স্বাস্থ্যের উপর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব

6

ঠিকানা রিপোর্ট: বাতাসে কার্বনের পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়া ছাড়াও নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সূর্যের তাপমাত্রা এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব বিপন্নের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাতাসে কার্বনের পরিমাণ এবং সূর্যের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে বর্তমান শতাব্দীর শেষ দিকে বহু প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে এবং সভ্যতার ধ্বজাধারি মানবগোষ্ঠীকে বহু অনাকাঙ্খিত ও দুরারোগ্য ব্যাধির শিকার হতে হবে। পোনাল্ডে অনুষ্ঠিত আবহাওয়া বিষয়ক কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতৃবৃন্দের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জাতিসঙঘ মহাসচিব এন্টোনিয়ো গুটারেস এই সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেন।
১০ ডিসেম্বর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গুটারেস বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে মেরুদেশীয় বরফের স্তুপ অস্বাভাবিক হারে গলতে থাকবে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেক বৃদ্ধি পাবে, বিশ্বের অনেক দেশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। তাছাড়া প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরমভাবে বিঘিœত হলে মানুষসহ সকল প্রাণি নানাবিধ অনাকাঙ্খিত রোগ-ব্যাধির শিকার হবে, ক্যান্সার ও চর্মরোগের আশঙ্কা কয়েক হাজার গুণ বৃদ্ধি পাবে। গুটারেস আরও বলেন, বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানির কবল থেকে রক্ষার উপায় বের করার চেয়ে আবহাওয়ার উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রতিহতের উপায় উদ্ভাবনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
২ শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রথিতযশা ব্রিটিশ পরিবেশ বিজ্ঞানী স্যার ডেভিড এটেনবরো বলেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চলতি শতাব্দীর শেষ পাদে আমাদের সমাজ-সভ্যতা এবং প্রকৃতি জগতের অস্তিত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। নিত্য-নতুন রোগ-ব্যাধি মানুষের জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি দুর্বিষহ করে তুলবে। তাই কনফারেন্সের পক্ষ থেকে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here