কুষ্টিয়ায় ৫২ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস

6

কুষ্টিয়া : বাড়িগুলো শতবর্ষের পুরনো। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন, মিলপাড়া পুলিশ ফাঁড়িসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তবে যেকোনো সময় ভবনগুলো ধসে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী কুষ্টিয়া শহরে প্রায় ৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া, আড়ুয়াপাড়া বড় বাজার, থানাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জরাজীর্ণ এসব ভবনে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনগুলোর ছাদে বড় বড় ফাটল। সিলিংয়ে বটগাছ জন্মেছে, কোথাও কোথাও ইটের আস্তরণ খসে ভেঙে পড়ার উপক্রম। বসবাসের অনুপযোগী এসব ভবনে মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠনের অফিস এবং পুরনো বাসভবনের নিচতলায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
শহরের আমলাপাড়ার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। তার পরও ভবনটি কমিউনিস্ট পার্টির অফিস, আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন এই ভবনে শত শত লোক যাতায়াত করে। ভবনটির একটি ছাদ একবার ধসে পড়েছিল বলে জানা গেছে। শহরের ২৮ মেছুয়া বাজারের তিনতলাবিশিষ্ট পিয়ার খান আব্দুস সাত্তারের পরিত্যক্ত বাড়িটির একেবারে ভগ্নদশা। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, আমরা মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে এই ভবনের নিচতলায় ব্যবসা করে যাচ্ছি। ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের তাগিদ দিয়েছি আমরা। এর আগে জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদনও করা হয়েছে।
শহরের ৪৬, লক্ষ¥ীচাঁদ আগওয়ালা স্ট্রিট বড়বাজার এলাকার সদর পুলিশ ফাঁড়িটিও খুবই জরাজীর্ণ। শহরের থানাপাড়া এলাকায় ২৬/১, আর এন সরকার রোডে অবস্থিত নেছার আহম্মেদের পরিত্যক্ত বাড়িটি প্রায় বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার পিসি রায় রোডের কসাইর পরিত্যক্ত বাড়িটিরও একই অবস্থা। এ ছাড়া শহরের মিলপাড়া এলাকার কুষ্টিয়া বড় স্টেশনের পাশের মহিদ পোলট্রি ফিডের পুরনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলার এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি। মিলপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম যে ভনবটিতে চলছে সেটিও যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, মিলপাড়ায় যে ভবনে ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে সেটি অনেক পুরনো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে কাজ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ লাইনঘেঁষে একটি পুরনো বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন জেলা ও দায়রা জজ। বাড়িটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এক কর্মচারী জানান, বাড়িটির দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক স্থান ভেঙে গেছে। নতুন করে বাড়িটি নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। জেলা গণপূর্ত কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জে এম শফিউল হান্নান বলেন, পুরনো বেশ কিছু ভবন এই জেলায় আছে। এসব ভবনে সরকারি অফিসের কার্যক্রমসহ বাসবভনও রয়েছে। সেগুলো অপসারণের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে জটিলতাও আছে। এসব কারণে ইচ্ছা থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করা যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here