ইমিগ্রেশন নিয়ে ২০১৮ সাল ছিল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বছর

6

মঈনুদ্দীন নাসের : ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের কোনো কিছুই এগোয়নি। কিন্তু তার প্রশাসন এমন সব পরিবর্তন সাধনে লিপ্ত যাতে আমেরিকায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চরম সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে। যখন ট্রাম্পের ট্রাভেল ব্যান বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদেশ সুপ্রীম কোর্টে বহাল রাখার নির্দেশ দিল তখন ট্রাম্প তার বিজয় হিসেবে তা উদযাপন করছে এবং আমেরিকানরা একই সময়ে এই গ্রীষ্মে তার পরিবার পৃথকীকরণ নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইত্যবসরে আমেরিকান ইমিগ্রেশন এজেন্সি চুপিসারে ইমিগ্রেশন অ্যাক্টিভিস্ট ও এটর্নিদের জন্য এক শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তাদের দেয়া এক মেমো বিদঘুটে এবং জটিল। এই ঘোষিত নীতি আরও কয়েক মাস কার্যকর হবে না। আমেরিকা কি অবৈধ ইমিগ্রেশন সংকটে আছে? সীমান্ত পেট্রোল ডাটা অন্য কিছু বর্ণনা করে। এবং যখন এটা এক মৌলিক পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে তখন কীভাবে একটি প্রধান ইমিগ্রেশন এজেন্সি অপারেশন চালায়, তা জনগণের গোচরে আরও জটিল করে তোলে।
আমেরিকার সকাসের ব্রিফিং : আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স এসোসিয়েশনের (আইলা) সরকারি সম্পর্কের পরিচালক গ্রেগরী চেন গার্ডিয়ানকে বলেছেন যে, এটা নিঃশ্বাস বন্ধ করার মতই বিষয় যে, কীভাবে মাত্র দুই বছর মেয়াদে এই প্রশাসন এমন আশার উদয় করেছে ইমিগ্র্যান্টরা কোন প্রকার বৈধ সুযোগ গ্রহণ করতে পেরেছে। এই পরিবর্তন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সকল বিষয়কে আহত করেছে। মানবতার মানবিক গুণাবলী যেভাবে মার খেয়েছে, তাতে দেখা যায় পরিবার পৃথকীকরণ ও তথাকথিত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এইচ ওয়ান বি ভিসাধারীদের স্ত্রীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের ব্যবস্থাও করেছে।
সীমান্ত দেয়াল নিয়ে এই প্রেসিডেন্ট মিডিয়াকে এত কথা বলেছে, তেমনি তার প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এক অদৃশ্যমান দেয়াল নির্মাণ কর্মকর্তাদের সকল পলিসিধারীরাও তারা এক অদৃশ্যমান দেয়াল নির্মাণ করছে।
আইলা থেকে প্রাপ্ত খবরে দেখা যায় প্রশাসন যখন দেয়াল নিয়ে কথা বলছে, তখন অনেক দেয়াল এমনিতেই রচিত হয়েছে যে, তাতে দেখা যায় এমনকি এইচ ওয়ান বি ভিসাধারীর স্ত্রীদের কাজ করার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। গ্রেগরী চেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সীমান্ত দেয়াল নিয়ে কথা বলছেন একদিকে আর অন্যদিকে অদৃশ্য দেয়াল রচিত হয়েছে অনেক বেশি। নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে যে সব ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে তা দেখলেই এর পরিমাপ কত বোঝা যাবে।
– মধ্য আমেরিকার কয়েক ডজন লোক সীমান্তের দিকে আসলে এই আমেরিকান সরকার ব্যস্ততম ভূমি সীমান্ত ৫ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়।
– ডিপার্টমেন্ট সব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেনাবাহিনীকে তাদের সদস্যদের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। তখন সেনাবাহিনী সীমান্তে ৩০০০ সৈন্য প্রেরণের জন্য ৭২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ফেলেছে।
– ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি পুলিশদের সীমান্তে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
– এক ফেডারেল বিচারক আমেরিকার সরকারের এসাইলাম নিষেধাজ্ঞা বলবত করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ সরকারের অনুরোধ বৈধ বলে প্রতীয়মান হয়নি।
– অপর এক বিচারক রুল জারি করেছেন যে, কোনো স্টেট বা সিটি ‘সাঙ্কচুয়ারি সিটি’ হিসেবে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে ফেডারেল ফান্ড পাওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে বাধ্য নয়।
– ট্রাম্প কাগজপত্রহীন ইমিগ্র্যান্টরা ফেডারেল সহায়তা পায় বলে মিথ্যা টুইট করেছেন।
– প্রস্তাবিত এক ইমিগ্র্যান্ট বিধির জন্য বাল্টিমোর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
– আমেরিকান স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ ওয়াচডগ বলেছে টিন মাইগ্রেন্ট সেন্টারের স্টাফদের যথাযথভাবে বাছাই করা হয়নি।
– পিউ গবেষণা রিপোর্টে দেখা যায় ২০০৪ সালের পর কাগজপত্রহীন ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা আমেরিকায় সবচেয়ে কম।
– ২০১৭ সালে অবৈধবলে ডিপোর্টেড এক নার্স ভিসা নিয়ে বৈধভাবে আমেরিকা ফিরে আসেন।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের সিনিয়র ডাইরেক্টর অসু যোশী বলেন, প্রশাসনিকভাবে এত সব পরিবর্তন যে হচ্ছে তাতে মনে হয় প্রশাসনের তেমনি কোন জবাবদিহিতা নেই।
জোশী বলেন, যে বিষয়টি সবচেয়ে আহত করেছে তা হলো এসব ব্যবস্থা জনজীবনে কীভাবে প্রভাবিত করছে নেতিবাচকভাবে। ইমিগ্রেশন এডভোকেট ও এটর্নিদের জনগোষ্ঠী থেকে আগ্রহ সৃষ্টির প্রয়াস ছাড়াও দেখা যায় এসব পরিবর্তন অনেক বেশি আমলাতান্ত্রিক। গত অক্টোবর মাসে আমেরিকায় সিটিজেনশীপ ও ইমিগ্রেশন সার্ভিস তার ক্ষমতাকে এমনভাবে বাড়িয়েছে যে, গ্রিনকার্ড কিংবা মানবিক ভিসার আবেদন সংক্রান্ত কোন ইমিগ্রেশন বেনিফিট প্রত্যাহৃত বলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোর্টে হাজির করাতে পারবে।
এমনকি এক হিউম্যান ট্রাফিকিং ভিকটিম তার ভিসা আবেদনে একটি ডকুমেন্ট দেয়নি বলে তা সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে তাকে ডিপোর্টের আদেশ দিয়েছে।
যোশী বলেন, এসব মেমো হাজারো ঘটনার মাঝে তেমন কোনো প্রচার পায়নি। যাতে মানুষ এদেশে নিরাপত্তা খুঁজে পায়। যোশীর মতো যারা সাংঘর্ষিক ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করেন, তারা সব সময় আইনের আশ্রয় নিয়ে থাকে।
এক সময় আমেরিকান সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন নির্ধারিত পোর্টের বাইরে গিয়ে এসাইলাম চাওয়া বন্ধের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ৪২৯ পিতা-মাতার পক্ষে তাদের শিশুদের জোর করে জিরো টলারেন্স নীতির মাধ্যমে পৃথকীকরণের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নভেম্বর মাসে কোর্ট ড্রিমারদের পক্ষে এক রুল জারি করেন।
যোশী সাবধান করেন যে, এই ড্রিমারদের মামলার ৯ বিচারকের সুপ্রীম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবেন, যাদের মধ্যে ২ জন ট্রাম্প নিযুক্ত। তিনি বলেন, কোর্ট প্রয়োজনীয়, কিন্তু কোর্টের উপর নির্ভর করা কঠিন। অবশ্য জুন মাসে ট্রাভেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
ট্রাম্প তার সীমান্ত দেয়ালের জন্য ফান্ড না পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ফেডারেল ফান্ডিং শাট ডাউন করেছেন। কিন্তু ২০১৯ সালে অদৃশ্য দেয়াল প্রশাসনিক কাজকে মঞ্জুর করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here