স্বামীর হাতেই মরে ৩০ হাজার নারী

4

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : বিশ্বে প্রতি বছর স্বামী বা প্রেমিকের হাতেই গড়ে ৩০ হাজার নারী খুনের শিকার হন। আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন প্রায় ২০ হাজার নারী। এ হিসেবে বিশ্বে দৈনিক গড়ে ১৩৭ (প্রতি ঘণ্টায় ৬ জন) নারী স্বামী, প্রেমিক বা পরিবারের অন্য সদস্যের হাতে খুন হচ্ছেন। গত ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (ইউএনওডিসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এ জন্য ঘরকেই নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভিয়েনাভিত্তিক সংস্থাটি। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এএফপি জানায়, এ বছরের প্রতিপাদ্য হল ‘অরেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড : হ্যাশট্যাগ হেয়ারমিটু’। বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ‘কমলা’ রংকে বেছে নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ দিবসটি উপলক্ষে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) ঘোষণা করেছে। এ প্রচারণার নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউনিটি ক্যাম্পেইন’।
ইউএনওডিসি জানায়, গত বছর বিশ্বে প্রায় ৮৭ হাজার নারী খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০ হাজার অথবা ৫৮ শতাংশ খুন হয়েছেন তাদের স্বামী, প্রেমিক বা নিকট-আত্মীয়ের হাতে। প্রতি ১০ নারীর আটজনই খুন হন তাদের প্রেমিক বা স্বামীর হাতে। ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফিদতভ বলেন, ‘লিঙ্গ অসমতা, বৈষম্য ও নেতিবাচক ভাবনার কারণে হত্যার শিকার বিপুলসংখ্যক পুরুষ, নারীকে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে। তাদের অধিকাংশ খুন হয়েছেন ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের হাতে।’ ‘লিঙ্গ সংশ্লিষ্ট হত্যা বন্ধ ও প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিচার প্রয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের নারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১ দশমিক ৩ শতাংশ হত্যার শিকার হচ্ছেন। ভৌগোলিক হিসেবে আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোতে প্রেমিক, স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে বেশিসংখ্যক নারী খুন হয়েছেন। আফ্রিকায় মোট নারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতি এক লাখে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হত্যার শিকার হন। আমেরিকার দেশগুলোতে এই হার ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ওসেনিয়ায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং এশিয়ায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। তালিকায় খুন হওয়া নারীর হার সবচেয়ে কম ইউরোপে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।
নারীর প্রতি পূর্ণ সম্মান ও শ্রদ্ধাই কেবল সহিংসতা বন্ধ করতে পারে বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত ২৫ নভেম্বর এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি এত পরিমাণে সহিংসতা বাড়ার কারণ হলো নারীদের প্রতি সম্মানের অভাব আর পুরুষরাই এ জন্য দায়ী। কেননা তারা সমাজে নারীদের সমানাধিকার মেনে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এ জন্য নারীদের প্রাপ্য সম্মানটুকু তারা দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘যত দিন নারীরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না, তত দিন নারীদের নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে।’
সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ নারী বিক্ষোভ র‌্যালি করেছেন। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদসহ কয়েক ডজন শহরে হাজার হাজার নারী র‌্যালিতে অংশ নেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা, ইস্তাম্বুলের মতো বড় বড় শহরে হয়েছে হাজারও নারীর বিক্ষোভ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here