মৌলবাদী দলগুলোকে থামাতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসের

5

ঠিকানা ডেস্ক : গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হয়ে উঠা মৌলবাদী দলগুলোকে থামাতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। কংগ্রেসের এ সংক্রান্ত এক রেজুলেশনে মৌলবাদী দলগুলোকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের ওপর হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাঙ্কস। এতে তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সাড়া দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পুনরাবৃত্তিমূলক হামলা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুন্ন করে।
রেজুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।
এতে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত-ই-ইসলামি, হেফাজতে ইসলাম এবং অন্যান্য চরমপন্থী দলগুলো বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সহিংসতার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।
রেজুলেশনে জামায়াত-ই-ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, হেফাজতে ইসলামসহ যেসব মৌলবাদী দল দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ তাদের থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারাও যেন জামায়াত-ই-ইসলামি, ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারিত্ব ও অর্থায়ন বন্ধ করে।
মিয়ানমারের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আট লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। তাদের নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রেজুলেশনে বলা হয়, বিগত নির্বাচনগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াত-ই-ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য কাউন্সিলের মতে, এসব ঘটনায় হিন্দুদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৫৮৫টি দোকানে হামলা বা লুটপাট করা হয়েছে, ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১৬৯টি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। এই রেজুলেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here