ট্রাম্পের ‘জরুরি অবস্থা জারি’ হুমকি আদালতে আটকে যেতে পারে

10

কাজী ইবনে শাকুর : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবেন বলে বার বার হুমকি দিচ্ছেন। কারণ তার দেয়াল চাই। গত ৫ জানুয়ারি শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে ক্যাম্প ডেভিড চলে গেছেন। বলেছেন, যদি শাটডাউন চলতে থাকে তাহলে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেয়াল নির্মাণ করবেন। জরুরি অবস্থা সাধারণত ঘোষণা করা হয় যখন দেশে দুর্যোগ নেমে আসে, যুদ্ধ হয়, তখন সবকিছু সামাল দেয়ার জন্য জরুরি অবস্থা দেওয়া হয়। কিন্তু দেশে দেয়াল নির্মাণের জন্য জরুরি অবস্থা অনেকটা ‘ধান ভানতে শিবের গীতের মতো শোনায়।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প একবার বলেছেন, ২৫ বিলিয়ন থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার লাগবে। ডেমক্রেটরা যখন ড্রিমারদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নেওয়ার পরিবর্তে ২৫ বিলিয়ন ডলার দিতে চাইলে তখন ট্রাম্প ব্যাকআউট করলেন। এখন একবার তিনি বলেন ৫.৬ বিলিয়ন। আরেকবার তার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন ২.৫ বিলিয়ন। আবার তিনি বলেছেন ৫.৬ বিলিয়ন আসলে কত দরকার? ডেমেক্রেটরা পণ করেছেন দেয়ালে ১ ডলারও দেবে না। ট্রাম্প এরমধ্যে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাকশুমার ও হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে বলেছেন, তিনি শাটডাউন হলে নিজেই তার সম্পূর্ণ দায়ভার নিবেন। তার জন্য ডেমক্রেটদের দোষারোপ করবেন না। আবার বলেন, ডেমোক্রেটরা দাবিকৃত অর্থ না দিলে তারাই সাটডাউনের জন্য দায়ী। একবার পৃথকভাবে শাটডাউন বন্ধে বিলে তিনি সই করবেন বলেন। আবার বিল যখন তার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো তখন তিনি সই করলেন না। সিনেট মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল বললেন সবাই সম্মত না হলে আর কোন বিল তিনি সিনেটে পেশ করবেন না। এদিকে স্পিকার পেলোসি বলেছেন, তিনি শাটডাউন বন্ধে বিল পাস করে তা সিনেটে পাঠাবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য দেয়াল নির্মাণের কথা বলছেন। ডেমক্রেটরা বলছেন এই আদেশ অনৈতিক। কিন্তু তার মধ্যে ভিন্ন মতামতের ভেতর ঐক্যের প্রয়াসও চলছে।
ন্যাশনাল ইমারজেন্সি দিয়ে ট্রাম্প জরুরিভিত্তিতে দেয়াল নির্মাণ করতে চায়। ন্যাশনাল ইমারজেন্সি দিলে সেনাবাহিনীকে ডাকা হবে দেয়াল নির্মাণ করতে। কিন্তু সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে পারে। তা কোনোভাবে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নয়। এই পরিমাণ অর্থ নিতে সেনাবাহিনীকে অনেক প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে। আর জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করলেই হবে না। এই ঘোষণা আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। আর তা যদি হয় বিষয়টা ঝুলে যাবে। এখন ৮০০,০০০ ফেডারেল কর্মচারী কাজ করছে বেতন পাচ্ছেন না। আবার অনেকে কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। ডাকলে কাজ করতে পারবে। এমনকি ইমিগ্রেশন জাজরাও ডাকলে কাজ করতে পারবেন ভিত্তিতে কাজ চালাচ্ছেন। ইমিগ্রেশন মামলা এমনিতেই ব্যাকলগে আছে। এখন আরও বেশি ব্যাকলগে পড়বে।
ট্রাম্প এখন বলেছেন, কংক্রীটের দেয়ালের চাইতে ইস্পাতের দেয়াল শক্ত বিধায় তিনি এখন ইস্পাত দিয়ে ফেন্সিং করবেন। কিন্তু তার ৫.৬ বিলিয়ন ডলার কেন লাগবে তার কোনো যথার্থ ব্যাখ্যা নেই। ম্যাককেইন মারা যাওয়ার পর নতুন করে ট্রাম্পের ‘ঢোল বাদক’ লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, তিনি দেয়াল না নিয়ে কোনো সমাধানে গেলে প্রেসিডেন্সি শেষ হয়ে যাবে। বলেছেন, রিপাবলিকান রাজনীতিই শেষ হয়ে যাবে দেয়াল নির্মাণ ছেড়ে দিলে। অথচ ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্টের বিদায়ী চিফ অব স্টাফ জন কেলী বলেছেন, বস্তুত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেক আগেই দেয়ালের দাবি ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও এর বিরুদ্ধে ট্রাম্প কথা বলেছেন তারপরও তিনি বছর কয়েক ‘দেয়াল বা অন্য কথার ফেন্স’ নির্মাণের কথা বলেছেন। ডেমক্রেটরা এর জন্য ট্রাম্পের দাবিকৃত ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে ২.৫ বিলিয়ন ডলার দিতে চায়। ট্রাম্প কিন্তু ৫-২ বিলিয়ন ডলার চান। ইতিপূর্বে ডাকার বাস্তবায়নের জন্য ডেমক্রেটরা ২৫ বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন ডেমক্রেটরদের দরকষাকষির সুযোগ বেড়েছে। কারণ হাউজ এখন তাদের দখলে, পল রায়ান নয়, স্পিকার এখন ন্যান্সি পেলোসি।
সিটিজেনশীপ পরীক্ষা নিয়ে ব্যাখ্যা
সিটিজেনশীপ ও ইমিগ্রেশন সার্ভিস নাগরিকত্ব পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রশ্ন নম্বর ২০: আপনার স্টেটের একজন সিনেটরের নাম বলুন। (এখানে উত্তরে বর্তমান কোনো সিনেটরের নাম বলতে হবে।)
প্রশ্ন নম্বর ২৩ : আপনার এলাকার ইউএস রিপ্রেজেনটেটিভের নাম বলুন। (সেখানে বর্তমান আপনার এলাকার কংগ্রেসম্যানের নাম বলতে হবে)
প্রশ্ন নম্বর ৪৩ : বর্তমান হাউজ স্পিকারের নাম কি?
(উত্তর হবে বর্তমান স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here