জাকারিয়া বাবু এখন তারকা কোচ

4

স্পোর্টস রিপোর্ট : দেশের ফুটবলে অনেক দিন ধরেই কোচ জাকারিয়া বাবু কাজ করে আসছিলেন; কিন্তু কখনোই তিনি প্রচারের আলোয় ছিলেন না। হঠাৎ করে জাকারিয়া বাবু হয়ে গেলেন দেশের তারকা কোচ। আবাহনীকে ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ট্রফি এনে দেওয়া জাকারিয়া বাবু এখন ফুটবল আলোচনায়। আবাহনীর এমন এক ট্রফি পেয়েছে যেটা রেকর্ডে ভরপুর টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন, হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন, ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ট্রফি (১১ বার) জয়ের খেতাব এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এএফসি কাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন।
জাকারিয়া বাবুর মুঠো ভর্তি সাফল্য। আবাহনীর মতো এত বড় একটি ক্লাবের কোচ হয়েও এতটুকু বদলাননি তিনি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠে কাঁদলেও এতোগুলো সাফল্য হাতেও জাকারিয়া বাবু একটুও বদলাননি। নতুন কোনো পরিবর্তন দেখতে পারছেন না জাকারিয়া বাবু। বলছিলেন, ‘প্রতিদিনের মতোই আমার দিন যাচ্ছে। যেদিন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম সেদিনই চ্যাম্পিয়ন কোচ ছিলাম। এখন নতুন কথা। সামনের কথা। আগামীতে কি করব সেটা নিয়ে আলোচনা।’
বাফুফে যে বার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে প্রত্যেক দলে দুইজন নবীন খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক করে তখনই মোহামেডানে সুযোগ পান জাকারিয়া বাবু। মোহামেডানের ইরানি কোচ নাসের হেজাজী অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলার বাছাই করেছিলেন। সেখান থেকে উঠে এসেছিলেন জাকারিয়া বাবু, নকীবসহ আরো অনেক ফুটবলার। মোহামেডানে এক বছর কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধায় খেলেছিলেন। পালাক্রমে ধানমন্ডি ক্লাব, বাড্ডা জাগরণী সংসদ, ওয়ারী ক্লাবে খেলেছেন। ২০০০ সালে পুরোপুরি ভাবে কোচিংয়ে চলে আসেন তিনি। পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জনক। পুত্র হাসিন বিন জাকারিয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং কন্যা জাসিয়া জাকারিয়া পিএসসি দিচ্ছে।
খেলার কারণে তাদের দিকে তাকাবার সময় পান না বাবা জাকারিয়া বাবু। দুই দিনের ছুটি পেয়ে এখন পুরো সময়টা দিচ্ছেন সন্তানের পরীক্ষায়।
জাকারিয়া বাবুর কোচিং ক্যারিয়ারে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনাল এবারই প্রথম নয়। বিজেএমসিকেও তিনি এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে তুলে এনেছিলেন; কিন্তু দুর্ভাগ্য সেবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। রানার্স-আপের ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফেরা এবার জাকারিয়া বাবু চ্যাম্পিয়নের ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের নিয়ে আবাহনীর বাসটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতর দিয়ে ধানমন্ডি যাচ্ছিল। পথেই থামতে হয়। জাকারিয়া বাবুর দুই সন্তান চার তলা বাসা থেকে পথে নেমে এসে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানায়। ছবি তোলে। বাবার জয় করা ট্রফি স্মরণীয় করে রাখতে তারা ট্রফি নিয়ে ছবি তোলে।
আবাহনী তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছিল তা কঠোর পরিশ্রম করে রক্ষা করতে চান। কারণ আবাহনী বিগত কয়েক বছর বিদেশি কোচদের উপর নির্ভর করে আসছিল। দেশি কোচে অনাস্থায় থাকা আবাহনী আলোচনার বাইরে থাকা জাকারিয়া বাবুকে দায়িত্ব দেয়। সাহসী বাবু চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমে ছিলেন।
স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের প্রস্তুতি নিচ্ছে আবাহনী। সঙ্গে আছে এএফসি কাপ ফুটবলের প্রস্তুতি। জাকারিয়া বাবুর সঙ্গে আবাহনীর পাকা কথা পুরো মৌসুম পর্যন্ত কাজ করবেন; কিন্তু আবাহনী যদি বিদেশি কোচ আনে তখন সাফল্য এনে দেওয়া বাবুর কি হবে। এটা নিয়ে বাবু একটুও চিন্তিত না। জাকারিয়া বাবু রাকঢাক না করে বললেন, ‘আবাহনীতো সব সময় বিদেশি কোচ আনে। এবারও আনতে পারে। আমি এটা নিয়ে ভাবছি না। যতক্ষণ দায়িত্ব আছে আমি সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here