যারা মিলাদুন্নবী বেদাত মনে করে তারা নবীদ্রোহী

15

ঠিকানা রিপোর্ট: ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে গত ২৪ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি হলে বাদ মাগরিব থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার উদ্যোগে জশ্নে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলের প্রারম্ভে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা ওয়াসিম সিদ্দিকী ও না’ত শরিফ পাঠ করেন ওমর ফারুক ও শাহ সরফরাজ। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহীম মাহমুদের সভাপতিত্বে ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ওয়াসিম সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন বেলরুজ কুইন্সের আল বেলায়েত ইসলামিক সেন্টারের খতিব ডক্টর সৈয়দ শেহজাদ মুস্তফা আল হুসাইনি ও বিশেষ বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন আল্লামা সৈয়দ এহসানুল হক শাহ ও আল্লামা মাকসুদ আহমদ রেজভী। মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন মাহফিলের আহ্বায়ক, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ হেলাল মাহমুদ, মাহফিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাদের, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, সদস্যসচিব সানাউল হক ও কাজী সাইদুর রহমান ।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবী কাজী নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সমাজসেবী জাফর মাহমুদ, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবী আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সমাজসেবী এনাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আজম, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আনোয়ার মুকুল, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, মোহাম্মদ ইসহাক, জালাল আহমেদ, মাঈনুদ্দিন নাসের প্রমুখ।
মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মজিবুর রহমান, মুহাম্মদ ইসহাক, মাহবুবুর রহমান, মুহাম্মদ আলী, কাজী সায়েদুর রহমান, নাসির আহমেদ, মঈনুদ্দীন নাসের, মাসুম চৌধুরী, জালাল আহমদ, নজরুল ইসলাম, মুুমিনুল হক, লাবলু সরকার, মুরাদ মুজাদ্দেদী, বাবুল মিয়া, মাহফুজুল বারী, রুবেল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মুস্তাক আহমেদ, দরদ আহমেদ, শাহ সরফরাজ, দেওয়ান সরকার, রেজাউল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, মুহাম্মদ আলম, আবুল কাশেম, মুহাম্মদ রেজাউল আজাদ ভূইয়া, আবদুল মান্নান, হারুনুর রশীদ, মুহাম্মদ মাহবুব, মাহফুজুল বারী, শেখ রফিকুল ইসলাম, তাইমুর অরোরা, সানাউল হক, মুরাদুল আলম চৌধুরী, শাহীন হাসনাত, মুহাম্মদ শাহিন, ইবরার আহমেদ, ইসরার আহমেদ, রেজাউল হক, মাহবুব আলম, মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ কামাল, নাজির উদ্দিন, মামুন মোল্লা, জাহাঙ্গীর মোল্লা সানি, আলাউদ্দীন ফকির, ওহিদুল আলম, নাজমুল হাসান, লুৎফুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, আসাদ, সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, তারেক চৌধুরী, ফয়সাল আহমেদ ও নাজমুল গনী।
মাহফিলে বিশিষ্ট আলেমবৃন্দ কোরআন সুন্নাহর আলোকে প্রিয়নবীর পবিত্র শুভাগমনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে এ উপলক্ষকে “ঈদ” হিসেবে পালনের জন্য সকল মুসলমানকে আহ্বান জানান। আলেমগণ বলেন, মহান আল্লাহ তা’য়ালা কোরআন শরিফে তাঁর রহমত প্রকাশের উপলক্ষকে খুশীর বিষয় হিসেবে উল্লেøখ করে খুশী উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা মহান নবীর পবিত্র শুভাগমনকে উম্মতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খুশীর উপলক্ষ হিসেবে উল্লেøখ করেন। সৃষ্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উপলক্ষ সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর পবিত্র শুভাগমন। নবীর পবিত্র শুভাগমনের সংবাদ আলোচিত এবং উদযাপিত হয়ে আসছে সর্বকালে। সকল নবী তাঁদের বিশিষ্ট উম্মতদের প্রিয়নবীর পবিত্র শুভাগমনের সংবাদ দিয়েছেন এবং অনেক নবীগণ তাঁর শুভাগমনের ঘোষণা দিয়েছেন যা কোরআন শরিফের অসংখ্য আয়াতে বর্ণিত রয়েছে। তাই যারা মহান মহান প্রিয়নবীর পবিত্র শুভাগমনকে ঈদ বা খুশী মনে করে না, তারা নিজেরা বিভ্রান্ত ও মূর্খ। আর যারা এই উপলক্ষ পালনকে বিদআত মনে করে ও প্রচার করে তারা পথভ্রষ্ট, নবীদ্রোহী ও উগ্রবাদী বাতেল ফেরকা ওহাবীবাদের অনুসারী।
মাহফিলে আলেমগণ বলেন, সাহাবায়ে কেরাম প্রিয়নবীর পবিত্র শুভাগমন ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করেছেন। যাঁরা প্রিয় নবীর শুভাগমন ঈদ বা খুশী হিসেবে উদযাপন করে তারা মূলত: নবীকে পেয়ে খুশী, প্রিয়নবীর উম্মত হওয়ার জন্য খুশী এবং প্রিয়নবীকে প্রাণের চেয়ে ভালোবাসার কারণে খুশী।
এই পৃথিবীতে মহনবীর পবিত্র শুভাগমনের খুশী বা আনন্দের উপলক্ষ সকল ঈমানদারগণ সর্বযুগে পারিবারিক সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদযাপন করেছেন। বিশেষ করে ইসলামী সন গণনার জন্য অন্যতম নির্ণায়ক হিসেবে তাঁর পবিত্র শুভাগমনকে অসংখ্য সাহাবাগণ প্রস্তাব করেন, যদিও প্রিয়নবীর প্রেমের আরেকটি উপলক্ষ পবিত্র হিজরতুন্নবী সাল গণনার জন্য প্রাধান্য পায়। হিজরতের স্মরণ ও নবীপ্রেমে নবীর শুভাগমনের ঈদ বা খুশী একাকার ও হিজরত ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দের অংশমাত্র। অতএব ইসলামের ইতিহাসের সর্বকালে সকল দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দ উদযাপিত হয়ে আসছে এবং অনন্তকাল তা হতে থাকবে।
মাহফিলের আহ্বায়ক সৈয়দ হেলাল মাহমুদ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল দূতাবাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী বাধ্যতামূলক পালনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানান, কারণ বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীতে (সাঃ) রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটি রয়েছে, কিন্তু দূতাবাসগুলো তা পালন করছে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ওয়াসিম সিদ্দিকী সবাইকে নবীপ্রেমে ইসলামের প্রকৃত ধারা আহলে সুন্নাতের পতাকায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত মুক্তি ও সমৃদ্ধির অর্জনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সালাতু সালাম, কিয়াম, বিশেষ মুনাজাত ও তবারুক বিতরণের মাধ্যমে জশ্নে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল সমাপ্ত হয়।­­­­

জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত
ঠিকানা রিপোর্ট: পবিত্র কোরআনে বর্ণিত মহান প্রিয়নবীর মহাপবিত্র শুভাগমন সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে আজম ঈদ আকবার ১২ রবিউল আওয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে গত ২৪ নভেম্বর শনিবার দিবাগত রাত্রিতে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানস্থ কারী ইন এ হারি রেস্টুরেন্ট হলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ম্যানহাটান নিউইয়র্ক শাখার উদ্যোগে “জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও না’ত শরিফ পাঠের মাধ্যমে মাহফিল শুরু হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ হেলাল মাহমুদ, বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা সৈয়দ এহসানুল হক কাদেরী, আল্লামা মকসুদ আহমদ রেজভী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহীম মাহমুদ ও আলোচনা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কুইন্স নিউইয়র্ক শাখার মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ওয়াসিম সিদ্দিকী প্রমুখ।
মাহফিলে সার্বিক সহযোগিতা করেন মুহাম্মদ মুরাদ মুজ্জাদ্দেদী, বাবুল মিয়া, কাজী সায়েদুর রহমান, মুহাম্মদ ইউসুফ, চৌধুরী নবী, সেলিম পাঠান, মুহাম্মদ আলী বাবু, মুহাম্মদ আতিক, আবুল কাশেম, আকবর আলী, মুহাম্মদ সেন্টু, মনিরুজ্জামান মুমিন, সিরাজুল ইসলাম সরকার, দেওয়ান আশরাফুল আলম, মুহাম্মদ নাজের উদ্দীন, মুস্তাকিম বিল্লাহ দুলাল, মাসুদ সিরাজী, মুহাম্মদ আওরান, মুহাম্মদ শফী, মুহাম্মদ শাহীন, মুহাম্মদ রফিক, মুহাম্মদ হাসান, সাইফুদ্দীন খান স্বপন, মুহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ দিদার, মুহাম্মদ ফয়েজ, সরদার আবদুর রব, মোজাম্মেল হক, হাবিব হাসনাত, তৌফিক পাঠান, মুহাম্মদ তৌহিদ, মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ ফখরুল, ছোট্টু মিয়া, শেখ রফিকুল ইসলাম, ইবরার আহমেদ ও ইসরার আহমেদ।
মাহফিলে বক্তাগণ কোরআন ও হাদিসের আলোকে মহান প্রিয়নবীর মহাপবিত্র শুভাগমনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, মহান প্রিয়নবীর শুভাগমন আমাদের জন্য ঈমান, দ্বীন, আমল, কোরআন ও হাদিস পাওয়ার শুভসূচনা। বক্তাগণ আরও বলেন যে আল্লাহ তা’য়ালা সকল নবী নিয়ে “মিসাকের সম্মেলনে” মহান প্রিয়নবীর এ পৃথিবীতে শুভাগমনের ঘোষণা দেন এবং অন্যান্য সকল নবীর জন্য মহান প্রিয়নবীর শুভাগমনের গুরুত্ব ও নবীদের কর্তব্য বর্ণনা করেন (সুরা আল ইমরান)। কোরআন শরিফের অসংখ্য আয়াতে অন্যান্য নবীর মহান প্রিয়নবীর শুভাগমনের ঘোষণা উদ্ধৃত রয়েছে তন্মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম এর উদ্ধৃতি উল্লেখযোগ্য।
বক্তাগণ আরও বলেন যে সারা দুনিয়ায় চৌদ্দশত বছর ধরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহান প্রিয়নবীর শুভাগমনের ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ অগণিত দেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর রাষ্ট্রীয় ছুটিও রয়েছে। শুধুমাত্র ১৯৩২ সালে -সৌদি রাজতন্ত্র ক্ষমতায় এসে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন আরবে ও তাদের প্রভাবে গুটি কয়েক উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশে নিষিদ্ধ রয়েছে, যা ধর্মান্ধ ও মূর্খ কতিপয় গোষ্ঠী ও ব্যক্তিবর্গ হিংসাবশত ধর্মীয় দলিল হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবীর বিপক্ষে প্রোপাগান্ডা করে যাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে বক্তাগণ সকল ঈমানদারদের নবীপ্রেমের প্রকৃত ধর্ম প্রচারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সালাতু সালাম, ক্বিয়াম, মোনাজাত ও কয়েকজন সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর মাতৃ-বিয়োগে ঈসালে সওয়াবের দুয়া ও ফাতিহা পাঠান্তে বিশেষ তবারুক বিতরণের মাধ্যমে “জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল” সমাপ্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here