গেদুচাচার খোলা চিঠি

5

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
হাছিনা বিবি,

চিঠির শুরুতে সমগ্র জাতির পক্ষ হইতে আপনি এই অধম নাখান্দা নালায়েক গেদুচাচার শতকুঠি ছালাম গ্রহণ করিবেন। আশা করি, মহান আললাহ মালিকের অসীম করুণায় অত্যন্ত আনন্দে ও ছহি ছালামতে আছেন। আমরা দেশবাসীরাও শাহজী বাবার নজর করমে মহান বিধাতার সীমাহীন দয়ায় একরকম আছি। প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আপনাকে দুই কলম লিখিতে বসিলাম। আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা নষ্ট করিয়া হইলেও একটু পড়িয়া দেখিবেন।
পর সমাচার হইলো এই যে-
এইবারের এলেকশন লইয়া আমাদের মজিদের বাপে কহে, ৭০ সালের মতো এইবার ভোট দেখিলাম। কলিজা পুরাইয়া ভোট দিলাম। চান্দুর নাতি কহে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে যাইতে পারি নাই। এইবারের এলেকশানে জীবনের প্রথম ভোটটা দিলাম, যাহাতে একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিনাশ ঘটে। মনে হইতেছে আমরা নয়া জামানার মুক্তিযোদ্ধা।
নীরোদ বাবু ৭০ সালের ভোটের কথা কহিতেছিলেন। কহিলেন, সারাদেশে সবাই নৌকায় কেহ বাঁধা দিবারও নাই। মালকোচা মারিয়া সকলে মিলিয়া নৌকায় সিল মারিলাম। এইবারও দেখিলাম, সকল কেন্দ্রই নৌকায় ঠাসা। বিরোধী প্রার্থী আর তাহাদের এজেন্টদের টর্চ মারিয়াও পাওয়া যাইতেছেনা। তখন দেশটাই পুরা নৌকাময় হইয়া যায়। পাবলিক ৭০ সালের মতে আবার নতুন যোশে সিল মারিতে থাকিলো নৌকায়। দেশ যেন আবার স্বাধীন হইলো। একটা রাজাকারের বংশধরও আর এমপি হইতে পারিলোনা। জননীগো, একটানা তৃতীয়বার, আর ইতিহাসে চতুর্থবার আপনি প্রধানমন্ত্রী হইলেন। আপনার আমলে উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, উৎপাদন সকলই আছে। নাই খালি দুর্নীতি মুক্ত দেশ, আর নাই সুশাসন। মাদক সম্রাটদের যেইভাবে মশার মতো নিধন করিতেছেন, কেহ কেহ কহে দুর্নীতিবাজ ও ধর্ষকদেরও নিধন করা ছাড়া গত্যন্তর নাই। দেশটাকে এইবার একটু ঠিকভাবে চালান। গুড গভর্নেস কায়েম হইলে দেশ থাকিবে আইনের শাসনের অধীনে। পাবলিকের আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। ২৪ লাখ বেকারকে চাকরি দিন ঘুষ ছাড়া। আদালতকে শতভাগ স্বাধীনতা দিন। চোর-বাটপার, সন্ত্রাস, জঙ্গি, মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ষক আর দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা আপনি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল অপশক্তি, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, চোর-ডাকাত মুক্ত একটা সোনার দেশ। সেই দেশটা কায়েম করেন। বোমাবাজী যাহারা করে, তাহাদের দয়া করিয়া হাওয়া করিয়া দেন। এইদেশ জনগণের, কেহ যেন এই মানচিত্রকে কোনোভাবে জিম্মি করিতে না পারে। জাতির জনকের নাম উচ্চারণ করিয়া যে বা যাহারা ‘সে’ বলে তাহাদের মানবিক কারণে ক্ষমা করিয়া দেন। দেশে এইরকম পাবনার পাগল অনেক আছে।
জননীগো, নির্বাচনের মাধ্যমে সারাদেশে যেই গণজাগরণ এইবার দেখা গেলো, তাহাতে মনে হইলো দেশের নতুন প্রজন্ম এবং যুবসমাজ ৭০-৭১ সালের স্পিডে আছে। আপনার মনোনীত এমপিরা নিজেদের হেডমে ভোট পান নাই। পাবলিক তাহদের ভোট দেয় নাই। ভোট দিয়াছে আপনাকে, আপনার প্রতীককে। এই জাগণের যে উত্তঙ্গ নেশা, তাহার পেছনে এই শ্রেণীর অনেক স্বপ্ন আছে। প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ করিবেন।
চাকরিতে ঢোকার বয়সটা ৩৫ করিয়া দিবেন। কোটাকে ঝুলাইয়া না রাখিয়া একটা সংস্কার করিবেন। ডিজিটাল অপরাধ আইনটাকে একটু সংশোধন করেন। সড়ক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করেন। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেন। যেই সকল বিভাগে চুক্তিতে বা মাস্টাররোলে চাকরি আছে, তাহাদের সকল চাকরি অর্থ মন্ত্রণালয়ে রেগুলার করেন। যাহারা ৮০ ভাগ পেনশন পায়, তাহাদের শতভাগ করিয়া দেন।
মা জননগো, আপনার এমপি-মন্ত্রীদের কহিয়া দেন, আললাহর দিকে চাহিয়া পিঅন-দারোয়ান-চৌকিদার-সিপাহীর চাকরিতেও লাখ লাখ টাকা ঘুষ না চাহিতে। চাকরি হইবে মেধা, জেলা ও বিভিন্ন কোটায়। এমপিকে টাকা দিতে হয় কেন? এই দুর্নীতি হইতে দেশকে রক্ষা করেন।
নরসিংদীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন চট্টগ্রামে রেলের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তাহার পুত্র টিকিট কালেক্টরের পদে লিখিত পরীক্ষাতেও পাস করে। তাহার পোষ্যকোটা ছিলো ৪০ ভাগ, মুক্তিযোদ্ধা, কোটা ৩০ ভাগ। এই ৭০ ভাগ কোটা লইয়াও তাহার চাকরি হয় নাই। শাহাবুদ্দিন রিটায়ার করিয়া দিনে-রাতে কান্দিতেছে। টাকা না দিলে চাকরি হয়না, এই কালচার হইতে দেশটাকে বাহির করিয়া আনা দরকার।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আপনি অনেক করিয়াছেন। কহিয়াছিলাম, তাহাদের সন্তানদের একটা ড্যাটা তৈরি করিয়া সিরিয়ালি যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থান বা চাকরির ব্যবস্থা করেন। তাহাদের পিতা-মাতারা যুদ্ধ করিয়া দেশটা স্বাধীন করিয়াছে। তাহাদের সন্তান যেন বেকার না থাকে। আর কহিয়াছিলাম মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নামটা বদল করিয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ ট্রাস্ট করেন। মুক্তিযোদ্ধারা ১০/১৫ বছর পরে আর হয়ত থাকিবে না, মন্ত্রণালয়ের নামও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হওয়া দরকার। বিষয়গুলো দয়া করিয়া ভাবিয়া দেখিবেন। আমাদের রাজবাড়ীর ময়নার বাপে কহে এই ভোটে যেইরকম আফান-তুফান পরিশ্রম হইয়াছে, তাহাতে দলের তরুণ নেতারাও তাহাদের দলপতি ওবায়দুল কাদের চাচার চিকন ঘাম বাহির হইয়া গিয়াছে। বুড়া-টুডা নেতা হইলে হাঁটু ভাঙ্গিয়া চিৎকাইত হইয়া পড়িয়া যাইতো।
এলেকশনের আগে আপনি যেই নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করিয়াছেন, তাহাই যদি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়, তাহা হইলে দেশ আগা-গোড়া বদলাইয়া যাইবে। দেশের মানুষ আপনার প্রতিটি কথায় বিশ্বাস করে। ৫ বছরের মধ্যে দেশটার সকল রকমের সমস্যা যেন আর না থাকে।
ঝিনাইদহের মাহবুব আলী ভাতিজা কহিলো তাহাদের হরিণাকুন্ড উপজেলায় আপনার সরকার ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ কর্মসূচি চালু করিয়াছে। ভ্যান গাড়িতে মিটার, বিদ্যুতের তার, লাইনম্যান ও ইন্সপেক্টর। ৫ মিনিটেই দেওয়া বিদ্যুৎ কানেকশন। কোনো ঘুষ নাই, হয়রানি নাই। সকল বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলিতেছে। ৮ ইউনিয়নে ১৩৬টি গ্রামে ৩ লাখ মানুষ বাস করে। প্রতিদিন সংযোগ কাজ চলিতেছে। মাহবুব আলী কহিলো, বছরের পর বছর ৩৬ ঘাটে ধর্ণা দিয়াও একটা বিদ্যুৎ কানেকশন পায় নাই এলাকাবাসী। আজ যেন আলাদীনের চেরাগ লইয়া সরকার নামিয়াছেন।
জননীগো, ঝিনাইদহের মতো সারাদেশে এইভাবে দুর্নীতি, হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া যদি বিদ্যুৎ কানেকশন দেওয়া যায়, তাহা ঘনলে সারাদেশ আলোকিত হইতে পারিতো। মানুষ দুইহাত তুলিয়া আপনার জন্য মুনাজাত করিতো।
নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একজন গৃহবধূকে ৯ জন মিলিয়া অত্যাচার-নির্যাতন করিয়া ধর্ষণের যে খবর পাওয়া গিয়াছে, তাহাতে ৯ জনকে এবং তাহাদের গডফাদারদের খুঁজিয়া বাহির করিয়া ফটাফট গুললী মারিয়া দেন। ধর্ষণের মতো মারাত্মক ব্যাধিতে সমূলে নির্মূল করিবার জন্য ম্যান্ডেটরি মৃত্যুদ- আইন পাস করা দরকার। মাদকের মতো দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থার কথা ভাবেন।
শুনিলাম জাতীয় পার্টির এমপিরা সরকারের সহিত থাকিতে চাহেনা। আগের মতো হিজড়া টাইপ করিয়া রাখা ঠিক নহে। পারলামেনে তারা যদি বিরোধী দল গঠন করে, তাহা হইলে বিশ্ববাসী তাহাদের প্রশংসা করিবে। কিন্তু আমাদের নজির আলী মাতুব্বুরও কহিতেছে, জাপার এমপিরা সরকারের সহিতই থাকিতে চায়। তাহারা বউ ছাড়িয়া দিতে রাজি, কিন্তু মন্ত্রিত্ব ছাড়িতে নারাজ। এরশাদ চাচা নাকি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাহার দলের কান্ডারি বানাইয়া দিয়াছেন ছোটো-ভাই জি এম কাদেরকে। কাদের হয়ত বিরোধী দলের উপ-নেতা হইতে পারেন। তবে তাহারা মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচন করিয়াছেন। ঐকমত্যের সরকারে তাহাদের নিলেও নিতে পারেন।
আজ আর লম্বা করিতে চাহিনা। এলেকশনে ভূমিধস বিজয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন। নতুন বছরে আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা। এইখানেই শেষ করিতেছি। বিশেষ কি। ইতি-
আপনারই ৬৮ হাজার গেরামের
নালায়েক নাখান্দা অধম
গেদুচাচা
গ্রন্থনা : খ.ম.হ. তাং ৫ জানুয়ারি-২০১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here