ভোটের আগে ভয়ঙ্কর সাইবার যুদ্ধ

5

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া রাজনৈতিক দলগুলো মেতে উঠেছে ভয়ঙ্কও সাইভার যুদ্ধে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে। বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সাইবার যুদ্ধের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এক্ষেত্রে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন সেন্টারের (এনটিএমসি) সহযোগিতা নেবে কমিশন। সেইসাথে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ও দেশে চলমান মোবাইল অপারেটরগুলোর (টেলিটক বাংলাদেশ, গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল) সহযোগিতাও নেয়া হবে। আজ সোমবার এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে ইসির।ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইনকিলাবকে বলেন, ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহƒত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।ইসির একজন মেনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার জানান, মোবাইল ফোনের এসএমএসে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিধি ভেঙ্গে আগাম প্রচার, বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৬ নভেম্বর বৈঠকে বসবে ইসি। আইন অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে ভোটের প্রচারের সুযোগ না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেইসবুককে নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারে লাগানো হচ্ছে। এই বৈঠকে ঠেকানোর প্রক্রিয়া ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন এবিষয়ে ইনকিলাবকে বলেন, সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধ বোঝায় না।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাটাই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যার সাহায্যে কম সময়ে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়া যায়। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন। কোন পোস্টে কয়টি লাইক পড়ছে, কতগুলো শেয়ার হচ্ছে- এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) তৈরি হয়। যেকারণে প্রার্থী কিংবা সমর্থকরা এটিকে বেছে নিয়েছে।বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামীর সমর্থকরা। ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত।

এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরণের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এসব গ্রুপ থেকে নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে যেমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে তেমনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিষোদাগার করতেও দেখা যাচ্ছে অনেককে। নিজেদের কর্মকান্ডের প্রচার-প্রচারণার সাথে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণার বিষয়ও লক্ষণীয় এসব পেজে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ফেসবুক পেজের পাশাপাশি টুইটার ও ইউটিউবেও সক্রিয়। এছাড়া তাদের কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে অসংখ্য পেজ খুলেছেন যেগুলো দলের প্রচার-প্রচারণার কাজ করছে। ‘বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী’ কিংবা ‘শেখ হাসিনা-মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনলাইন ফোরাম’- এ ধরণের বহু ফেসবুক পেজ দেখা যায়। বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের মতো বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের ফেসবুকের মাধ্যমে নিজদের প্রচারণার পাশপাশি প্রতিপক্ষের ত্রু টি ও নিজেদের কর্মকান্ড তুলে ধরার নিন্দেশনা রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল ইনকিলাবকে বলেন, নির্বাচনে অনলাইন-বিশেষ করে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবীতে নির্বাচনী প্রচারণা ও খবর আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার জায়গা চরমভাবে সংকুচিত হওয়ার কারণে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here