স্বাধীনতা কাপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

এবার বিদেশিদের নিয়ে স্বাধীনতা কাপ

5

স্পোর্টস রিপোর্ট : আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে মৌসুমের দ্বিতীয় আসর স্বাধীনতা কাপ। যদিও চূড়ান্ত সূচি এখনো ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে সম্ভাব্য তারিখ ১ ডিসেম্বর রাখা হয়েছে। সূচি ঘোষণা না হলেও টুর্নামেন্টের ড্র গত ২৫ নভেম্বর বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। ফেডারেশন কাপের মতো এই টুর্নামেন্টেও প্রিমিয়ার লিগের ১৩টি দলই অংশ নিচ্ছে। চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলগুলো পরস্পরের মোকাবেলা করবে। ড্রয়ে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়েছে ফেড কাপে চমকজাগানিয়া দল রানার্সআপ বসুন্ধরা কিংস। ডি-গ্রুপে থাকা দলটির প্রতিপক্ষ শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। ড্র অনুষ্ঠানে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, সদস্য আবদুর রহিম, ফজলুর রহমান বাবুল, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সামনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে আশাস বাফুফের।
টুর্নামেন্টের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ এবার গ্রুপ-এ থেকে লড়বে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সাইফ স্পোর্টিং ও টিম বিজেএমসি। এ ছাড়া বি-গ্রুপে পড়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী, মোহামেডান, রহমতগঞ্জ ও নোফেল স্পোর্টিং, সি-গ্রুপে রয়েছে সদ্যসমাপ্ত ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছে আবাহনী। স্বাধীনতা কাপে আবাহনী সব শেষ চ্যাম্পিয়ন হয় ২০১৪ সালে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল ট্রফি ছাড়াও যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও তিন লাখ টাকা করে প্রাইজমানি পাবে। পৃষ্ঠপোষকতা করছে ওয়ালটন। স্বাধীনতা কাপের ড্র ছাপিয়ে কাল আলোচনায় উঠে আসে ফেড কাপের ফাইনালে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি, মারামারির বিষয়টি। এ ব্যাপারে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘মাত্রই খেলা শেষ হয়েছে। রেফারি রিপোর্ট দেবেন। ভিডিও ফুটেজ দেখা হবে। তার পরও ডিসিপ্লিনারি কমিটি সভায় বসবেন। তবে অনেক দিন পর দর্শকরা প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ একটি ম্যাচ দেখেছেন যেখানে উত্তেজনা, মারামারি সবই ছিল। দর্শকও ছিল চোখে পড়ার মতো। এটাই ফুটবলের পজিটিভ দিক।’
ফাইনাল শেষে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজেন। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে বাফুফের কাছে রেফারির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে সালাম মুর্শেদী জানান, ‘রেফারিংয়ে বিরুদ্ধে কোনো ধরনের চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। তাই আমার মনে হয়, রেফারিংয়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই ক্লাবগুলোর।’

এবার বিদেশিদের নিয়ে স্বাধীনতা কাপ
স্পোর্টস রিপোর্ট : স্বাধীনতা কাপের সপ্তম আসর হয়েছিল ২০১৬ সালের এপ্রিলে। তার পরের বছর টুর্নামেন্টটি আর মাঠেই গড়ানো যায়নি। প্রায় দুবছর পর অষ্টম আসরটি হয় চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে ষষ্ঠ ও সপ্তম আসরের মধ্যেও ছিল একই ব্যবধান। কিন্তু নজিরবিহীনভাবে এবার ১০ মাস পরই আয়োজিত হতে যাচ্ছে আরেকটি আসর। তবে ১ ডিসেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টটি কেবল ২০১৮ সালের দ্বিতীয় আসর হওয়ার কারণেই নয়, বিদেশি ফুটবলার ফেরার কারণেও ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ দিতে সর্বশেষ আসরে বিদেশি খেলোয়াড় না রাখা হলেও এবার সেটি বদলে ফেলা হয়েছে।
কেন বিদেশিদের ফিরিয়ে আনা, এ বিষয়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ও পেশাদার ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, গত বছর স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে হওয়া এই টুর্নামেন্ট কেউ দেখতে আসেনি। জমজমাট খেলাও উপহার দিতে পারেনি কেউ। তাই বাইলজে পরিবর্তন এনে বিদেশিদের খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবারের স্বাধীনতা কাপে সময়ের ব্যাপ্তি ১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর। এর মধ্যে ১১-১৪ ডিসেম্বর হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। চার দিন বিরতির পর ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর দুটি সেমিফাইনাল, তিন দিন পর ফাইনাল। গত ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনের কনফারেন্স রুমে টুর্নামেন্টের যে ড্র অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে গ্রুপ অব ডেথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ডি গ্রুপ। সদ্য সমাপ্ত ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলা বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে পড়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। ফেডারেশন কাপের মতো এখানেও চার দলের গ্রুপের পড়েছে মোহামেডান। সঙ্গে আছে চট্টগ্রাম আবাহনী, রহমতগঞ্জ ও নোফেল স্পোর্টিং। আর ফেডারেশন কাপের শিরোপাজয়ী আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে ব্রাদার্স ও মুক্তিযোদ্ধা। গ্রুপ পর্বে স্বাধীনতা কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরামবাগের মুখোমুখি হতে হবে সাইফ স্পোর্টিং ও টিম বিজেএমসিকে।
গ্রুপ এ : সাইফ স্পোর্টিং, আরামবাগ, টিম বিজেএমসি গ্রুপ বি : মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনী, রহমতগঞ্জ, নোফেল স্পোর্টিং গ্রুপ সি : আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গ্রুপ ডি : শেখ জামাল, শেখ রাসেল, বসুন্ধরা কিংস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here