্য কয়েক দিনের মধ্যে টিজুয়ানায় পৌঁছেছে এবং প্রতিদিনই তাদের সাথে নতুন নতুন সদস্য যোগ হওয়ায় তাদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। তবে দেশত্যাগীদের বড় গোষ্ঠীটি অদ্যাবধি সীমান্ত থেকে প্রায় ১১ শ মাইল দূরে রয়েছে। তবে সম্প্রতি তারা ট্রাক এবং বাসযোগে প্রত্যহ শতাধিক মাইল পাড়ি দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। আবার ইতোমধ্যে টিজুয়ানায় পৌঁছে গেছে তারা দলনেতা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য তাদের নানা ধরনের শলাপরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চিন্তাভাবনা করছে বলেও জানা গেছে।
ইতোমধ্যে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম ম্যাটিস টেক্সাস সীমান্তে নিয়োজিত আমেরিকান সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদেরকে যুদ্ধ প্রস্তুতির মত অবৈধদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য অনেকেই সীমান্তে সৈন্য প্রেরণ এবং তাদেরকে সর্বক্ষণ যুদ্ধপ্রস্ততি অবস্থা রাখার জন্য সরকারি অর্থের অপচয় এবং নিছক রাজনৈতিক স্টান্ট হিসেবে সমালোচনা করেছেন। সেনাসদস্যগণ সীমান্তের প্রায় ১৫০০ মাইল এলাকা জুড়ে অবৈধদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।
টিজুয়ানা নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন সচিব বলেন, সিটিতে অবস্থান করতে আগ্রহী সর্বোচ্চ ৩ হাজার দেশত্যাগীকে কাজ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নগরের কিছু সংখ্যক বাসিন্দা বীচে ক্যাম্প করে অবস্থান গ্রহণকারীদের খাবার হিসেবে টাকো দিয়েছে বলেও জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের লক্ষে সেন্ট্রাল আমেরিকানরাই সর্বশেষ দেশত্যাগী হিসেবে টিজুয়ানায় পৌঁছেছে। ব্রাজিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে হাজার হাজার দেশত্যাগী হাইতিয়ানকে ২০১৬ সালে টিজুয়ানা আশ্রয় দিয়েছিল। সে সময় থেকে অনেক হাইতিয়ান কাজের সুযোগ পাওয়ায় টিজুয়ানায় বসবাস করছে। অনেকে বিয়ে শাদি করে সেখানে স্থায়িভাবে রয়ে গেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here