প্রবাসীদের ন্যায্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক

5

রায়হান আহমেদ তপাদার

প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে বিনিয়োগের জন্য এবং বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে হবে। প্রবাসীরা তখনই আকৃষ্ট হবেন, যখন তারা দেশে বিনিয়োগ করার মতো একটি অনুকূল পরিবেশও নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স। কিন্তু সেই প্রবাসীরা তাদের প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হন পদে পদে। বিদেশে যাওয়ার সময় কিংবা বিদেশ থেকে দেশে ফেরত আসার পথে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হন তারা।
প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থনীতিতে অবদান রাখা এ অভিবাসীদের মর্যাদা কতটুকু রক্ষা পাচ্ছে? পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিবাসন সংকট। অভিবাসন প্রক্রিয়া বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০১৫ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি সপ্তাহে ৩০ লাখ মানুষ শহরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে প্রতি ৩৫ জনের মধ্যে একজন অভিবাসী, যিনি নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করেন। বিশ্ব অর্থনীতির একটি বিরাট অংশ নির্ভর করে অভিবাসীদের শ্রমের ওপর। এ বাস্তবতায় অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। বিশ্বের ১৬১টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত আছেন। বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে যেসব পরিবার রয়েছে তাদের যদি রেমিট্যান্স প্রাপক পরিবারে রূপান্তর করা যায়, তাহলে সেসব পরিবার দরিদ্র থাকবে না। দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে। এটা সম্ভব হবে তখনই, যখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। বাংলাদেশর অর্থনীতিতে অভিবাসীদের প্রেরিত অর্থ একটি বিরাট ভূমিকা রাখছে। দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসীদের ভূমিকাকে আরও গতিশীল এবং শক্তিশালী করা দরকার। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহু উন্নয়ন ঘটেছে। সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য হারে জিডিপি বাড়ছে এবং ফরেন কারেন্সি রিজার্ভও বাড়ছে অব্যাহতভাবে। শিক্ষা, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এগিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বাংলাদেশকে আরও অনেক আগেই পরবর্তী উদীয়মান বাঘ বলে অভিহিত করেছেন। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে প্রবাসীরা যাতে দেশে বিনিয়োগ করেন, সে জন্য একটা আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিদেশে লাখো মানুষ কাজ করতে যাওয়ার কারণে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম রাষ্ট্র। দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি কম বড় কথা নয়। এটি একটি বড় অর্জন। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সম্ভাবনার বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করেছে। এসব অর্জন থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের জীবন বদলায়নি। তারা নিজ দেশে এসে দেখেন বিমানবন্দরের সেই বেহাল অবস্থা। রাস্তায় অসহনীয় যানজটের কারণে আটকে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সড়ক দুর্ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কারণে-অকারণে অনেকের সম্পত্তিও বেদখল হয়, যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হলে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে একটা আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে বাধ্য। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা থাকা দরকার। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সেখানে লাখ লাখ মানুষ ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর। সৌদি আরবে হোটেল থেকে হাঁটার দূরত্বে সূর্যের তাপের কারণে যেখানে মসজিদে যেতে অসহনীয় কষ্ট অনুভব করেছি, তখনও দেখেছি আমাদের দেশের মানুষ রাস্তায় কাজ করছেন। তারা কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীব্যাপী জাতিসংঘের কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করলেও সে একই পৃথিবীর মানুষ। মানুষ হিসেবে তার অধিকার, ধর্ম-বর্ণ বা জাতীয়তার কারণে আলাদ হতে পারে না। জাতিসংঘের আহ্বান হলো অভিবাসী শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদেরও অধিকার রয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি সনদ গৃহীত হয়েছিল। এ সনদ অনুযায়ী, পৃথিবীর সব মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমমর্যাদা ও অধিকারের দাবিদার। এ সনদের ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ৮ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৫৫তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে বিশ্ব অভিবাসী দিবস ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় ২০০০ সাল থেকে বিশ্ব অভিবাসী দিবস পালন করে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘অভিবাসীর অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’। বেশির ভাগ প্রবাসীই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে বৈষম্যের শিকার হয়ে, খেয়ে না খেয়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সমৃদ্ধ করছেন দেশের অর্থনীতি। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হয়ে রয়েছেন। এসব দেশে তারা নানাভাবে বঞ্চনা, শোষণ ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। কখনও কখনও নির্যাতিত হচ্ছেন আবার অনেকেই ন্যায়বিচার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। কোনো কোনো দেশের কারাগারে বাংলাদেশিরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। সুতরাং অভিবাসীদের অধিকার নিয়েও বাংলাদেশ সোচ্চার। তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই প্রতি বছর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির ১৩ শতাংশ বিদেশে কাজ করছে। দেশের টেকসই উন্নয়নে প্রবাসী আয় বাড়ানো খুবই জরুরি। টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য কমাতে হলে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য সরকারের তদারকি ব্যবস্থাও জোরদার করা আবশ্যক। অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ যেতে নৌকাডুবির ঘটনায় অনেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছিল অসংখ্য গণকবর।
প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে বিনিয়োগের জন্য এবং বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে হবে। প্রবাসীরা তখনই আকৃষ্ট হবেন, যখন তারা দেশে বিনিয়োগ করার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হবেন। স্বাভাবিক কারণেই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভা-ার সমৃদ্ধ হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বিশ্বমন্দাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি, যা প্রমাণিত। যে রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে এতটা শক্তি জোগায়; সঙ্গত কারণেই রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির নেপথ্য নায়ক ও চালিকাশক্তি। সুতরাং প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সব বাধা দূর করা জরুরি।
বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন ব্যাংকে পড়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগ না হওয়ায় রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আলিশান বাড়ি, দামি গাড়ি ইত্যাদি অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হচ্ছে। সিলেটে বিভিন্ন ধরনের শিল্প স্থাপনের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প, নির্মাণসামগ্রীর কারখানা, পর্যটন শিল্প, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু ভোগেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে। ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, হাসপাতাল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-েও এ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ভূমিকা অসাধারণ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, রেমিট্যান্স আয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশ ব্যয় হয় দৈনন্দিন খরচের খাতে। এতে ওই পরিবারগুলো দারিদ্র্য দূর করতে পারে। রেমিট্যান্স পাওয়ার পরে একটি পরিবারের আয় আগের তুলনায় ৮২ শতাংশ বাড়ে। রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে বিনিয়োগের মাধ্যমে। এ ছাড়া রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় ও সঞ্চয় বাড়ার কারণে গ্রামীণ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ে, ফলে সেখানে কর্মসংস্থান হয়। যারা বিদেশে যান তাদের বেশির ভাগেরই পরিবার গ্রামে থাকায় তাদের ব্যয় বেড়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রধান ভূমিকা রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো টাকা ভোগে ব্যয় হয় বলে একটি নেতিবাচক প্রচারণা আছে। যদি তা-ও হয় তবু মনে করি, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স এক বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকাংশই শ্রমিক হিসেবে নির্মাণশিল্প, কৃষি খাত বা দোকানে কাজ করেন। অসম্মানজনক কাজ করতেও অনেক শ্রমিককে বাধ্য করা হয়। তাদের অনেকেই গৃহকর্মীর কাজ করেন। এর মধ্যে নারী শ্রমিকও আছেন। তাদের সহ্য করতে হয় শারীরিক নির্যাতনসহ যৌন নিপীড়ন। অনেকে একনাগাড়ে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন বছরের পর বছর। টাকার অভাবে দেশে আসতে পারেন না। আর যারা দেশে আসেন ছুটি কাটাতে তাদের অনেককেই বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
বিমানবন্দরে তাদের ওপরে যথাযথ সম্মান ও সহানুভূতি দেখানো হয় না। একজন সম্মানিত যাত্রী হিসেবে যতটুকু সম্মান পাওয়ার দাবিদার, তা-ও অনেকেই পান না। বাড়িতেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রবাসীদের জায়গা-জমি বেদখল হয়। এ ধরনের অবিচার-হয়রানি চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না। শ্রমিকদের অমানবিক জীবনযাপন থেকে মুক্তি দিতে হলে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন খাতে আমরা অনেক এগিয়েছি। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন আমাদের দেশের এ উন্নয়ন অগ্রগতির সবচেয়ে বড় প্রচারক। এ দেশ এগিয়েছে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়বদ্ধতা না থাকায় জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রবাসীরা তাদের ন্যায্য মর্যাদা থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত হচ্ছেন। ১ কোটি লোক বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষজ্ঞরা কথায় কথায় প্রায়ই বলেন, তারা দেশের অর্থনীতি সচল রাখছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা মোটেও তাদের মর্যাদা দেই না। আমাদের কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার পথে ভোগান্তি, সেখানে যত দিন থাকে তখন ভোগান্তি, দূতাবাসে সাহায্যের জন্য গেলে সেখানে ভোগান্তি, ফেরার পর ভোগান্তি। প্রতি পদে পদে এদের অসম্মান, অবহেলা এটা একটি ভয়ঙ্কর সংকট। কারণ আমরা আমাদের নাগরিকদের সম্মান দিই না বলেই সেদেশের মানুষও আমাদের কর্মীদের অসম্মান করে। তাদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। আমরা যদি তাদের মর্যাদা না দিই, অন্য দেশও দেবে না। আমাদের অর্থনীতিতে যারা এত অবদান রাখছে, তাদের সম্মান দেয়াটা জরুরি। লেখক ও কলামিস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here