অনেক প্রভাবশালী বাদ

6

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি দিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ২৫ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর করা মনোনয়ন ফরম তুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪৩টির বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে ক্ষমতাসীন দল। বাদ পড়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতাসহ অনেকেই।
নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ ফিরোজ চৌধুরী পাবনা-২, মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান মেহেরপুর-২, সরোয়ার জাহান বাদশা কুষ্টিয়া-১; সেলিম আলতাফ জর্জ কুষ্টিয়া-৪; শফিকুল ইসলাম স্বপন ঝিনাইদহ-৩; সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১; মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইল-২; শেখ সারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-২; শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল খুলনা-২; শাহজাহান মিয়া পটুয়াখালী-১; এস এম শাহজাদা পটুয়াখালী-৩; মুহিব্বুর রহমান পটুয়াখালী-৪; জেবুন্নেসা চৌধুরী ও জাহিদ ফারুক বরিশাল-৫; স ম রেজাউল করিম পিরোজপুর-১; তানভীর হাসান টাঙ্গাইল-২; আতাউর রহমান খান টাঙ্গাইল-৩; আহসানুল ইসলাম টিটু টাঙ্গাইল-৬; মুজাহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮; রেজাউল করিম হীরা ও মোজাফফর হোসেন জামালপুর-৫; আশরাফ আলী খান খসরু নেত্রকোনা-২; অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনা-৩; মসিউর রহমান হুমায়ুন কিশোরগঞ্জ-১; নুর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ-২; সালমান এফ রহমান ঢাকা-১; সাদেক খান ঢাকা-১৩; বেনজির আহমেদ ঢাকা-২০; ইকবাল হোসেন সবুজ গাজীপুর-৩; জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন নরসিংদী-৩; মঞ্জুর হোসেন বুলবুল ফরিদপুর-১; মোস্তফা আমির ফয়সল পীরজাদা ফরিদপুর-২; আব্দুস সোবহান গোলাপ মাদারীপুর-৩; ইকবাল হোসেন অপু শরীয়তপুর-১; এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর-২; এম এ মোমেন সিলেট-১; নেছার আহমেদ মৌলভীবাজার-৩; সেলিমা আহমেদ কুমিল্লা-২; মহিবুল হাসান চৌধুরী চট্টগ্রাম-৯; শাহীন আক্তার চৌধুরী কক্সবাজার-৪; ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দীন জলিল জন নওগাঁ-৫; মোজাহেরুল হক প্রধান ঠাকুরগাঁও-১; দীপংকর তালুকদার রাঙামাটি আসনে।
নতুনদের মধ্যে এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু তিনজনই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেন।
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের ছেলে ব্যারিস্টার জনও মনোনয়ন পেয়েছেন বাবার আসন থেকে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনপ্রশাসনমন্ত্রী আশরাফুল ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার আসনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী কৃষিবিদ হুমায়ুনকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের দুই সদস্য শেখ জুয়েল ও শেখ তন্ময় প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন এবার। পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে এস এম শাহজাদাও পেয়েছেন নৌকা মার্কা। আসন সমঝোতার খাতিরে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা ফয়সল।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সালমান এফ রহমান এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ দুজনই ঢাকার দুটি আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। সাবেক এমপিদের মধ্যে দীপংকর তালুকদার এবং মোজাহেরুল হক প্রধান আবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানের আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন যথাক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং সাবেক সচিব ও ব্যাংকার মঞ্জুর হোসেন বুলবুল। নড়াইলে মনোনয়ন পেয়েছেন তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি।
বর্তমান সংসদের এমপিদের মধ্য থেকে বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয় প্রমুখ। বয়সের কারণে নির্বাচন করবেন না বলে সরে দাঁড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নারী প্রার্থীরা হলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ-২ ও রংপুর-৬), মতিয়া চৌধুরী (শেরপুর-২), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪), মাহাবুব আরা বেগম গিনি (গাইবান্ধা-২), ইসমত আরা সাদেক (যশোর-৬), হাবিবুন্নাহার (বাগেরহাট-৩), মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩), জেবুন্নেছা আফরোজ (বরিশাল-৫), সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি (মুন্সীগঞ্জ-২), মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর-৫), জয়া সেনগুপ্তা (সুনামগঞ্জ-২), মমতাজ বেগম (মানিকগঞ্জ-২), সেলিমা আহমেদ (কুমিল্লা-২) ও শাহীন আকতার চৌধুরী (কক্সবাজার-৪)।
দলটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন- রমেশচন্দ্র সেন (ঠাকুরগাঁও-১), সাধনচন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), বীরেন শিকদার (মাগুরা-২), পঞ্চানন বিশ্বাস (খুলনা-১), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১), পংকজ দেবনাথ (বরিশাল-৪), মৃণাল কান্তি দাস (মুন্সীগঞ্জ-৩), অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), রনজিত কুমার রায় (যশোর-৪), স্বপন ভট্টাচার্য (যশোর-৫), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), দীপঙ্কর তালুকদার, রাঙামাটি; বীর বাহাদুর উসৈ সিং (বান্দরবান)।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে গত ২৬ নভেম্বর ২৩০টির মতো আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হয়। গত ২৫ নভেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত খবর নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চিঠি নিয়ে গেছেন। কয়েকজন গত ২৬ নভেম্বর চিঠি নিতে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here