নিউইয়র্ক পুলিশের ‘হিরো’ বাংলাদেশি সৈয়দ আলী

সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

7

ঠিকানা রিপোর্ট: পাঁচ মাতালকে একা দমন করে হঠাৎ করেই নিউইয়র্ক পুলিশের ‘হিরো’ উপাধি পেলেন বাংলাদেশি আমেরিকান কর্মকর্তা সৈয়দ আলী। যুক্তরাষ্ট্রের সব বড় বড় মিডিয়ায় তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও (এনওয়াইপিডি) তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সহকর্মীরাও দারুণ খুশী সৈয়দ আলীর এই সাফল্যে। অন্যদিকে সৈয়দ আলীও সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাকে ঐ সময় যিনি সহযোগিতা করেছেন তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
ঘটনাটি গত ২৩ ডিসেম্বর রোববারের। নিউইয়র্কের ব্যস্ততম ম্যানহাটানের একটি সাবওয়ে স্টেশনে এক নারীকে উত্যক্ত করছিল পাঁচ গৃহহীন (হোমলেস) মাতাল গুন্ডা। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত অফিসার সৈয়দ আলী ওই নারীকে রক্ষায় এগিয়ে যান। প্রথমে পাঁচ মাতালকে তাদের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং সাবওয়ে থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু মাতালরা সৈয়দ আলীর কথায় কর্ণপাত না করে বরং তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন তাদের একাই সামলে নেন তিনি। এক এক লাথিতে ছিটকে পড়ে ওই মাতালরা। এর মধ্যে একজন আলীকে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেই রেলের ট্র্যাকের মধ্যে পড়ে যান। এই পরিস্থিতিতে আলী ট্র্যাকে পড়া লোকটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং রেলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য বলতে থাকেন। উপস্থিত যাত্রীরা এ দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই সৈয়দ আলীর এই নায়কোচিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। নিজের এই হঠাৎ নায়ক হয়ে ওঠার খবর শুরুতে জানতেই পারেননি মাত্র তিন বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায় আসা সৈয়দ আলী। এক সহকর্মী বিষয়টি তার নজরে আনলে ভীষণ বিস্মিত হন তিনি।
সৈয়দ আলীকে নিয়ে এতটাই আলোড়ন হয় যে, গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করে নিউইয়র্ক টাইমস। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দিয়ে নিউজ কাভারেজ দেয় বিশ্বখ্যাত সব টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।
নিজেকে রক্ষা করতে আলী কেনো গুলি চালালেন না, এই প্রশ্নের জবাবে আলী সাইদ বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেন, ‘জীবন ভীষণ মূল্যবান, যেকোনো মূল্যে সেটি রক্ষার্থে কাজ করা উচিত’। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর যে প্রশিক্ষণ রয়েছে সেটিই আমাকে পরিস্থিতি নানাভাবে সামলে নিতে পথ দেখিয়েছে, আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিতীয়বার ভাবিয়েছে’।
এই ভিডিও দেখে সাবেক পুলিশ কমিশনার বিল ব্রাটন এক টুইটার বার্তায় আলীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আলীর এই ঘটনা নিউইয়র্কবাসী এবং এখানকার রাজনৈতিক নেতাদের মনে রাখা উচিত।
ইতোমধ্যে হামলাকারী তিন মাতালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইদ আলীর জন্ম বাংলাদেশে, বড় হয়েছেন ব্রুকলিনে। তিনি দীর্ঘদিন ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাসদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশি অফিসার সৈয়দ আলীর সাহসিকতার প্রশংসা করে টুইট করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। ব্রুকলিনের কাউন্সিলম্যান চেইম এম ডাচ সাহসিকতার জন্য সৈয়দ আলীকে দিয়েছেন বিশেষ সনদ।
এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশি পুলিশ অফিসারদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সৈয়দ আলীর এই সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।
বাপার মিডিয়া লিয়াজোঁ এনওয়াইপিডির ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি জানান, ‘সৈয়দ আলীর জন্য আমরা সত্যিই গর্বিত। বাংলাদেশিরা নিউইয়র্ক পুলিশে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করনে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here