এসএ গেমস না হলে বাংলাদেশ গেমস

15

স্পোর্টস রিপোর্ট : ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসের সবশেষ আসরটি হয়েছিল ভারতে। এবার ১৩তম আসরের আয়োজক নেপাল। চলতি বছরের ৯ থেকে ১৮ মার্চ কাঠমান্ডু ও পোখরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞের। মাত্র তিন মাস সময় বাকি থাকলেও এই আয়োজনের খবর নেই। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনও (বিওএ) জানেনা আসরটির ব্যাপারে। তাই চলতি বছরে এসএ গেমস অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান বিওএ’র কর্মকর্তারা বিকল্পও ভেবে রেখেছেন। এ বছর এসএ গেমস না হলে বাংলাদেশ গেমসের আয়োজন করবেন তারা।

এবারের আসরে থাকছে ভিন্নতা, বাড়ানো হয়েছে ডিসিপ্লিন ২৭টি ডিসিপ্লিন নিয়ে হবে নেপালের আসর। সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেট আবারো এই গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগে অংশ নেয়া যাবে তাতে। ক্রিকেট ছাড়া গেমসে আছে আরচারি, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, বক্সিং, অ্যাথলেটিকস, সাইক্লিং, ফুটবল, হ্যান্ডবল, জুডো, কাবাডি, শুটিং, উশু, খো খো, স্কোয়াশ, সাঁতার, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, টেনিস, ট্রায়াথলন, ভলিবল, ভারোত্তোলন, প্যারাগ্লাইডিং, কুস্তি, কারাতে ও গলফ। এই ২৭ ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২৪টিতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল বিওএ। কিন্তু নেপালের সিদ্ধান্তের কারণে এখনও প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। অনুশীলন শুরু করা নিয়ে দোটানায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। কারণ দুটি। এক গেমস নির্ধারিত সময়ে না হওয়ার সম্ভাবনা।

২ অনুশীলনের অর্থ। গেমসের ট্রেনিংয়ের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নিকট-অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমস। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে জাকার্তা-পালেমবাং এশিয়ান গেমসের অনুশীলনের জন্য ৬ কোটি টাকা চেয়ে পেয়েছে এক কোটিরও কম। জোড়াতালির অনুশীলন করে দল পাঠানোর কুফলও পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩২ বছর পর এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে লাল-সবুজের দেশের ক্রীড়াবিদদের। বাংলাদেশ যখন অর্থের সংস্থান করে প্রস্তুতিতে নামবে ঠিক তখন গেমস পেছানোর খবর ছেপেছে নেপালি গণমাধ্যম। সময় আরও পরিবর্ধন করে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শংকা রয়েছে নতুন বেঁধে দেয়া সময়েও। নেপালি পত্রিকা ‘নেপালি সেনসার’এ জানানো হয়েছে, এ বছরের সেপ্টেম্বরে এসএ গেমস হতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী জগৎ সুনওয়ার। নেপালের জাতীয় স্পোর্টস কাউন্সিলের সদস্য কেশব কুমার বিস্তা নেপালি সেনসারকে বলেন, ‘হয়তো সময় লাগছে বেশি। কিন্তু এসএ গেমসের স্বাগতিক হওয়া থেকে কেউই আমাদের সরিয়ে দিতে পারবে না। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’একই মিডিয়াতে নেপাল অলিম্পিক কমিটির সভাপতি শ্রেষ্ঠা অবশ্য দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী এ বছরেই এসএ গেমস আয়োজনের ব্যাপারে। তবে জানা গেছে, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি হয়নি। অর্ধেকেরও বেশি কাজ এগোয়নি পোখারা স্টেডিয়ামের। নেপালের এমন দীর্ঘসূত্রতা ভাবিয়ে তুলেছে বিওএ’কে। কারণ গেমসের বিষয়ে কোনো কথাই বলছে না তারা। এ নিয়ে বিওএ’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফখরুদ্দীন হায়দার বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়ে এবং মেইল বার্তার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। কিন্তু কোনো উত্তরই দিচ্ছে না তারা। তাহলে কিভাবে বুঝবো যে সেপ্টেম্বরে গেমস আয়োজন করতে পারবে নেপাল।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, তাদের উত্তরের। যদি এসএ গেমস আয়োজনে শতভাগ নিশ্চয়তা না পাই, তাহলে বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের চিন্তা-ভাবনা করছি। কারণ এসএ গেমসে পিছিয়ে যাবে ২০২১ সালে (আগামী বছর জাপানের টোকিওতে অলিম্পিক গেমস)। এ বছর এসএ গেমস না হলে দেশের ক্রীড়াবিদরা বাংলাদেশ গেমসের নবম সংস্করণে খেলবেন বলেই মনে করছি। যদিও ভাবনাটি এখনো চূড়ান্ত রুপ নেয়নি।’ ২০১৬ সালে ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশ চারটি স্বর্ণ, ১৫টি রৌপ্য ও ৫৬টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৪ স্বর্ণের দুটি পেয়েছিলেন সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা। বাকি দুটি পেয়েছেন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও শ্যুটার শাকিল আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here