রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সহসাই শুরু না হওয়ার আশঙ্কা

5

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে সহসাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হবে না বলে মনে করছেন মিয়ানমারের বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউ থান সোয়ে নাইং গত ১ জানুয়ারি বলেছেন, মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য অন্য কোনো উপায় খুঁজতে পারে। কারণ, আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুটিকে (রোহিঙ্গা) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিয়ানমার টাইমস।
নাইয়ান লিন অং এ প্রতিবেদনে লিখেছেন, বিশ্লেষক ইউ থান সোয়ে নাইং বলেছেন শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অন্য কোনো সমাধান খোঁজা উচিত মিয়ানমার সরকারের। কারণ, এ ইস্যুকে নিয়ে রাজনৈতিক গেম খেলা অব্যাহত রাখতে পারে বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে দিতে মিয়ানমারের ওপর শরণার্থী প্রত্যাবর্তন শুরুর জন্য চাপ বাড়াতে পারে ঢাকা।
ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজার ও বাংলাদেশের অন্য স্থানে রাখাইনের যে কমপক্ষে ৭ লাখ শরণার্থী অবস্থান করছেন গাদাগাদি করে তাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে কোটি কোটি ডলার সহায়তা আসছে বাংলাদেশে।
রাখাইন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক ইউ মাউং মাউং সোয়ে বলেন, শরণার্থী প্রত্যাবর্তন নির্ভর করে শরণার্থী বিষয়ক সংগঠনগুলোর ওপর, যারা শরণার্থীদের সহায়তায় তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এমন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে যাচ্ছে যে, শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়। তবে ন্যাপিড বলছে, শরণার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইউ মাউং মাউং সোয়ে বলেন, প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে নেয়া অসম্ভব বিষয়। এটা শুরু হতে সময় লাগবে এবং তা চলবে খুব ধীর গতিতে।
অক্টোবরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে দু’দিনের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হয়। তাতে দু’দেশই একমত হয় যে, গত বছরের ১৫ নভেম্বর ২২৫১ জন শরণার্থীর প্রথম ব্যাচটি রাখাইনে ফিরে যাবে। কিন্তু নির্ধারিত ওই তারিখের আগে ও ওইদিনে প্রায় এক হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এই প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তারা বলেন, তারা ফিরে যেতে চান না। কারণ, সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। তা ছাড়া তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির ঘাটতি আছে।
ওদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, তাদের দেশের আইনের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাজিনী। এর ফলে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এ নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন জাতি নিধনের অভিযোগ এনেছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে সেনা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং সহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে তারা গণহত্যা করেছেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ একপেশে বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। অভিযোগ তদন্তে মিয়ানমার নিজেই একটি তদন্ত কমিটি করেছে। এর প্রধান ফিলিপাইনের সিনিয়র কূটনীতিক রোজারিও মানালো। তাদের রিপোর্ট এ বছর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here