নিউইয়র্ক কন্স্যুলেট থেকে পাসপোর্ট গায়েব!

3

ঠিকানা রিপোর্ট : বুলবুল বেগম। একজন বাংলাদেশী। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তা না পেয়ে বিশেষ প্রয়োজনে বাংলাদেশে ট্রাভেলস ডকুমেন্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। বুলবুল বেগমের মেঝ ছেলে পেনসিলভেনিয়াতে বসবাসকারী আয়ান শফিক ঠিকানাকে জানান, আমার মা বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য টিকেট করেছিলেন। তার দেশে যাবার কথা ছিলো ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আমরা এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখি তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ। এই অবস্থায় আমরা জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় ফিরে আসি। বাসায় এসে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অফিসে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য জমা দিই। আমার মার পাসপোর্ট ডিজিটালই ছিলো। সেই সময় আমাকে বলা হয়েছিলো ২ মাস পর পাসপোর্ট আসবে এবং সেই সময় এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য। এক মাস পর আমাকে ফোন করে জানানো হয় আমার মায়ের পাসপোর্ট রেডি। ঐ সময় আমি আমার বন্ধু কবিরুল হাসানকে কন্স্যুলেটে অফিসে পাঠাই। কারণ তিনি নিউইয়র্কে থাকেন। কবিরুল হাসান পাসপোর্টের জন্য গেলে পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার মায়ের পাসপোর্ট নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অফিস থেকে উধাও! এটা কীভাবে সম্ভব? একটি সরকারি অফিস থেকে একজন মানুষের পাসপোর্ট গায়েব হয়ে যাবে? ঐ সময় কন্সাল জেনারেল ছিলেন শামীম আহসান। আমি তার সাথে ই-মেইলে যোগাযোগ করি। তেমন কোন উত্তর পাইনি। নিউইয়র্কস্থ কন্স্যুলেট অফিসে ফার্স্ট সেক্রেটারি শামীম হোসেন পাসপোর্ট খুঁজে না পেয়ে নতুন বাহানা তৈরি করে জানালেন, আপনার মায়ের পাসপোর্টে ফিঙ্গারপ্রিন্টে সমস্যা আছে। সময় লাগবে। আমার মায়ের দেশে যাওয়া জরুরী। তাই কন্স্যুলেট অফিসের পরামর্শে ১৩০ ডলার দিয়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে আমার মাকে বাংলাদেশে পাঠাই ৭ অক্টোবর। তিনি এখন বাংলাদেশের যশোরে আছেন। আমি মনে করেছিলাম শামীম হোসেনের কথা অনুযায়ী পাসপোর্ট পেয়ে যাবো। পাসপোর্ট পেয়ে গেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবো। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি পাসপোর্ট পেলাম না। অনেকবার ফার্স্ট সেক্রেটারি শামীম হোসেনকে আমি ই- মেইল করেছি কিন্তু কোন উত্তর পাইনি। এমনকি ফোন করেও তাকে পাইনি। এ দিকে আমার মার বাংলাদেশে যাবার এক বছর পার হয়ে যাচ্ছে। তার গ্রীনকার্ডের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৮ সাল পর্যন্ত। আমি বার বার ফোন করেও কোন উত্তর পাইনি। যে কারণে সাবেক কন্স্যাল জেনারেল শামীম আহসানকে মেইল দিই। তিনিও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে আমি মামলা করার হুমকি দিই। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর শামীম হোসেন আমাকে ফোন দেন এবং আমাকে ২ দিন পর কল করতে বলেন। আমি কল করে তাকে পাইনি। এরই মধ্যে প্রায় এক মাস পার হতে চললো। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর শামীম হোসেন আমাকে কল করে বলেন, আপনার মায়ের পাসপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। আপনি এসে নিয়ে যান। যেখানে আমার মায়ের গ্রীনকার্ডের মেয়াদ ৭ নভেম্বর শেষ সেখানে আমি পেনসিলভেনিয়া থেকে এসে পাসপোর্ট নিয়ে কী করবো? আমার মার যা ক্ষতি হবার তাতো হয়ে গেল? আমার মায়ের জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আমার মার গ্রীনকার্ডই বাতিল হয়ে যেতে পারে। তিনি ঠিকানাকে বলেন, আমি এখন কী করবো জানি না। চিন্তা ভাবনা করছি, আমি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ ব্যাপারে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের ফার্স্ট সেক্রেটারি শামীম হোসেন গত ২০ নভেম্বর ঠিকানাকে জানান, প্রথমত: পেনসিলভেনিয়া আমাদের অধীনে নয়। কিন্তু অনেক সময় মানুষের অনুরোধে আমরা পার্সপোর্ট নিয়ে থাকি। বুলবুল বেগমের পাসপোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু দিন আগে সাবেক কন্স্যাল জেনারেল এবং বর্তমানে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান আমাকে একটি ই- মেইল দেন। তারপর থেকেই আমি খোঁজ খবর নিতে থাকি। পাসপোর্টটি এখন আমাদের অফিসে আছে। সেপ্টেম্বরে বুলবুল বেগমের যে পাসপোর্টটি জমা দেয়া হয় তা আসতে এত সময় লাগলো কীভাবে- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ঠিক বলতে পারবো না। তবে অনেক সময় নানা কারণে (তথ্য গোপন) ২ বছরেরও বেশি সময় লাগে। পাসপোর্ট জমা দেয়ার এক মাস পর আপনাদের অফিস থেকে জানানো হয়েছিলো বুলবুল বেগমের পাসপোর্ট এসেছে। লোক আসার পর পাসপোর্টটি কেন খুঁজে পাওয়া যায়নি- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না। কাউন্টার থেকে হয়ত কেউ কল করেছিলেন। বুলবুল বেগমের গ্রীনকার্ডের মেয়াদ শেষ আপনাদের গাফিলতির কারণে, এখন কী করবেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকান আইন সম্পর্কে আমরা জানি না, আমাদের করার কিছু নেই বলেই মনে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here