‘ব্যাপক ইমিগ্রেশন সংস্কার’ নিয়ে ডেমক্রেটিক দলেও বিভক্তি

21

ঠিকানা রিপোর্ট : ‘ব্যাপক ইমিগ্রেশন সংস্কার’ এই তিনটি শব্দ বহু বছর যাবত আমেরিকায় নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতিকে মাতিয়ে রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইমিগ্রেশনকে হাতিয়ার করে বৈতরণী পাড়ি দিতে চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, দেয়াল নির্মাণের জন্য তার রিপাবলিকান দল দরকার। আমেরিকায় কংগ্রেসে ইমিগ্রেশন সংস্কার যুগ যুগ ধরে বিতর্কিত বিষয়। যেমন এ নিয়ে বিলের সূচনা করা হয়। উভয় দল থেকে বিল যাচাই-বাছাই করে কংগ্রেসে পেশ করা হয়। কিন্তু তা পাস করা হয় না। বিল ব্যর্থ হয়ে যায়। উভয় দলের ‘গ্যাং অব এইট’ এর রচিত বিলও বুশের আমলে এবং পরবর্তীতে ওবামার আমলে হালে পানি পায়নি। ওবামার আমলে শিশু বয়সে বা ১৬ বছরের কম বয়সে এদেশে আসা শিশুদের জন্য ড্রিমার আইন করা হয়েছে, তাও ট্রাম্পের আমলে যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে তাতে ব্যাপক ইমিগ্রেশন সংস্কার শব্দ তিনটির গোড়ায় কুড়াল মারা হয়েছে। মনে হচ্ছে ১১৬তম কংগ্রেস বা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে যে সেশন শুরু হতে যাচ্ছে তাতে অবস্থার আরো অবনতি হবে। গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমক্রেটরা ইমিগ্রেশন সংস্কার সম্পর্কে বলছে পরাজয়ের ফাঁদে পা দেয়া বলে মনে করেছে। তারা ইমিগ্রেশন নিয়ে বা দেয়াল নিয়ে তেমন কোনো কথা বলেননি। যতটুকু না বললে নয় ঠিক ততটুকু বলেছে। ইমিগ্রেশন ইস্যু থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে সতর্কভাবে। কারণ ইমিগ্রেশন সংস্কারের বিষয় ডেমক্রেটদের জন্য তেমন আর লাভজনক নয়। তবে বিষয়টা ডেমক্রেটিক শিবিরে দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে। ১১৬তম কংগ্রেসে বিষয়টা আসবে কিন্তু কথার মারপ্যাঁচে তা হয়ে পড়বে অনতিক্রম্য।
গত সপ্তাহে ৩০০ সংগঠনের বেশি ডেমক্রেট নিয়ন্ত্রিত হাউজের কাছে এক পত্রে, শিশুকালে এদেশে আসা ড্রিমারদের জন্য (ডাকা) কর্মসূচি এবং অস্থায়ী প্রটেক্টেড ব্যক্তি যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার নিজ দেশে বা সশস্ত্র সংঘাতে উচ্ছেদকৃত তাদের সিটিজেনশিপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই পত্রে উল্লেখ করা হয়, যদিও লোয়ার কোর্টে এসব প্রর্টেতশনকে এলাকায় মাত্র চালু রাখা হয়েছে, প্রশাসন এসব আদালতের মতামতকে উল্টিয়ে দেয়ার জন্য দ্রুত এগুচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সদস্যদের যথাশীঘ্র বহিষ্কার করার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
কার্যত ‘ডাকা’ রক্ষা করা এবং অস্থায়ীভাবে দেয়া বিভিন্ন দুর্যোগ কবলিতদের আশ্রয় এবং পরিসমাপ্তি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মাসের পর মাস ট্রাম্প প্রশাসনে যতই এসব কর্মসূচির বিরুদ্ধে খড়গ উঠিয়েছে, আদালত তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আর তাতে অনেক ইমিগ্র্যান্ট আজ অত্যন্ত দুর্ভোগ ও সঙ্গিন অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭০০,০০০ লোক ডাকা কর্মসূচিভুক্ত হয়েছে। আর টেম্পোরারি প্রটেকশন স্ট্যাটাসে ৩০০,০০০ এরও বেশি লোক আমেরিকায় কাজের সুযোগ পেয়েছে। যেহেতু এসব অভিবাসীদের ওপর প্রশাসনের চাপ বাড়ছে, কোর্টের আদেশ খারিজের প্রয়াস চলছে। তখন এসব কর্মসূচির পক্ষের এডভোকেটরা শীঘ্রই কংগ্রেসের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে। এসব কথা স্মরণ করে দেয়ার প্রশ্ন উঠছে কারণ ডেমক্রেটরা ইমিগ্রেশন নিয়ে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এ ধরণের যে কোনো আইন প্রণয়ন বছরের পর বছর ধরে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ডেমক্রেটরা এখন হাউজের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। সিনেট রিপাবলিকান দ্বারা পরিচালিত হবে। আর রিপাবলিকানরা ইমিগ্রেশন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। এবং ডেমক্রেট দলের মধ্যেও রয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। প্রগতিশীল দাবিদাররা যখন এক ব্যাপক ইমিগ্রেশন সংস্কারের দাবি করছে তখন মডারেট সদস্যরা আরা বেশি নির্বাচিত ক্ষেত্র বাছাইয়ের পক্ষে। তখন ব্যাপক ইমিগ্রেশন প্যাকেজ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সক্ষম নাও হতে পারে। আর তখন শুধুমাত্র ‘ডাকা’ বা টেম্পোরারি প্রটেকশন স্ট্যাটাস (টিপিএস) নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এসব কর্মসূচি অনেক ঝুঁকির মধ্যে এসবের জন্য ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে। আমেরিকা ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক ফ্রাঙ্ক শ্যারী বলেন, যদি কোর্ট রুলিং দেয় যে, এই প্রশাসন ১০ লাখ লোক ডিপোর্ট করতে পারবে। তাহলে তাকে স্থায়ী সমাধান দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে তা কি এক বড় প্যাকেজ হবে না অধিকতর ছোট প্যাকেজের সংস্কার হবে তা নিয়ে বিশেষ আশাবাদী নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ কী হতে পারে? এডভোকেট সংগঠনগুলো যে আবেদন সই করেছে তাতে দুটো বিলের কথা উল্লেখ করা হয়। একটা হচ্ছে ২০১৭ সালের ড্রিম অ্যাক্ট ও আমেরিকান প্রমিজ অ্যাক্ট। প্রথমটি ‘ডাকা’ সুযোগ গ্রহণকারীদের জন্য সুযোগ এবং দ্বিতীয়টি টেম্পোরারি প্রটেকশন প্রাপ্তদের জন্য। তারা এই দুটিকে একটি প্যাকেজে ফ্লোরে আনার জন্য আহ্বান জানান।
অনেক প্রগ্রেসিভরা বা প্রগতিশীল ডেমক্রেটরা ইমিগ্রেশনকে দুরূহ করে তোলার অদৃশ্য দেয়াল নিরসনের বিষয়ও একযোগে প্রস্তাবে উত্থাপনের কথা বলেন। সিয়াটল ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ওম্যান প্রমিলা জয়পাল কংগ্রেসশনাল প্রগ্রেসিভ ককাসে বলেন, এই ব্যাপক ইমিগ্র্যান্ট রিফর্ম ফ্লাটফর্মে আমি মনে করি সকল ডেমক্র্যাটকে যোগ দেয়া উচিত।
প্রগতিশীল ও আধুনিক ডেমক্র্যাটদের দেখা গেছে ইমিগ্র্যান্ট ইস্যুতে ইতিপূর্বে বিভক্ত হতে। নির্বাচনে ক্যাম্পিং এর সময় প্রগতিশীলরা ‘আইস’কে বাতিল রাখার কথা বলেন। এটা হচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বাস্তবায়ন অস্ত্রকে ভেঙ্গে দেয়ার কথা। কিন্তু কতিপয় ডেমক্র্যাট এই দাবী থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। জয়পাল হচ্ছেন যারা এই ‘আইস’ এজেন্সীর সমাপ্তি চায় তাদেও একজন তিনি উইসকনসিনের প্রতিনিধি মার্ক পোকান সহ এই বিল উত্থাপন করেন। টেক্সাসের নতুন নির্বাচিত কংগ্রেস ওম্যান ভেরোনিকা এসকোবার স্বীকার করেন যে, ব্যাপক ইমিগ্রেশন সংস্কার প্রয়োজন, কিন্তু ডেমক্র্যাট দলের মধ্যে তা নিয়ে বিভক্তি আছে। আগে উচিত কি কি বিষয় নিয়ে ডেমক্র্যাটরা এক হতে পাওে তা নির্ণয় করে, এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘ডেমক্র্যাটদের আশা তারা ঐকবদ্ধ হবার এভিনিউ খুঁজে পাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here