গেদুচাচার খোলা চিঠি

7

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

হাছিনা বিবি,

চিঠির শুরুতে আপনি দেশ গেরামের লাখো কুঠি পাবলিকের পক্ষ হইতে আমি অধম নাখান্দা নালায়েক গেদুচাচার শতকুঠি ছালাম গ্রহণ করিবেন। আশা করি মহান আললাহ মালিক মোখতারের অশেষ দয়া এক প্রকার ছহি ছালামতে আছেন। আমরাও শাহজী বাবার দোয়ায় কোনোরকমে বাঁচিয়া আছি। প্রতি সপ্তাহের মতো আজও বেশকিছু দরকারি কথাবার্তা লইয়া আপনার সমীপে দুইকলম লিখিতে বসিলাম। আশা করি আগের মতো এই চিঠিখানিও একটু পড়িয়া দেখিবেন। আপনাকে লিখায় আগে অনে কাম-কাজ হইয়াছে। তাই পাবলিক আমাকে দিনে-রাইতে জ্বলাইয়া মারিতেছে।
পর সমাচার হইলো এই যে-
দেখিতে দেখিতে ভোটের সময় ঘনাইয়া আসিতেছে। বিএনপির মাথা-টাথা ঠিক নাই। তাহারা ‘এই দেখিলাম এই নাই তারাবিলে বাঘ নাই টাইপের রাজনীতি’ করে। কখন যে আবার পল্টন বা বঙ্গবন্ধু এভেনিউর মতো ঘটনা ঘটাইয়া-কাইটা পড়ে, সেই চিন্তায় আমাদের বুবলীর মায়ে অস্থির। আগেতো কহিলেন, বহুত এমপি বাদ দিয়া নতুনদের জায়গা দিবেন। এখন যাহা শুনিতেছি, তাহাতে দেখিতেছি আদি-বদিও বাদ যাইতেছেনা। বদিরে বাদ দিয়া বদির বেগমকে দিতেছেন। আমানুরকে বাদ দিয়া তাহার বাপেরে দিতেছেন। এমপির মধ্যে নাকি খালি ২০/২৫ জন বাদ যাইতেছে। তয় মনে রাখিবেন এই পাবলিকদের লইয়া দরিয়া পার হইতে বদর বদর করিয়া হাঁক-ডাক মারিতে হইবে।
জননীগো, যদি এইবারের এলেকশনে পিছন খাইয়া পড়েন, তয় এই দেশ জাহান্নামের চৌরাস্তায় ঢুকিয়া যাইবে। জঙ্গিবাদীরা মাথায় পট্টি বান্ধিয়া ঠিকই নামিয়া পড়িবে। এই সকল খেয়াল-টেয়াল রাখিয়া পথ চলিবেন।
পল্টনের পুলিশের উপর হামলার ঘটনার ভেতরে কোন সিগনাল আছে, তাহা বুঝিবার চেষ্টা করেন। ভোট পর্যন্ত আরও কি ঘটে আল্লাহ মালুম। তাহারা কি লাশ ফেলিবার চেষ্টায় আছিলো? ভোট কি বানচালের মতবলবে আছিলো? এখনও কি তাহাদের নিয়ত-আকিদা ঠিক আছে? না আবার কহিয়া দিবে দলনেত্রীকে ছাড়া তাহারা ভোট করিবেনা। কত রঙ্গ জানে তাহারা কত রঙ্গ জানে। নিজের ঘরে আগুন দিয়া কাছা ধরিয়া টানেবে। নির্বাচনী ইশতেহার কি তৈয়ার করিয়াছেন? তাহাতে দয়া করিয়া ডিজিটাল আইন সংস্কার, ৩৫ বছরে চাকরিতে ঢোকার, মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ ভাগ কোটাসহ সকল বিষয় পরিষ্কার করিয়া কহিবেন।
জননীগো, ১০/২০ বছর পর হয়ত একজন মুক্তিযোদ্ধাও বাঁচিয়া থাকিবেনা। এই কথাটা মাথায় লইয়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট রাখেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি হজ টিম, আপনার বিদেশ সফরে সঙ্গী করা ও অন্তত দুই-চারজন মুক্তিযোদ্ধাকে সংরক্ষিত কোটায় এমপি করা, মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, তাহাদের জন্য ডিজিটাল আইডির ব্যবস্থা করার কথা আপনার ইশতেহারে রাখাটা ভালো হইবে। আর গৃহঋণ না দিয়া এককালীন ১০/২০ লাখ দেওয়ার কথাও স্পষ্ট করিয়া কহিবেন। তাহাদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার করার দাবিও আছে। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-পুতিদের স্কুল-কলেজের ফি কি বাদ করিয়া দেওয়া যায় না? অন্তত দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের, বিষয়টা ভাবিয়া দেখিবেন।
শুনিলাম, এরশাদ চাচার মন ভীষণ খারাপ। তাইনের কাছে নাকি এলেকশন একটা বড় ধরনের ব্যবসা। তাইনে দেড়শত পাবলিককে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ঠিকঠাক করিয়াছেন। তাহারা গড়ে তিন কুঠি করিয়া পার্টির তহবিলে নাকি জমা দিতে পারে।
এইদিকে আমাদের বদি আলম চাচায় কহে রংপুরের বাহিরে জাপাকে লাঙ্গলে ভোট দিলে শতে ৮০ জন ফেল মারিবে। নিজের জনপ্রিয়তায় যদি জিতিতে পারিতেন, তাহা হইলে ড. কামাল চাচারা ‘ধানের শীষ’ লইয়া ভোটে যাইতেন না। এরশাদ চাচাকে কহেন রংপুরের বাহিরে জাপার প্রতীক যেন নৌকা নেন।
বিএনপির ভেতরে নাকি নানান কিছিমের গ্যাঞ্জাম চলিতেছে। বড় নেতারা কহিতেছে কামাল মান্না-রব মনসুর এমন কি নেতা। তাদের ঢুকাইয়া কি লাভ হইলো? কেহতো জিন্দাবাদ মারেনা।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নাকি এইবার অনেক ওলট-পালট করিতেছেন। নতুন মুখ আসিবার কথাও শোনা যাইতেছে। এইদিকে রাউজানে অন্য চিন্তাও করিলেও এখন নাকি আবারও ফজলে করিম চৌধুরীকে দিতেছেন। মনে রাখিবেন, এই জায়গায় ফজল করিম না হইলে দুনিয়ার কেহ গিয়াস কাদেরকে হারাইতে পারিবেনা। এইখানে জাপার জিয়াউদ্দিন বাবলুকে লাঙ্গল নহে, নৌকা দিয়া খাড়া করিলেও তাহার জামানত প্রবলেম হইয়া যাইতে পারে।
চাঁদপুরে নাকি দীপুমনিকে মাইনাস করিবার পরিকল্পনা হইতে সরিয়া আসিয়াছেন। এখনও নাকি নানক আর আবদুর রহমানের মতো দুই যুগ্ম সম্পাদকের প্রবলেম রহিয়া গেলো। ফরিদপুরের বোয়ালমারি-আলফাডাঙ্গায় নাকি আমিন জুয়েলার্সের সিরাজ চাচা মনোনয়ন পাইতেছে। পিরোজপুরে বিএইচ হারুনের জায়গায় অনেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিতে কহিতেছে।
ফেনী-৩ আসনে জাপার মনোনয়নে জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন নাকি ভোট করিতেছেন। তাহাকে লাঙ্গলের বদলে নৌকা দিলে ভোটটাই আপনার জোটের পক্ষে আসিবে। বিপক্ষে আবদুল আউয়াল মিন্টু বা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসের কিন্তু শক্ত ক্যান্ডিডেট। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য লোক হিসেবে এলাকায় খুবই জনপ্রিয়।
বিএনপিতো খালেদা জিয়ার মামলা স্থগিত রাখিয়া তাহাকে জামিন দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করিতেছে। হাইকোর্ট যদি মনোনয়ন দাখিলের আগেই তাহাকে জামিন দিয়া দেয়, কেহ কেহ কহিতেছে এলেকশানের মূল সিনারিওই বদলাইয়া যাইতে পারে।
বিএনপি অভিযোগ করিতেছে, আপনি রিটারিং কর্মকর্তাদের ডাকিয়া কথা কহিয়াছেন। ডিসিরা ঢাকায় আসিলে আপনার সহিত দেখা করে, ইহাই তাহাদের অভিযোগ। তবে এলেকশন-এর কার্যক্রম চলা পর্যন্ত সতর্কতার সহিত এই সকল হ্যান্ডেল করা দরকার।
ঢাকায় ডা. এহতেশাম ইকবাল, হাজী মকবুল আহমেদসহ কিছু নতুন-পুরাতন মিক্সার থাকিলে ভালো হইতো। শুনিতেছি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন মনোনয়ন পাইতেছেন না, আপনি নাকি হাজী সেলিমকে ফাইনাল করিয়া দিয়াছেন।
জননীগো, আমাদের চাঁপাই-নবাবগঞ্জের রহমত আলী আর সিলেটের মুকিত চৌধুরী কহিলো, আপনার নির্বাচনী ইশতেহারর যেন জমিজমার সহজ মিউটেশনের কথা থাকে। মিউটেশন জটিলতায় অনেকে দুই গণ্ডা জমি বেচিয়া মাইয়ার বিয়া দিতে পারিতেছেনা, আর ৩০ বছর মেয়াদি লিজকে স্থায়ী লিজ বলিয়া প্রেসিডেন্ট থাকিতে এরশাদ চাচা যেই অধ্যাদেশ জারি করিয়াছিলেন, তাহা আবার তাজা করিয়া দেন। মওদুদ আহমদ ভূমি জরিপে ইহা বাদ করিয়া বারবার লিজের কথা কহিয়াছে। ৩০ বছরের লিজের জমিতে কিন্তু বঙ্গভবন, মন্ত্রিপাড়া হইতে অনেক অভিজাত অঞ্চল আছে। সেগুন বাগিচার জমি, বাড়ি ও এপার্টমেন্টের মালিকরা খাজনা পর্যন্ত দিতে পারিতেছে না। নির্বাচনকালীন ইশতেহারে ভূমির এই সকল জটিলতা নিরসনের কথাটা লিখিয়া দিবেন।
ভারত, নেপাল, মায়ানমারের পত্রিকায় নানারকম গুজইব্যা খবর বাহির হয়, ইহাদের সাবধান করা দরকার।
আজ আর লম্বা করিলাম না। বিশেষ কি। ইতি-
আপনারই ৬৮ হাজার গেরামের
নালায়েক নাখান্দা অধম
গেদুচাচা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here