‘উই আর ইন দ্যা সেম বোট ব্রাদার’

প্রসঙ্গ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

5

শামসাদ হুসাম 

লোভ বড় মারাত্মক জিনিস। লোভে পড়ে মানুষ কত যে আকাম-কুকাম করে, তার কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। হিসাব রাখতেও চায় না কেউ। তারপরেও তো লোভের আগুনে নিজেকে অবলীলায় বিসর্জন দেয় কোনো না কোনো মানুষ। যার শেষ উত্তর হলো-মানুষ ফেরেশতা নয়, আর সেই কারণে ভুল করে থাকে মানুষেরাই। সেই যে গন্ধম খাওয়ার শুরু থেকেই মানুষ ভুল করে আসছে। তাই বলে কিন্তু থেমে নেই মানুষের ভুল পথে হাঁটার ইতিহাস।
এটাকে ভুল বলা ঠিক হবে কিনা ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে লোভে পড়ে কাজ করার সজ্ঞায় হয়ত ফেলা যায়। কথা হচ্ছে বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। বিনা বাধায় এক ইঞ্চি জায়গাও ছেড়ে না দেয়ার কথা বলে দেশের বাঘা বাঘা নেতারা ঐক্যফ্রন্টসহ বিকল্পধারার ব্যানারে নির্বাচনের মাঠে এখন কাতারবন্দির ভূমিকায় বসেছেন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের ভিতরে একটা শংকা কাজ করছে। কেউ বলে না দিলেও নেতা-নেত্রীর আচরণ থেকে টের পাওয়া যায় বিষয়টা। যদিও প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় বলেই ফেলেছেন, সকল সুদখোর, ঘুষখোর আর স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
যদিও তার দৃষ্টিতে যিনি সুদখোর- সেই ড. ইউনুস কিন্তু চুপচাপই আছেন। এই পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা শোনা যায়নি কোথাও তাকে।
আর বাকি রইল ‘স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। এই চক্রে ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, বি চৌধুরী, মান্না কিংবা জাফর উল্লাহ চৌধুরীকে ফেলা যায় কিনা সেটা কেবলমাত্র তিনিই জানেন যিনি কথাগুলো বলেছেন। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য দেশের সর্বোচ্চ আসনে বসে যখন কেউ এই ধরনের কথাবার্তা বলেন তখন আমজনতাকে চুপ করেই হজম করতে হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে গুম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চুপই থাকেন জনসাধারণ। এবারকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ‘বিনা বাধায় নাহি দিব সুচাগ্র মেদিনী’। আর এই কারণে ভিন্ন সুর এখন অনেকের কণ্ঠে। বর্তমান সময়কালের দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে বলেই দিয়েছেন কথাটা ‘খেয়াল রাখবেন নির্বাচনে হেরে গেলে কিন্তু কারও পিঠের চামড়া থাকবে না’। এই উচ্চারণের পিছনের কারণ সচেতন মানুষের না বুঝবার কথা নয়-বুঝেছেনও তারা। আর সেই কারণে টিভির স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন বিষয়ক বিজ্ঞাপন প্রচারের নমুনা দেখে অনেকেই মন্তব্য করছেন শেষ পর্যন্ত মোদির দেখানো পথ ধরেই হাঁটছে আমাদের বাংলাদেশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির গত নির্বাচনের আগে তাদের টেলিভিশনে ঐ একই ধারার বিজ্ঞাপন প্রচার হতে দেখা গেছে। সাধারণ জনগণের ওপর অবশ্য টেলিভিশনের একটা জোরালো প্রভাব রয়েছে। আশা করা যায় জনগণ ঐ বিজ্ঞাপনের সাথে কিছু না কিছু পরিমাণে বিশ্বাস আর আস্থার ভরসা রাখবেÑকিন্তু তারপরেও আওয়ামী লীগ যেন ঠিক ভরসা রাখতে পারছে না সাধারণ মানুষের ওপরেই শুধু নয়, দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত বন্ধু দেশ ভারতের চক্রনীতি নির্ধারণীর কেন্দ্রে রয়েছেন যারা তাদের ওপরেও। কারণ দুই হাজার চৌদ্দ সালের পাঁচ জানুয়ারির বাংলাদেশের বিতর্কিত নির্বাচনকে যেভাবে ভারত দ্বিধাহীনভাবে সমর্থন দিয়েছিল ঠিক কি কারণে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় সেই মোদি সরকার এবারকার নির্বাচনে চুপশে যাওয়া বেলুনের মতো নির্লিপ্তের ভূমিকায় রয়েছে মনে হয়। বিষয়টা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে আওয়ামী লীগ সরকার। দুই হাজার চৌদ্দ সালে ভারতের ক্ষমতায় কংগ্রেস ছিল তাই ভরসার মাত্রাটাও ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু এবারকার বিষয়টা ভিন্ন, বিজেপি রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের ভাবাদলে পরিচালিত হচ্ছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে গোপনে আঁতাতের ইঙ্গিত উঠা, অভিযোগ তুলা কিছুটা হলেও সঙ্গত বিষয়। আর ঠিক সেই কারণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে-এখন ভিন্ন সুর-নির্বাচনে হেরে গেলে পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার আতঙ্কে ভুগছেন স্বয়ং তিনিও। অতএব নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া নিয়ে এবারকার বিষয়-আশয় যেন অন্য রকমের। যেকোনোভাবে ক্ষমতাকে ধরে রাখতে হবে। অতএব সরকার দলীয় বড় বড় মানুষদের কাজ কারবারের ধরনও এখন অন্য মাত্রার। টোপ ফেলা হচ্ছে কত রকমের- ইতিমধ্যে চমকের পর চমকও দেখাচ্ছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারণায় ঝাঁকে ঝাঁকে সেলিব্রেটিরা জড়ো হচ্ছেন সরকারি ছত্রছায়ায়। তারমধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, শাকিল খান, জাহিদ হাসান, সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং শমি কায়সারসহ আরো কয়েকজন। তাছাড়া আগে থেকেই ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী মততাজ এবং অভিনেত্রী তারানা হালিম। তারা দুইজন অবশ্য গত সংসদের সম্মানিত সদস্য ছিলেন। আশা করা যায় দল জিতলে আবারো তারাও তাদের আসন ধরে রাখতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে এসব শিল্পী সাহিত্যিক ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে সমানে। এই পর্যন্ত তিনশ আসনের জন্য চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম জমা হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে-অর্থাৎ একটি আসনের বিপরীতে চৌদ্দ জন প্রার্থী। খবরটা বেশ চমকপ্রদও বটে।
তবে চমকের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে গেছে যখন দেশের হেভিওয়েট ক্রীড়াবিদদের এসব মৌলোভীদের কাতারে দাঁড়িয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের খবর নজরে আসে।
আন্তর্জাতিক খেলার অঙ্গনে দেশের যে সকল সোনার ছেলে বাংলাদেশকে একটা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করেছেন আশ্চর্য সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে, তাদের মধ্যে অন্যতম সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা। এই দুইজনকেও দেখা গেল মনোনয়ন সংগ্রহের আশা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ধরনা দিতে। প্রধানমন্ত্রী নাকি সাকিবকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছেন খেলায় মন দিতে। এই তথ্যও প্রকাশিত খবরের বিবরণ অনুযায়ী আমাদের সামনে এসেছে। কিন্তু মাশরাফি বিন মর্তুজা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি নাকি নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ঐ আসনে শুধু আওয়ামী লীগ সদস্যদের মধ্য থেকে আরো পনেরজন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা নিয়ে ফরম কিনেছেন বলে জানা যায়। একটা ফরমের বিনিময় মূল্য ত্রিশ হাজার টাকা, না মাশরাফির জন্য এই টাকা কোন বড় বিষয় নয়-কিন্তু অন্য আর যারা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে একেবারেই আশাবাদী না, তারা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এতগুলো টাকা জলে ফেলে দেয়ার মতো সাহস দেখাতে পারছেন? অবশ্যই সব উদ্দেশের পিছনে কোন না কোন কারণ থাকে। মাশরাফি বিন মর্তুজারও নিশ্চয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পিছনে কোনো না কোনো কারণ রয়েছে। সেই কারণ কী হতে পারে? এতদিন তিনি যে সম্মান নিয়ে মানুষের হৃদয়ের একেবারে মণিকোঠায় অধিষ্ঠিত ছিলেন নির্বাচনে জিতলে কি তিনি তার চেয়েও উঁচু কোন আসনে পৌঁছতে পারবেন বলে ধারণা করছেন? নাকি এতদিন কেবল নিজের যান্ত্রিক পরিবহনের নাকের ডগায় জাতীয় পতাকা উড়াতে পারেননি বলে এতটা আক্ষেপ ছিল সেই আক্ষেপের অবসান ঘটবে তার? নাকি মন্ত্রিত্বের লোভনীয় গদির স্বাদটা খুব কাছ থেকে পাওয়ার বড় ইচ্ছা ছিল, সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটালেন ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যামানের একটা ফরম কিনে বড় জানতে ইচ্ছে করে। আসলে এতটা লোভ না দেখালেও পারতেন মাশরাফি। সাকিব প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে ফিরে গেলেও তিনিও তো লোভ সামলাতে না পেরে ঐ লোভীদের কাতারে সামিল হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এসেছিলেন একসময়ে!
এসব খবরের পাশাপাশি উপমহাদেশের আরো একজন সেলিব্রেটির নাম উচ্চারণ করতে এই মুহূর্তে কষ্ট হচ্ছে খুব। তারপরও নামটা আমার নিতে হচ্ছে-আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের শিল্পীরা তার গানকে কণ্ঠে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অত্যাচারের বিরুদ্ধে শানিত উচ্চারণ-উদ্দীপ্ত করেছেন রাণাঙ্গনে যুদ্ধরত সংগ্রামীদেরকে।
তিনি নিজেও গেয়েছেন তার কালজয়ী সেইসব গান, ‘আমার দুই চোখে দুই ধারা মেঘনা যুমনা’ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ‘এত হাহাকার শুনেও ও গঙ্গা তুমি বইছ কেনো?’ সেই কালজয়ী শিল্পীর নাম ভূপেন হাজারিকা। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল আসামের ভূমিপুত্র ছিলেন। জন্মের পরে দেখেছেন আসাম ঘুরে ক্ষমতাসীনদের তা-বে রক্তের হোলী খেলায় মানুষের জানমাল কি করে অরক্ষিত ছিল, সে কালো কালো শ্রমজীবীদের রক্তে আর ঘামে আসাম একসময় চা সা¤্রাজ্যের অন্যতম পীঠস্থান হয়ে উঠলেও শ্রমজীবী মানুষেরা অমানবিক শোষণের যাঁতাকালে পড়ে তাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠার ঘটনার এই তিনিই কলম ধরেছিলেন। ‘আমায় একটি ভালো মানুষ দাও/যার রক্ত সাদা’। এক সময়ে উচ্চ শিক্ষার আশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এসেছিলেন হাজারিকা। এখানেও দেখেছেন কালো মানুষের ওপর সাদার অত্যাচার। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যিনি নিজেকে সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত করেেিছলেন- সেই শহীদ মার্টিন লুথার কিং এর উত্তরসূরী পল রবসনের সান্নিধ্যের আসার সুযোগ হয় তার। একই মঞ্চে রবসনের সঙ্গেও কণ্ঠ দিয়েছেন হাজারিকা ‘উই আর ইন দ্যা সেম বোট ব্রাদার’। এক সময়ে ফিরে এলেন দেশে, একইভাবে সেখানেই সেই গানেই ভূপেন হাজারিকা, একে একে দাদা সাহেব ফালকে, পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ-সম্মাননায়ও ভূষিত হলেন তিনি। কিন্তু লোভ পিছু ছাড়ল না ভূপেন হাজারিকার। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আপাদমস্তক ডুবে থাকা ঐ মানুষটি তখন লোভের চোরাবালিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ক্ষমতার লিপ্সা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত দুই হাজার চার সালে বিজেপির টিকেট নিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন একজন ভোটপ্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের উস্কানিদাতা, গুজরাট বর্বরতার সমর্থক লালকৃষ্ণ আদভানী ও অটল বিহারী বাজপায়ীর সমান কাতারে নামিয়ে আনলেন নিজেকে তিনি। এতদিন যিনি মানুষের কাছে মানবতার জয়গান গাওয়া এক মানবদরদী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন সেই তার এই অধঃপতন দেখে সারা আসাম অঞ্চল জুরে প্রতিবাদের ঢেউ উঠল। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় পুরো পৃষ্ঠাজুড়ে তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাপানো বিজ্ঞাপন মারফত মানুষ হাজারিকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আবেদন জানালেন শুধু নয়, শয়ে শয়ে যুবক-বৃদ্ধ নিজেদের মাথা মু-ন করে ভূপেন হাজারিকার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন। তার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হলো, কিন্তু তিনি নির্বিকার। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এসব প্রতিবাদের বিরুদ্ধে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে বললেন, আমি কোনোদিন কমিউনিস্ট রাজনীতির অংশীদার ছিলাম না। কিন্তু নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে গেলে যে কমিউনিস্ট হতেই হবে এমন দোহাইতো দেয়নি তাকে সাধারণ মানুষ। কিন্তু ভূপেন হাজারিকা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন সেই নির্বাচনে তার শুধু ভরাডুবিই ঘটল না জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হলো। সেই থেকে লোকচক্ষুর একেবারে অন্তরালে চলে যেতে যেতে পৃথিবী থেকেই বিদায় নিলেন কালজয়ী সেই শিল্পী। গেল পাঁচ নভেম্বর ছিল তার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের পাঁচ নভেম্বর মারা গিয়েছিলেন ভূপেন হাজারিকা। যিনি শিল্পের নান্দনিক ভুবন ছেড়ে রাজনীতির অঙ্গনের সকল ভ্রষ্টাচারী, দুর্নীতিবাজ এবং চিহ্নিত দাঙ্গাবাজদের সহযাত্রীর ভূমিকায় নিজেকে নামিয়ে এনে নিজের বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন অবলীলায়।
নিউইয়র্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here