জোট-মহাজোটে যত পরিবর্তন

4

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৩৩, শরিকদের জন্য ৬২ আসন
দরকষাকষি অব্যাহত, আরও পরিবর্তন হতে পারে
সবচেয়ে বেশি আসন জাতীয় পার্টিকে
ঢাকা অফিস : গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের আরও বেশ কিছু আসনের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে। একইভাবে চূড়ান্ত করে আনা হয়েছে জোটের শরিকদের মনোনয়নও। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মোট ২৩৩টি আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। অন্যদিকে শরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টিকে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা পেয়েছে ৪৪টি আসন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা যায়, আসন নিয়ে মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে দরকষাকষি অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়েও দলীয় শীর্ষপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। বেশ কিছু আসনে মনোনয়নের একাধিক চিঠি দেওয়া হচ্ছে। মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী জানার জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচটি, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকে পাঁচটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু)-কে তিনটি, বাংলাদেশের জাসদ (আম্বিয়া) দুটি, তরিকত ফেডারেশনকে দুটি, জাতীয় পার্টি-জেপিকে একটি আসন দেয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৬২টি আসন মহাজোটের শরিকদের আওয়ামী লীগ দিয়েছে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। শরিকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগেরও আরও কিছু আসনে আসতে পারে রদবদল। যে আসনগুলোয় দুজন করে প্রার্থী দেয়া হয়েছে, তাদের ব্যাপারে আরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। একাধিক সংস্থা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাঠ জরিপে যারা এগিয়ে থাকবেন, তাদের চূড়ান্তভাবে প্রার্থী করা হবে। এমনকি জোট মহাজোটের আসনগুলোয়ও শেষ মুহূর্তে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী রাখা হয়েছে। আবার কিছু আসনে জোটের শরিকদেরও প্রার্থী রাখতে বলা হয়েছে। বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে জয় পাওয়ার মতো প্রার্থীকেই বেছে নেয়ার জন্যই দলটির এ কৌশল।
এ সম্পর্কে গত ২৬ নভেম্বর, সোমবার, বিকালে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা দলের প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছি। জোটের শরিকরাও তাদের প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছেন। সর্বশেষ পর্যালোচনা করে আমরা জোটগত প্রার্থী ঘোষণা করব।
দলীয় সূত্রমতে, সরকারি দল ভোটের হিসাব-নিকাশ কঠিনভাবেই করছে। তিনশ আসনেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব আসনের সর্বশেষ খবর নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এবারের নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না তিনি। সে কারণে ‘বিজয়ী’ হওয়ার মতো প্রার্থীকেই তিনি ভোটের মাঠে রাখবেন। কৌশলগত কারণে কিছু কিছু আসনে জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে যে প্রার্থীর অবস্থা বেশি ভালো তাকেই করা হবে মহাজোটের প্রার্থী।
দলীয় সূত্রমতে, মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির জন্য রাখা হয়েছে ৪৪টি আসন। ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের দেয়া হয়েছে ১৩টি আসন। অন্যদিকে নতুন যুক্ত হওয়া বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকে দেয়া হয়েছে পাঁচটি আসন। এছাড়া জাকের পার্টিকে একটি আসন দেয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

২৮০ আসনে মনোনয়নের ৮০০ চিঠি দিল বিএনপি
ঐক্যফ্রন্ট ১৮, জামায়াত ২৪, এলডিপি ৪, অন্যদের ৬ আসন
মূল প্রার্থী জানতে সময় লাগবে ১০ দিন
ঢাকা অফিস : ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮০টিতে দলীয় মনোনয়নের জন্য ৮০০ প্রার্থীকে প্রত্যয়নপত্র (চিঠি) দিয়েছে বিএনপি। এ নিয়ে গত দুই দিন ও রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ছিল উৎসবমুখর। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়া প্রায় সব আসনেই একাধিক প্রার্থীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো আসনে তিন-চার জনকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয় দলের গুলশান কার্যালয় থেকে। শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দলীয়ভাবে মনোনয়নের চিঠি দিচ্ছে। পরে যাচাই-বাছাই করে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য চূড়ান্ত চিঠি দেয়া হবে। তবে ধানের শীষ প্রতীকের মূল প্রার্থী জানা যাবে ১০ দিন পর।
বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটকে ৫২টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। আরও ৫ থেকে ১০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। যৌক্তিকতা থাকলে ১০টিও ছাড় দিতে পারে দলটি। গত ২৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১৮, ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতকে ২৫, এলডিপিকে ৪, অন্য শরিকদের জন্য ৬টি আসন দেয়া হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের প্রার্থী তালিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
গুলশান কার্যালয় থেকে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়নের চিঠি নেয়া প্রার্থীর মধ্যে অর্ধশত নতুন মুখ। এ ছাড়া ২০ জনের মতো নারী ও ১০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here