কংগ্রেসে শুনানি, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করতে বাংলাদেশে ‘টার্গেট বেইজড’ মার্কিন অবরোধের সুপারিশ

3

কাউসার মুমিন : মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় সমর্থনপুষ্ট ‘টম-ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশন’ কর্তৃক ১৫ নভেম্বর আয়োজিত ‘ইলেকশন এন্ড হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলায় এবং দেশটির আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ব্যক্তিদের উপর প্রয়োজনে টার্গেট বেইজড অবরোধ আরোপের সুপারিশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের প্রসার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তবে মার্কিন কংগ্রেসের হাতে এ বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে এবং কংগ্রেস চাইলেই ব্যবস্থা নিতে পারে।
কংগ্রেসের বাইপার্টিজান টম-ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশনের রিপাবলিকান দলীয় কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান রেন্ডি হাল্টগ্রেন এবং ডেমক্রেটিক দলীয় কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগোভার্ন আয়োজিত এবং ন্যাশনাল এন্ডোমেন্ট ফর ডেমক্রেসির এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোনা ডেভ-পরিচালিত এই ব্রিফিংয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া এডভোকেসী ডিরেক্টর জন সিফটন, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের পলিসি বিশ্লেষক ওয়ারিস হুসেন, ওয়ার্ল্ডভিশন যুক্তরাষ্ট্রের চাইল্ড প্রটেকশন ও শিক্ষা বিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লরা ব্রামোন। সূচনা বক্তব্যে মোনা ডেভ বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার বিরোধী দলের কর্মীদের আটক করছে, মিডিয়া ও সুশীল সমাজের বাকরোধ করতে চাইছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে মানবাধিকারের জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ায় দেশটির ভূয়সী প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে টার্গেট করছে বাংলাদেশ সরকার। স্বাধীন মত প্রকাশের পক্ষে যারা তাদেরকেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে নাগরিক সমাজকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে উগ্রবাদ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামান্য এক মাসের কিছু বেশি দূরে। এ সময় সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন ব্যাপক অর্থে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব তথাকথিত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। রয়টার্সের হিসাবে ২০১৮ সালের মে ও আগস্ট মাসে ২ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক গুম সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে টার্গেট করা হচ্ছে রাজনৈতিক বিরোধী, ব্লগার, সাংবাদিক ও অন্য মানবাধিকার কর্মীদের।
ঐদিন স্থানীয় সময় সকালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ক এক শুনানীতেও সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তখন ভোটাভুটি চলছে বলেও তার সূচনা বক্তব্যে উল্লেখ করেন মোনা ডেভ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যায়ক্রমিক সহিংসতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও শিশুরা রয়েছে বিপন্ন অবস্থায়। নিয়মিত বৈষম্যের শিকার হন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা। অবৈধভাবে জমি কেড়ে নেয়ার শিকারে পরিণত হন হিন্দুরা। তাদের মন্দির ও বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের সংখ্যা কমে এসেছে। অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, যৌনতা সংশ্লিষ্ট পাচার, শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর সুরক্ষা বিষয়ক কৌশল প্রয়োজন। বিশেষ করে যেখানে শতকরা ৫২ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের কম বয়সে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বলা হয়, এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানবাধিকার নিয়ে বিশ্লেষণ করবেন প্যানেলিস্টরা এবং তারা সুপারিশ করবেন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যক্তিবিশেষের অধিকার, স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে বাংলাদেশকে উদ্বুদ্ধ করতে কি করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা নিশ্চিত করতে কী কী সুপারিশ করা যেতে পারে। ওই আলোচনা বা ব্রিফিং কংগ্রেস সদস্য, কংগ্রেশনাল স্টাফ, আগ্রহী জনগণ ও মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জন সিফটন বক্তব্যের শুরুতেই বলেন , আমাদের বক্তব্য শুনে মনে হতে পারে আমরা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলছি- কিন্তু বাস্তবতা হলো বর্তমান বিরোধী দল যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তখনও আমরা একইভাবে তৎকালীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানিয়েছি -যে কেউই চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে পেছনের পৃষ্ঠাগুলো দেখতে পাবেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই মন্তব্য করে সিফটন বলেন, বিগত সামরিক সরকারের আমলে রুজু করা এমন একটি রাজনৈতিক মামলায় বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে যে ধরণের মামলা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও সামরিক সরকার রুজু করেছিলো ; কিন্তু, ক্ষমতায় এসে নিজের মামলাগুলো বাতিল করে একই মেরিটের মামলায় বিরোধী নেত্রীকে জেলে দিয়ে হাসিনা সরকার মূলত নির্বাচনে সুবিধা পেতে চাইছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিকট কমপক্ষে ১৯ জন ব্যক্তি গুম হওয়ার তথ্যপ্রমান রয়েছে উল্লেখ করে জন সিফটন বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাাব তাদের কয়েকশত সদস্য গুম হয়ে গেছে। বিএনপির প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভুতুড়ে মামলা রয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীর জন্য কংগ্রেস বাংলাদেশ সরকারের অর্থনীতি সেক্টরে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা বাহিনীর ট্রেনিং কিংবা অর্থায়ন পর্যায়ে প্রয়োজনে টার্গেট বেইজড অবরোধের বিবেচনা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ডভিশনের বাংলাদেশ বিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লরা ব্রামন। বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা সহ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের জন্য কংগ্রেসম্যান ম্যাকগভার্ন, কংগ্রেসম্যান হালটগ্রেন ও কমিশন সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দিকে। রাখাইনে চরম সহিংসতার শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব রোহিঙ্গাকে এখন যেভাবে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গারা তাদের জীবন ও নিরাপত্তা ভয়াবহ ঝুঁকিতে বলে মনে করে। এ অবস্থায় তাদেরকে অনিচ্ছায় ফেরত পাঠানো হবে শরণার্থীদের সুরক্ষা বিষয়ক মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক সহিংসতা এখনও এখানে ভয়াবহ। পর্যায়ক্রমে তা শিশুদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে আসে। নির্বাচনী মৌসুমে এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ইভেন্টগুলোর বার্ষিকীগুলোতে শিশুরা যৌন সহিংসতা ও বোমার শিকার হয়ে থাকে। দুঃখজনক হলেও শিশুরা প্রতিদিনই এমন সহিংসতার ব্যাপক শিকারে পরিণত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন নিরপক্ষে মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফোর্সফিল্ড এনএফপি’র সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা ড. রিচার্ড এল বেনকিন। তিনি বলেন, আমরা কি বাংলাদেশের হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মকতার জটিলতার দিকে দৃষ্টি দেবো নাকি ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবো এবং পদক্ষেপ নেবো? তিনি আরো বলেন, রংপুরের ঘটনা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুরা কত আতঙ্কের মধ্যে থাকেন এবং তারা বর্তমান অথবা অন্য কোনো সরকারের কাছ থেকে সুবিচার আশা করেন না। তার ভাষায়, বর্তমান সরকারের কিছু সদস্য আমাকে বলেছেন, আমাদেরকে সময় দিন এবং নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপরই হিন্দুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টি দেয়া হবে। কিন্তু আমার এই অপেক্ষা করার অর্থ হতে পারে কিছুই না। এই সরকার বোঝে যে এটা শুধুই একটি রাজনৈতিক বিষয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আবার জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। এ সময়ে এ বছরে হিন্দুদেরকে একই পরিণতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? বাংলাদেশী কর্মকর্তারা এমন নিশ্চয়তা দিয়ে থাকেন যে, সহিংসতা বন্ধে সব কিছু করা হবে। তবে ‘হিন্দুরা আমাকে বলেছেন তারা আগেও একই রকম কথা শুনেছেন এবং এ বছরও তার কোনো ব্যত্যয় তারা দেখতে পান নি’। ওয়ারিস হুসেন তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৯ সালের শুরুতে নতুন যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তাদেরকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ইসলামপন্থি গ্রুপ হেফাজতে ইসলাম ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার মামলায় শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান করার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সেই ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার সরকার তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এমন দাবির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ছিল হাসিনার সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উপরন্তু সেই হেফাজতে ইসলাম সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মাননা দিয়েছে। তিনি মাদ্রাসা ডিগ্রিকে মাস্টার্স সমমূল্যায়নের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তার এ নীতির জন্য তাকে সম্মাননা দিয়েছে হেফাজত। কিছু সমালোচক বিষয়টিকে দেখছেন এভাবে যে, হেফাজতের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মানে হলো জনগণের রক্ষণশীল অংশের নির্বাচনী সমর্থন পাওয়া। প্যানেল আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে নিউইয়র্কের থিংট্যাংক প্রতিষ্ঠান আর্চার কেন্ট ব্লাড সেন্টার ফর ডেমোক্রেসির নির্বাহী পরিচালক ও এই প্রতিবেদক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর জন সিফটন-এর নিকট জানতে চান, সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মালদ্বীপের নির্বাচনের পূর্বে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে-নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরণের স্টেটমেন্ট বাংলাদেশের বেলায় মার্কিন কংগ্রেস প্রদান করলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে কি না? জবাবে সিফটন বলেন, কংগ্রেস চাইলেই তা করতে পারে এবং এই ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা হলো, বাংলাদেশ সরকারকে আরো পরিষ্কার করে বলে দিতে হবে, তারা যদি ব্যাপক আকারে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অব্যাহত রাখে তাহলে কংগ্রেসের আর কোনো বিকল্প সুযোগ থাকবে না। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ -এই দুই দেশের সেনাবাহিনীর ভবিষ্যত সম্পর্ক ও সহযোগিতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন শাস্তি আরোপ করার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা কংগ্রেস সদস্যদের বিবেচনায় নেয়া উচিত। জন সিফটন আরও বলেন, গ্লোবাল ম্যাকেন্টসী এক্ট -এর আওতায় নির্বাচনে অনিয়মকারী কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারে।’
শুনানীতে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়াও সদ্য বাংলাদেশ প্রস্থানকারী ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৌতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই শুনানী বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলটির যুক্তরাষ্ট্র বসবাসকারী কোনো নেতা কর্মীকে শুনানীতে উপস্থিত দেখা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়া উদ্দীনের নেতৃত্বে দূতাবাসের ৩ কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন ডিসি কেন্দ্রিক আওয়ামীলীগের ৩ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া এডভোকেসী ডিরেক্টর জন সিফ্টনের বক্তব্যের পরপরই রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দীন হলত্যাগ করেন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ডেপুটি চিফ অফ মিশন মাহবুব হাসান সালেহ বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স সংক্রান্ত একটি তথ্যের সংশোধনী দেন এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জেলের বিষয়ে বলেন, সরকার নয় বরং বিচার বিভাগ সাজা দিয়েছে। সরকার কর্তৃক ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here