মহাজোটের ভূমিধস বিজয়ে আমেরিকায় উৎসব

5

ঠিকানা রিপোর্ট: গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিস্ময়কর রেকর্ড বিজয় অর্জন করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনটি ছিলো বিতর্কিত। সেই নির্বাচনে প্রথম বারের মত ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। যে কারণে এই নির্বাচন দেশে এবং প্রবাসে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলো। প্রশ্ন উঠেছিলো। নির্বাচন ছিলো না গ্রহণযোগ্য। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৫ বছর নির্বিঘেœ ক্ষমতায় ছিলো। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক সময় শঙ্কার জন্ম দিলেও শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিকে শিকেয় তুলে। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকে আন্দোলন হিসাবে নেয়। স্লোগান ছিলো ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট জয় লাভ করবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়। নির্বাচনে মহাজোট ভূমিধস বিজয় অর্জন করেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন, ঐক্যফ্রন্ট ৭ এবং অন্যান্য ৪ আসন।
মহাজোটের এই বিজয়ে দেশের ন্যায় প্রবাসেও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিজয় উৎসবের আয়োজন করে। গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ডাইভার সিটি প্লাজায়, স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে খাবার বাড়ি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, বিকেলে আওয়ামী লীগের আরেক অংশের উদ্যোগে খাবার বাড়ি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যামাইকা, ব্রঙ্কস, ওজনপার্ক, ব্রুকলীন এবং বিভিন্ন স্টেটে আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিজয় উৎসবের আয়োজন করেন।
জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রতাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুনের পরিচালনায় বিজয় উৎসবের মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, শামসুদ্দিন আজাদ, লুৎফুল করিম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র যুব লীগের আহবায়ক তরিকুল হায়দার চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সিব্বির আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কপিল উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবল দেব নাথ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আর আমিন, মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, মজিবুল মাওলা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্ররীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিমুল হাসান প্রমুখ। প্রথমে সভাপতি প্রতিটি সংগঠন থেকে একজনের বক্তব্যের কথা বললেও, কোন সংগঠনের ২ জনকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। সেই সুযোগ গ্রহণ করেন শিমুল হাসান। তর্ক বিতর্ক শুরু করলে তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করতে থাকেন বেশ কয়েকজন। উত্তেজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সভাপতি ও অন্যান্যরা তা প্রশমনের চেষ্টা করেন। একজন তো বলতে থাকেন আমাদের বিজয়কে আজকে কলঙ্কিত করবেন না। এ সময় বেশ কয়েকজন মহিলা অনুষ্ঠানে থাকলেও তারা চলে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবারো বক্তব্য পর্ব চলতে থাবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, এই মাসে আমাদের দুটো বিজয় অর্জিত হলো। একটি বিজয় ১৬ ডিসেম্বর। আরোটি বিজয় আজ ৩০ ডিসেম্বর। ১৬ ডিসেম্বর আমরা দেশ পেয়েছি এবং ৩০ ডিসেম্বর দুর্নীতি, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ পেয়েছি। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, সকল অঙ্গ সংগঠন এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
এম এ সালাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশের জনগণের বিজয়, এ বিজয় বাংলাদেশের উন্নয়নের বিজয়, এ বিজয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিজয়, এ বিজয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয়, এ বিজয় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিজয়, এ বিজয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। তিনি বলেন, এ বিজয় ধরে রাখতে হলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করতে হবে।
সৈয়দ বশারত আলী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বিজয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিজয়। তিনি বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশ থেকে স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি- জামাতকে বঙ্গপোসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
লুৎফুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর সেনা শাসক জিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নি:শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকেই নি:শেষ করে দিয়েছে।
সিব্বির আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাত- বিএনপি এখনো ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
শাখওয়াত বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়, এই বিজয় বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের বিজয়, এই বিজয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিজয়।
তরিকুল হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
সুবল দেব নাথ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশে রাজাকার এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের স্থান নেই।

অনুষ্ঠানে নির্বাচনের সময় সহিংসতায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের ১৬ জন নেতাকর্মীর প্রাণহানিতে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শাখাওয়াত বিশ্বাস।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতে এবং শেষে ঢোলক সফির ঢোলের বাদ্যের সাথে আনন্দ- উল্লাস করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ঐক্যজোটের রেকর্ড জয়ে আনন্দ
সমাবেশ নিউইয়র্কে
ঠিকানা রিপোর্ট : বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রেকর্ড নিরঙ্কুশ বিজয়ে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, বস্টন কানেকটিকাটসহ আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কে পালকি পার্টি সেন্টার, পালকি চায়নিজ পার্টি হলে, ডাইভার্সিটি প্লাজায় পৃথকভাবে আয়োজন করা হয় আনন্দ উৎসবের।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে ডাইভার্সিটি প্লাজায় আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে। সেখানে জাকারিয়া চৌধুরী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিব্বির আহমেদ অরপি।
বক্তারা বিজয়ী আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং তাঁকে রেকর্ড বিজয়ের সকল কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারিশমাতেই এমন বিজয় সম্ভব হয়েছে।
তারা বলেন, জনগণ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী শক্তির বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন।
সমাবেশে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।

প্রবাসী প্রার্থী মোমেন ও গোলাপের জয়লাভ
ঠিকানা রিপোর্ট: বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উৎসাহ ছিলো অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৩০ জন প্রবাসী মহাজোট এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছিলেন। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পত্র পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে জাতিসংঘের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন এবং আব্দুস সোবহান গোলাপ। ড. এ কে মোমেন নির্বাচন করেছিলেন বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১ থেকে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুস সোবহান মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাদারিপুর-৩ আসন থেকে। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী ব্ল্যাক ডাইমন্ড হিসাবে পরিচিত বেবী নাজনীন।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেন ড. এ কে মোমেন এবং আব্দুস সোবহান গোলাপ। শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি প্রার্থী বেবি নাজনীন জয়লাভ করতে পারেননি। ড. এ কে মোমেন পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরকে এবং আব্দুস সোবহান গোলাপ পরাজিত করেন বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদারকে। ড. মোমেন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার, ৬৯৬। মুক্তাদির পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ও ৮৫১ ভোট।
ড. কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনে কাজ করার জন্য অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী দেশে গিয়েছিলেন। তারা নির্বাচনের সময় ড. এ কে মোমেনের পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য শাহানারা বেগমসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের অন্যান্য প্রার্থীর জন্য কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ॥ নতুন নির্বাচন দাবি
ভোট ডাকাতির নির্বাচন মানি না

ঠিকানা রিপোর্ট: গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা লাভ করেছে। অন্য দিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকরা উল্লসিত। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিএনপির নেতা- কর্মী এবং সমর্থকরা মর্মাহত। তাদের দাবি এবারের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই ডাকাতির ফলে বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তারা বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কালো অধ্যায় রচিত হলো। হত্যা করা হলো গণতন্ত্রকে। তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সকল দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি তা করতে পারেননি। এবার শেখ হাসিনা ভোট ডাকাতির মধ্যে বাংলাদেশে বাকশাল কয়েম করেছেন। তারা ৩০ ডিসেম্বরের ফলফল প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দ গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে বিক্ষোভ সমাবেশের দাবি করেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ, নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ওয়াহেদ আলী মন্ডল, দেওয়ান আশরাফ, জীবন সফিক প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার ভোট ডাকাতির নির্বাচন আমরা মানি না, মানবো না। তারা বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অলিক স্বপ্ন। তাদের দাবি নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কারণ তারা জানতেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব না। যে কারণে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী, পুলিশ, র‌্যাবকে লেলিয়ে দেয়। ভোটাদের আগ থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, কারো কারো বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে। আবার অনেকের বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা সমাবেশে সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশের মানুষ এমন বিরল ভোট চুরির নির্বাচন দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এবং সমর্থকদের মাঠে নামতে দেয়নি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ক্যাডার এবং প্রশাসন। তিনি বলেন, নির্বাচনে এ ডাকাতির ফলাফলে বাংলাদেশে এক কালো অধ্যায় রচিত হলো এবং সেই সাথে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, এই ভোট ডাকাতির ফলাফল আমরা মেনে নিতে পারি না। শেখ হাসিনা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এবার বাংলাদেশে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছেন। যে পারেননি তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক নির্বাচন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব অবলোকন করলো। তিনি বলেন, আমরা এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনতিবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করছি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। নির্বাচনে এক দিকে বাধা দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ফলাফল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির এই নির্বাচন আমরা মানি না। তিনি অবিলম্বে এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। সেই সাথে জাতিকে ধোকা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে তারা বিচার বিভাগ, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, র‌্যাব ও প্রশাসনকে নির্লজ্জের মত ব্যবহার করেছে। যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা আবুল কাশেম বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নীল নকশার যে নির্বাচন হয়েছে বা নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে বা ভোট ডাকাতি হয়েছে তাতে দেশের একজন নাগরিক হিসাবে কথা বলতেও লজ্জা লাগে। এমন নির্বাচন দেখার জন্যতো বাংলাদেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেনি। দেশ স্বাধীন করেছিলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মানুষের সেই অধিকার শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here