প্রধানমন্ত্রীর সামনে নয়া চ্যালেঞ্জ

11

নিজস্ব প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সামনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষ নেতৃত্বে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে যেমনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছেও তা ছিল বিস্ময়। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন অধিকতর বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। গত ১০ বছরের মধ্যে সম্ভবত এটাই বড় চমক। অবশ্য এর আগেও প্রধানমন্ত্রী বড় মাত্রার নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়েছেন এবং সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। স্বল্পসংখ্যক অভিজ্ঞ প্রবীণ ও নবীনদের আধিক্যে নতুন মন্ত্রিসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার সুদক্ষ, দূরদর্শী নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অধিকসংখ্যক নতুন, অনভিজ্ঞদের দিয়ে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জন করা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে তার অভিজ্ঞ, দক্ষ আমলা ও কর্মী বাহিনী রয়েছে। কিন্তু যারা মন্ত্রণালয় পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের দুই-তৃতীয়াংশই অনভিজ্ঞ। তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণসাপেক্ষ। প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তাদের সময় প্রয়োজন। যে বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারের হাতে রয়েছে এবং নতুন আরো পরিকল্পনা নেওয়া হবে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা চলমান রাখা এবং তা আরো গতিময় রাখা জরুরি। অনভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে বাধা হবে কি না সে প্রশ্নও রয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারক মহল অবশ্য এ ব্যাপারে গভীরভাবে আশাবাদী। তারা মনে করেন, নবীনরা ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। তাদের নিয়মিত দিক-নির্দেশনা, পরামর্শ দেওয়া, কার্যক্রমের নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রসঙ্গে তারা কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর গত মেয়াদের কার্যক্রমের উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, ডাক টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রীসহ আরো কয়েকজন অনভিজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী স্বল্প সময়ে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। বিপুলসংখ্যক নবীন প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আগামীর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। চলতি মেয়াদের পর শেখ হাসিনা আর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে নাও থাকতে পারেন। আশা করা যায়, দায়িত্বে আসবেন সজীব ওয়াজেদ জয়। জয় তার কর্মক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। উপদেষ্টার দায়িত্বে থেকে তিনি টেলিযোগাযোগ খাতে অগ্রগতির নতুন মাত্রা এনেছেন, যার সুফল পাচ্ছে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজসহ দেশের মানুষ। মন্ত্রিসভার নবীনদের ব্যাপারেও নীতিনির্ধারকরা গভীরভাবে আশাবাদী। প্রত্যাশিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য অর্জনে তারা সফল হবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। তা না হলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
সরকারের বড় সুবিধা হচ্ছে প্রশাসনে রাজনৈতিকভাবে সমমনাদের অবস্থান। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং ডিসি, এডিসি, কমিশনার-সকল পর্যায়ে বিশ্বস্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন। এদের কাছ থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের অধিকাংশের রাজনৈতিক আনুগত্য, প্রভাব যেমনি রয়েছে; তাদের যোগ্যতা, দক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ। এদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবটাও বড় হয়ে দেখা দেবে। উন্নয়ন কর্মকা- দ্রুততা ও যথার্থভাবে বাস্তবায়নে তা বাধা হয়েও দেখা দিতে পারে।
তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, রাশেদ খান মেমন, এএমএ মুহিত, মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে আমলাদের সতর্কতা ছিল লক্ষণীয়। এখন সে অবস্থাটা নাও থাকতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে এই রাজনীতিবিদদের দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা যায়। সমস্ত পত্রপত্রিকায় নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যেসব স্পেকুলেশন ছিল তারা সবই যথার্থ নয় প্রমাণিত হয়েছে। সিনিয়র প্রায় সব মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নবীনদের সংখ্যাধিক্যের মন্ত্রিসভা গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জ তিনি গত ১০ বছর ধরেই সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে আসছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, সমস্যা হবে রাজনৈতিক। বিরোধী দল কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা চ্যালেঞ্জ হয়েও আসতে পারে। বাদ পড়া প্রবীণ মন্ত্রীদের সর্বাত্মক রাজনৈতিক পরামর্শ, আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে দেখা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here