আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশীদের উপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ আহত ৪ ॥ গ্রেফতার ৩৯ জন

37

ঠিকানা রিপোর্ট: আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে অক্টোবরের গোড়ার দিক থেকে ৫ সহস্রাধিক সেন্ট্রাল আমেরিকান মেক্সিকো অভিমুখে যাত্রা করেছিল। পায়ে হেঁটে এবং বিভিন্ন যানযোগে এ সকল দেশত্যাগীর মধ্যে প্রায় ২৭০০ ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী টিজুয়ানা নগরীতে পৌঁছে গেছে। এ সকল দেশত্যাগীর মধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক লোক ২৫ নভেম্বর অ্যাসাইলাম প্রসেসিংয়ে গতিসঞ্চারের দাবিতে সান ডিগোর নিকটবর্তী আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে সীমান্ত প্রাচিরের উপর লাফিয়ে উঠে, কেউ কেউ সীমান্তের প্রাচিরের গর্তের ভেতর দিয়ে জোর করে আমেরিকায় ঢুকে পড়ার উদ্যোগ নেয় এবং নানা ধরনের সহিংস কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বেপরোয়া কর্মকান্ড এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলে পরিস্থিতির মোকাবেলায় ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট, কাস্টম অ্যান্ড বর্ডার প্যাট্রোল অফিসার এবং এয়ার ও মেরিন এজেন্টদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী মারদাঙ্গা সাজে সজ্জিত হয়ে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরাও বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের ২জন এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ২ জন সদস্য আহত হন বলে জানা যায়। এ সময় গ্রেফতার করা হয় ৩৯ জন অভিবাসীকে।
বেশিরভাগ গুয়েতেমালার বাসিন্দাসহ সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশত্যাগীদের উক্ত কর্মকান্ডে মেক্সিকান কর্মকর্তাগণ চরমভাবে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। টিজুয়ানার মেয়র জুয়ান ম্যানুয়েল গ্যাস্টেলাম এক টুইট বার্তায় বলেন, কিছু সংখ্যক দেশান্তরীর উগ্র আচরণ ও হিংসাত্মক কর্মকান্ডের দরুন আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনিত ঘটাতে পারি না। তিনি আরও বলেন, দেশত্যাগীর দল আইন অমান্য করছে এবং বর্ডার ক্রসিং বন্ধ করে দেয়ায় টিজুয়ানার যে সকল বাসিন্দা কাজকর্ম-অধ্যয়ন ও পরিদর্শনের জন্য আমেরিকায় যাতায়াত করতেন তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মেক্সিকো কর্মকর্তারা জানান, যে ৫০০ লোক সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে এবং বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে চেষ্টা করেছে তাদেরকে অবশ্যই স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
মেক্সিকোর ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রির পক্ষ থেকে বলা হয় যে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা ও সহিংসতা করে দেশান্তরীরা নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরেছে। তারা সীমান্তে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে এবং তাদেরকে অবশ্যই স্বদেশে প্রেরণ করা হবে।
টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের পক্ষে ট্রাম্প: মেক্সিকো-আমেরিকান সীমান্তে সহিংস দেশত্যাগীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের সপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সান ডিয়াগো-টিজুয়ানা সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আমেরিকার নিরাপত্তার প্রশ্নে হুমকি হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, তারা আমেরিকার অভিবাসন আইনকে ব্যক্তিস্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
ইতোপূর্বে অভিবাসন আইনের ব্যাপক সংস্কার বার বার ব্যাহত হওয়া, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত প্রাচির নির্মাণ কাজে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব, ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসন বিরোধী নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ সর্বোপরি সুপ্রিম কোর্ট চীফ জাস্টিস জন রবার্টসের সাথে মতানৈক্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকান-আমেরিকান সীমান্তবর্তী নগরী টিজুয়ানায় আগমনকারী সেন্ট্রাল আমেরিকার প্রায় ২৭০০ দেশত্যাগীর উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণবিহীন হয়ে পড়লে তবে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে।
থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে মার-এ-লাগোতে সেনাসদস্য এবং সাংবাদিক উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ধীর গতিতে উত্তর অভিমুখে আগত দেশত্যাগী দলের উপর মেক্সিকো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার নিদর্শন পাওয়ামাত্রই সীমান্ত পুরোপুরি গালাসীল করে দেয়া হবে। ট্রাম্প আমাদের যদি ধারণা হয় যে আমরা অবৈধদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছি কিংবা অবৈধরা নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেছে কিংবা আমেরিকার জনগণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ঠিক সে মুহূর্তেই আমরা আমেরিকার এন্ট্রী বন্ধ করে দেব ততদিনের জন্য যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি আমন্ত্রণে নিয়ন্ত্রণে না আসে। ট্রাম্প বলেন, হৌল বা সমগ্র সীমান্ত এবং সমগ্র সীমান্তই বন্ধ করে দেয়ার কথাই আমি বলছি।
জানা গেছে যে সান ইসিড্রোর সর্বাপেক্ষা কর্মব্যস্ত পোর্ট অব এন্ট্রীটি কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন ইতোমধ্যে উত্তর অভিমুখী যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এজেন্সীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল আমেরিকার হাজার হাজার দেশত্যাগীর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । ট্রাম্প নিজেও এ সীমান্তপথ বন্ধের কথা জানালেও স্থায়ী বা অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে উক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না তা বলেন নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে বলেন, সীমান্তে দায়িত্বগ্রহণকারী ট্রুপদের তিনি লেথাল ফোর্স (প্রাণঘাতি শক্তি) প্রয়োগেরও দায়িত্ব দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি এবং মেক্সিকোর ইনকামিং প্রেসিডেন্ট আন্ড্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অবরাডোর মতৈক্যে উপনীত হয়েছেন যে দরখাস্ত পেন্ডিং থাকা অবস্থায় অ্যাসাইলাম প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রাখা হবে। এদিকে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে সেক্রেটারী অব স্টেট পম্পেয়ো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে দেশত্যাগীদের কোন অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আমেরিকার জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বর্ণনানুযায়ী, ওয়েস্টার্ন হেমিসফিয়ারের সর্বাপেক্ষা কর্মব্যস্ত সান ইসিড্রো ল্যান্ড পোর্ট অব এন্ট্রীতে প্রত্যহ প্রায় ৭০ হাজার উত্তর অভিমুখী যানবাহন এবং ২০ হাজার উত্তর অভিমুখী পথচারী প্রসেস করে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here