সাইলেন্ট এনিমিতে সতর্ক প্রধানমন্ত্রী

গার্মেন্টস সেক্টরে উসকানির হোতারা শনাক্ত

4

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের চেনা শত্রু বিএনপি-জামায়াত রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে গেলেও ফাঁকা মাঠে সাইলেন্ট এনিমি গজাচ্ছে বলে সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে সরকারের শীর্ষমহলে। এই অচেনা শত্রুর তৎপরতা প্রকাশ পেয়েছে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতার অভিষেকের দিনই। সেদিন একদিকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ, আরেকদিকে রাজধানীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের হঠাৎ আন্দোলন। সাইলেন্ট এনিমিকে ন্যূনতম সুযোগ না দিয়ে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত রাজপথ থেকে সারানোর চেষ্টা হয়েছে তাদের। এ ছাড়া মিরপুরে আধিপত্যের লড়াইয়ে ছাত্রলীগের হাতে যুবলীগের কর্মী খুন হন।
দুটি ঘটনাকেই প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াসলি নিয়েছেন। তিনি তা সামলে ফেলার সক্ষমতা-দক্ষতা রাখেন বলে আত্মপ্রত্যয়ী। জানা গেছে, একাধিক সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এর পেছনে কোনো কারসাজি থাকলে দ্রুত শনাক্ত করার। শেখ হাসিনার ক্যারিশমা ও চমকে ভোটের মাঠে চেনা শত্রু নিপাত গেছে। কিন্তু অচেনা বা বিভীষণ তৎপর কি না এ প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।
ঘরে-বাইরে প্রতিপক্ষ দমন-নির্মূলে প্রধানমন্ত্রীর সক্ষমতা ম্যাজিকের মতো। ৭ জানুয়ারির ঘটনার চেয়ে কঠিন অনেক কিছু তিনি সামলেছেন শক্ত হাতে। কিন্তু চতুর্থবারের ক্ষমতার অভিষেকের দিনেই ঘটনা ঘটায় প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ। এর পেছনে শনি বা অমঙ্গলের বার্তা বোধ করছেন তিনিসহ তার হার্ডকোরের সদস্যরা। এরই মধ্যে গার্মেন্টস সেক্টরে বিশৃঙ্খলা তৈরির পেছনে একটি চক্রের বিষয়ে কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে সরকার। এদের সঙ্গে মন্ত্রিত্ববঞ্চিত বা ক্ষুব্ধ কারও সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়ার পর চরম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার।
রাজনৈতিক বিরোধী শক্তি লুপ্ত হলে রাষ্ট্রে নানা রকম ভয়ংকর পক্ষ তৈরির তত্ত্বকথা থেকেই তাদের এমন শঙ্কা ও সন্দেহ। সামনে বিভিন্ন পেশাজীবী বা অরাজনৈতিক অন্য কোনো শক্তি সাইলেন্ট এনিমি হিসেবে গজায় কি না, তা এখনই ভাবতে হচ্ছে। তেমন কিছুর অস্তিত্ব পেলে দেরি করার জো নেই। এখনই তা নির্মূলের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলা হয়েছে। ২০১৪-এর চেয়ে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আন্দোলন দূরে থাক, কোনো ইস্যুতে সামান্যতম প্রতিবাদের শক্তিও নেই বিএনপির। এ রকম পরিবেশ দৃশ্যত স্বস্তির হলেও বাস্তবে যেন অনিশ্চিত না হয়-এ ব্যাপারে সতর্ক প্রধানমন্ত্রী।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন শেখ হাসিনার সক্ষমতার অন্য উচ্চতা দিয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা অসম্ভব-এ ধারণা আরো বদ্ধমূল হয়েছে। কিন্তু সাইলেন্ট এনিমির কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। এবার আওয়ামী লীগের অনেক বাঘা নেতা মন্ত্রিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনিবার্য কারণে তাদের দিকেও লক্ষ রাখতে হচ্ছে। দলে অনুপ্রবেশকারীদেরও সন্দেহমুক্ত রাখা যাচ্ছে না।
পরাজিত শত্রু ছাড়াও বঞ্চিত, হতাশদের ওপর দুর্বৃত্ত শ্রেণির ভর করার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ যেকোনো পেশাজীবীদের ওপরই ভর করে উসকে দিতে পারে তারা। সেই শঙ্কা থেকেই অল্প সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফেরানো হয়েছে পোশাকশ্রমিকদের। দায়িত্ব নেওয়ার দিনই কঠিন কাজে হাত দিতে হয় শিল্পমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে। নেপথ্য থেকে সব বাতলে দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোসহ কিছু ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাজপথ গরম করার একটি ছকের প্রাথমিক তথ্যও পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের প্রথম দিনেই ক্যাডার সার্ভিসের সমতা বিধান ও সরকারি চাকরিতে বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদারকিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here