ফেন্টানীল সর্বাপেক্ষা বিপজ্জনক ড্রাগ

6

ঠিকানা রিপোর্ট: আমেরিকান বিশেষত উঠতি বয়সী আমেরিকানদের প্রাণবায়ু ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নীরব ঘাতক হার্ট অ্যাটাকের চেয়েও ফেন্টানীল সর্বাপেক্ষা বিপজ্জনক ড্রাগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ১৭ ডিসেম্বর এ তথ্য পরিবেশন করেছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ বলেন, ফেন্টানীল নামক সিন্টেথিক আফিমযুক্ত পণ্য হেরোইনের চেয়ে কমপক্ষে ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ ২০১৬ সালে ফেন্টানীল ওভারডোজে সমগ্র আমেরিকায় কমপক্ষে ১৮ হাজার ৩৩৫টি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেছে যা অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ওভারডোজ জনিত মৃত্যুর চেয়ে অনেক বেশি। কর্মকর্তাগণ বলেন, আগে হেরোইনকে বলা হয় ১ নম্বর কিলার ড্রাগ। অথচ বর্তমানে ফেন্টানীল হেরোইনকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ বলেন, ২০১৬ সালে হেরোইন ওভারডোজে ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছিল ১৫ হাজার ৯৬১ জন আমেরিকানের।
ডেথ সার্টিকিটের বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ নিশ্চিত হন যে বিগত ৫ বছরে আমেরিকায় ফেন্টানীল ওভারডোজ জনিত মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ বলেন, ফেন্টানীল ওভারডোজে আমেরিকায় ২০১১ সালে পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছিল ১ হাজার ৬০০ আমেরিকানের; ২০১২ সালে মারা গিয়েছিল ২ হাজার ১১ জন। অন্যদিকে ২০১৩ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৯১৯; ২০১৪ সালে ৪ হাজার ২২৩ এ। আর ২০১৫ সালে তার একলাফে দ্বিগুণ বেড়ে হয় ৮ হাজার ২৫১। আর ফেন্টানীলের হাতছানিতে প্রলুব্ধ হয়ে অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব প্রিন্স, টম পেটী, সাবেক ব্যান্ড সদস্য জে বানেট এবং র‌্যাপার লিল পীপ ও ম্যাক মিলার।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ আরও বলেন, বিগত দশকগুলোতে আমেরিকায় ড্রাগ ওভারডোজ জনিত মৃত্যুর সংখ্যা অভাবনীয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে সমগ্র আমেরিকায় ওভারডোজে মৃত্যু ঘটেছিল সর্বমোট ৪১ হাজার ৩৪০ জনের। অন্যদিকে ২০১৬ সালে তার বেড়ে হয়েছে ৬৩ হাজার ৬৩২। ড্রাগ ওভারডোজে মৃত্যুর বিচারে ২০১১ সালে প্রধান ঘাতক ড্রাগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল অক্সিকডোনকে। অথচ ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অক্সিকডোনের স্থান দখল করেছে হেরোইন। আর ২০১৫ এর পরবর্তী সময়ে সর্বাপেক্ষা প্রাণঘাতি ড্রাগের স্থানটি দখল করে নিয়েছে ফেন্টানীল।
প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৬ সালে সমগ্র আমেরিকায় ড্রাগ ওভারডোজে মৃত্যুর ২৯% ঘটেছিল ফেন্টানীল ওভারডোজে। আর ভয়াবহতা বা প্রাণ ছিনিয়ে নেয়ার বিচারে প্রধান ১৫টি ঘাতক ড্রাগের দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে রয়েছে কোকেইন। ২০১৪ সালে আমেরিকায় কোকেইন সেবনে মৃত্যু হয়েছিল ৫ হাজার ৮৯২ জনের। আর ২০১৬ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৩১৬। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ আরও বলেন, ফেন্টানীল বা কোকেইন ওভারডোজে মৃত্যুও ৭০% ক্ষেত্রে ফেন্টানীল ও কোকেইনের কমপক্ষে একটি ড্রাগ মিশানো হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here